২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

সোয়া ২ ঘণ্টা পর উদ্ধার সিদ্ধিরগঞ্জে ১৩৩ ফুট উঁচু বিদ্যুত টাওয়ারে ফের নারী


মোঃ খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ॥ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ‘টাওয়ার কন্যা তমা’র পর এবার পারুল আক্তার (২২) নামে আরেক নারী ১৩৩ ফুট উঁচু টাওয়ারে উঠে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এক সন্তানের জননী পারুল আক্তার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ের ব্যস্ততম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শুক্রবার বেলা ৩টায় ১৩৩ ফুট উঁচু বৈদ্যুতিক টাওয়ারে উঠে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে বাধ্য হয়। টাওয়ারে ওঠার ঘটনাটি বিদ্যুতসহ সকল মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকার ডেমরা ও সদর দফতরের ২টি ইউনিটের ১০ কর্মী সোয়া ২ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের টার্ন টেবল লেডার (টিটিএল) দিয়ে পারুলকে টাওয়ার থেকে অচেতন অবস্থায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। এ সময় উৎসুক জনতার মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পারুলকে উদ্ধারের সময় সিদ্ধিরগঞ্জ-মানিকনগর ২ লাখ ৩০ হাজার (২৩০ কেভি) ভোল্টের সঞ্চালনের লাইনের পূর্বপাশটি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। উৎসুক জনতার অভিযোগ, বৈদ্যুতি টাওয়ারের নিরাপত্তা বেষ্টনি না থাকায় দ্বিতীয়বারের মতো কোন নারী আবারও টাওয়ারে উঠে জীবনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে বাধ্য হয়েছে।

প্রতক্ষ্যদর্শী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানায়, পারুল আক্তার নামে এক নারী শুক্রবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ-মানিকনগর ২ লাখ ৩০ হাজার (২৩০ কেভি) ভোল্টের সঞ্চালন লাইনের সিদ্ধিরগঞ্জে শিমরাইলের ৮নং টাওয়ারের (রেন্ট-এ-কার স্ট্যান্ড সংলগ্ন) আশপাশে ঘুরতে থাকে। সুযোগ বুঝে পারুল বেলা ৩টার দিকে ১৩৩ ফুট উঁচু টাওয়ারে উঠে পড়ে হাঁটাহাঁটি করতে থাকে। স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি দেখতে পেয়ে হতভম্ব হয়ে পড়ে। স্থানীয় জনতা প্রাথমিকভাবে পারুলকে নামাতে চেষ্টা করলে সে আরও দ্রুত টাওয়ারের ওপর উঠতে থাকে। এতে আরও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুরু হয় হৈ চৈ। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। আশপাশ থেকে হাজার হাজার উৎসুক জনতা বৈদ্যুতিক টাওয়ারের আশপাশে ভিড় করতে থাকে। ওই নারীর জন্য অনেককেই দোয়া করতেও দেখা যায়। টাওয়ারে ওঠার ঘটনাটি অনেককেই মোবাইলে ভিডিও করতে দেখা যায়। টাওয়ারে ওঠার খবর পেয়ে প্রথম ছুটে আসে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার টহল পুলিশ। টহল পুলিশের এসআই শামীম হোসেন জানান, বিকেলে পৌনে ৪টায় এসে দেখি এক নারী বৈদ্যুতিক টাওয়ারে উঠে হাঁটাহাঁটি করছে। প্রথমে আমি স্থানীয় বিদ্যুত অফিসে ঘটনাটি অবহিত করি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। ফায়ার সার্ভিসের ডেমরা স্টেশনের কর্মকর্তা সোহেলের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে একটি ইউনিট ছুটে আসে। খবর দেয়া হয় ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরকে। এরমধ্যে পিজিসিবির সিদ্ধিরগঞ্জ অফিসের বিদ্যুতের কর্মী হায়দার, বারেক ও আতাউর টাওয়ারে উঠে পড়া ওই নারীকে প্রথমে বেল্ট দিয়ে আটকানোর জন্য নানা কৌশলে অবলম্বন করে। এক পর্যায়ে পারুলের কোমরে বেল্ট দিয়ে তাকে কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত করে। বিকেল ৫-৩৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতর থেকে টার্ন টেবল লেডার (টিটিএল) নিয়ে একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এরপর শুরু হয় পারুলকে টাওয়ার থেকে নামানোর নানা কৌশল। এ সময় টাওয়ারের নিচে হাজার হাজার জনতা ওই নারীকে নিচে নামানোর অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে। সদর দফতর স্টেশনের অফিসার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা ৬-১২ মিনিটের সময় পারুলকে অচেতন অবস্থায় মাটিতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। দ্রুত পারুলকে শিমরাইলের সুগন্ধা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সুগন্ধা হাসপাতালের ডাক্তার নিলুফা ইয়াসমিন জানায়, টাওয়ারে ওঠা ওই নারীর মানসিক সমস্যা রয়েছে। এখন সে সুস্থ।

পারুলের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর পুঁটিয়া থানার কুটিয়ারপাড়ার বানের ছড়ায়। তার স্বামী ইয়াদ উল্লাহ সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো রোডে একটি গার্মেন্টসের শ্রমিক। পারুলের শাশুড়ি সাজেদা বেগম জানায়, পারুলের মাথায় সমস্যা রয়েছে। দেড় মাস আগে তার ছেলে ইয়াদ উল্লাহ তার স্ত্রী পারুল, তার একমাত্র পুত্র আজিজুল (৩) ও আমাকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুরের আব্দুর রব মিয়ার বাড়িতে আসে। পারুলের মাথায় সমস্যার কারণে বাড়িওয়ালা তার বাড়ি থেকে তাদের বের করে দেন। এরপর পুরো পরিবার রাজশাহী যাওয়ার জন্য শুক্রবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে আসার পথে পারুল একটি পুকুরে নেমে পড়ে। সেখান থেকে তার স্বামী ও শাশুড়ি তাকে বুঝিয়েশুনিয়ে পানি থেকে তুলে আনেন। পরে তাকে শিমরাইল মোড়ে নিয়ে আসা হয়। এক পর্যায়ে পারুল উঁচু টাওয়ার উঠে পড়ে। এ ঘটনায় তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। ঘটনার আকস্মিকতায় তার ছেলে ইয়াদ উল্লা পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল আয়েশা আক্তার তমা নামে এক তরুণী সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী নাভা-ভুঁইয়া এলাকার আরেকটি সঞ্চালন লাইনের ১২০ ফুট উঁচু বৈদ্যুতিক টাওয়ারে উঠে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাকেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা টিটিএল দিয়ে ছয় ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির পর নামিয়ে আনতে সক্ষম হন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: