মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ আগস্ট ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

৮ম পে স্কেল বাস্তবায়নে বাজেটে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • সরকার মনে করছে ২৪ হাজার কোটি টাকা সরকারী চাকুরেদের জন্য ব্যয় হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়বে

এম শাহজাহান ॥ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে দেশের উন্নয়ন বাজেটে কোন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং দুই ধাপে বেতন-ভাতা বাবদ ২৪ হাজার কোটি টাকা সরকারী চাকরিজীবীদের পকেটে গেলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছে সরকার। মাথাপিছু আয় বাড়লে বৃদ্ধি পাবে ক্রয়ক্ষমতা, আর ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দ্রব্যের প্রতি মানুষের চাহিদা বাড়বে। চাহিদা পূরণে নতুন নতুন বিনিয়োগ নিয়ে আসবেন শিল্পোদ্যোক্তারা। এতে বাড়বে কর্মসংস্থান, কমবে দারিদ্র্য। ২১ লাখ সরকারী কর্মকর্তার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়াতে আগামী বাজেটে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ বাড়ানোরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে ঘাটতি দেখা দিলেও এখন তা ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। সরকারী চাকুরেদের বেতন বাড়লেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত কমছে। কিন্তু দেশে তেলের দাম না কমানোর ফলে আমদানি ব্যয় কমছে। এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ টাকার মুনাফা আসছে সরকারী কোষাগারে। রেমিটেন্স ও রফতানি প্রবাহ ইতিবাচক। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও শক্তিশালী অবস্থানে বাংলাদেশ। স্থিতিশীল আছে মুদ্রার বিনিময় হার। কমছে ব্যাংক ঋণের সুদহার। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকায় দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তারা বিনিয়োগমুখী হচ্ছেন। এই বাস্তবতায় দেশের অর্থনীতিতে সুবাতাস বইছে। তাই সরকারী চাকুরেদের বেতন বাবদ চলতি বাজেটে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও উন্নয়ন বাজেটে কোন টান পড়বে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজেট বাস্তবায়ন ও অর্থসংস্থানকারী সরকারী সংস্থাগুলোও এ নিয়ে চিন্তিত নয়।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, পে স্কেল বাস্তবায়নে উন্নয়ন বাজেটের ওপর কোন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। চলতি বাজেটেই এ খাতে বেতন-ভাতা বাবদ অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই ধাপে পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে সরকার। এতে প্রথম ধাপে ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হলেও দ্বিতীয় ধাপে ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। তবে ইতোমধ্যে সরকারের আয় বাড়ানোর কৌশল নেয়া হয়েছে। প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়ছে।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা সৃষ্টিতে এখন সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। এজন্য মাথাপিছু আয় বাড়াতে হবে। সরকারী চাকুরেদের বেতন-ভাতা বাড়ায় তাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। এখন তাদের বাড়তি পণ্যের প্রয়োজন হবে। আর এই চাহিদা সামনে রেখে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং একই সঙ্গে দারিদ্র্যও দূর হবে। অর্থসচিব বলেন, মধ্য আয়ের প্রতিটি দেশেই অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরিতে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকে। আমরাও এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছি। আগামী বাজেটে এ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা থাকবে। সরকারী চাকুরেদের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে মাথাপিছু আয় বাড়ানোর সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতেই হবে।

এদিকে, চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার ১শ’ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা এবং এডিপি বরাদ্দ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় বরাদ্দ আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবছরই এ খাতে ব্যয় বাড়ছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য ব্যয় হিসাবে নিলে এই বরাদ্দের মোট আকার দাঁড়ায় ১ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। যদিও বাজেটের দুটি অংশের একটি অন্যতম অংশ হচ্ছে উন্নয়ন বাজেট। এ খাতে এবার উন্নয়ন ব্যয়ের আকার দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা টাকা। অপরটি অনুন্নয়ন রাজস্ব বাজেট। উন্নয়ন বাজেটে উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের দেয়া বরাদ্দের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর অনুন্নয়ন বাজেটে মূলত সরকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা খরচের হিসাব থাকে। অনুন্নয়ন বাজেটের প্রধান অংশটি ব্যয় হয় সরকারী চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতাদি বাবদ। এ খাতের আরেকটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে সুদ পরিশোধ খাতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং অর্থপ্রবাহ বাড়ে। তাই উন্নয়ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, যে উপায়েই বাস্তবায়ন করা হোক না কেন, বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রাজস্ব আদায়ে বাড়তি চাপ থাকবেই। এর মূল ভার নিতে হবে রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী বাজেটে আয়করের আওতা বাড়ানোর টার্গেট রয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী বাড়ি ও গাড়ির মালিকদের আয়করের আওতায় আনা হতে পারে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীও বলেছেন, যাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে তাদের উপর ট্যাক্স বসানো হবে। এর ফলে করের আওতার বাইরে থাকা অনেকেই করজালে ঢুকবেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেকেই করের আওতায় আসবেন। অন্যদিকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমেও ভ্যাট আদায় বাড়াতে চায় এনবিআর। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম মনে করেন, মূল বেতন বাস্তবায়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। তবে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের একটা রাজস্ব বরাদ্দ থাকে।

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৬/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: