২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আলেপ্পো হারাচ্ছে সিরীয় বিদ্রোহীরা


সিরীয় বিদ্রোহীরা দেশের উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরে ও এর আশপাশে টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যতিব্যস্ত রয়েছে। এর আগে রুশ বিমানবাহিনীর তীব্র হামলার ফলে সরকারের অনুগত সৈন্যরা বিদ্রোহীদের এক গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন করে দিতে সমর্থ হয়। সংঘর্ষের হাত থেকে রেহাই পেতে শরণার্থীদের নতুন নতুন দল তুরস্ক সংলগ্ন সীমান্তের দিকে পালাতে থাকে। এদিকে, সৌদি আরব বলেছে, যদি মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সিরিয়াতে কোন স্থল অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে সৌদিরা এতে যোগ দিতে প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ্যাশ কার্টার সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে ঐ জোটকে যে কোন স্থল অভিযানে সৈন্য দিয়ে সহায়তা করার সৌদি প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্য দিকে তুরস্ক সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে রাশিয়া সন্দেহ ব্যক্ত করেছে। আর তুরস্ক মস্কোকে সিরিয়ায় এর নিজের অপরাধ থেকে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে পরিচালিত করার চেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইয়াহু নিউজের।

জেনেভায় বুধবার সিরীয় শান্তি আলোচনা ভেঙ্গে পড়ার সময় আলেপ্পোতে বিদ্রোহী অবস্থানগুলোর ওপর রুশ সমর্থিত আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এতে সরকার বিরোধী পক্ষের এ সন্দেহই ঘনীভূত হয়েছে যে, রাশিয়া ও এর সিরীয় সরকারী মিত্ররা আলোচনার মাধ্যমে কোন মীমাংসায় পৌঁছানোর চেয়ে কোন সামরিক বিজয় পেতেই বেশি উৎসাহী। দু’দিন ধরে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের ভাষায়, এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র বোমাবর্ষণের পর সরকারী বাহিনী তুর্কি সীমান্ত থেকে আলেপ্পো শহরের বিরোধী বাহিনী-নিয়ন্ত্রিত অংশের সঙ্গে সংযুক্ত বিদ্রোহীদের প্রধান সরবরাহ পথটি বিচ্ছিন্ন করে দিতে সফল হয়। বৃহস্পতিবার সরকার আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রাম অধিকার করে। এতে শহরটি শীঘ্রই সম্পূর্ণভাবেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে বলে বাসিন্দা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ হতে সিরিয়ার সবচেয়ে বড় শহর ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র আলেপ্পোর অন্তত আংশিক পতনও সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে পাঁচ বছর ধরে চলমান বিদ্রোহের প্রতি সম্ভবত এক চূড়ান্ত আঘাতই হবে। বিদ্রোহীরা ২০১২ সালে আলেপ্পোতে প্রবেশ করার পর এর অনেকাংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এতে তারা শেষ পর্যন্ত দামেস্ক সরকারকে উৎখাত করবে বলে মার্কিন গোয়েন্দারা মূল্যায়ন করেন। ত্রাণ সংস্থা মার্চি কোরের ডিরেক্টর রে ম্যাকগ্রথ বলেন, বিরোধী বাহিনী মিনিটে মিনিটে ভূখ- হারাচ্ছে। আমরা মানবিক পরিস্থিতির এক চরম বিপর্যয় দেখতে পাচ্ছি। সরকারের হাতে আলেপ্পোর পতন বিদ্রোহীদের অনড় সমর্থক তুরস্ক ও সৌদি আরবের জন্য এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জই হবে। কিন্তু এ দুটি দেশ এ পতন ঠেকাতে কি করতে পারবে তা স্পষ্ট নয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব কোয়ালিশন ইন ইয়েমেনের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ আসারি বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইএস বিরোধী জোট সিরিয়ায় যে কোন স্থল অভিযান শুরু করতে সম্মত হলে সৌদি আরব এতে যোগ দিতে তৈরি আছে। তার দেশ ২০১৪ সাল থেকেই ঐ জোটের সক্রিয় সদস্য।

তিনি বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে জয়ী হতে হলে জোটকে বিমান অভিযানের পাশাপাশি স্থল অভিযানও চালাতে হবে বলে তিনি মনে করেন। সৌদি প্রস্তাব প্রসঙ্গে এ্যাশ কার্টার বলেন, অন্যান্য দেশও তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করলে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই ত্বরান্বিত করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহজতর হবে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা সিরীয় ভূখ-ে সক্রিয় তৎপরতা চালানোর জন্য তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর গোপনে প্রস্তুতি নেয়ার ক্রমবর্ধমান আভাস পেয়েছেন। সিরীয় ভূখ-ে তুরস্কের যে কোন অনুপ্রবেশ রাশিয়া ও ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলুর দফতরের এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, রুশরা এরই মধ্যে সিরিয়া আক্রমণ করার পর বেসামরিক লোকজনের ওপর তাদের হামলার ঘটনা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে পরিচালিত করছে মাত্র। তুরস্কের নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষায় যে কোন ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার রয়েছে। পশ্চিম দিক থেকে আলেপ্পোকে পুরোপুরি ঘিরে ফেলার তৎপরতা শীঘ্রই শুরু হবে বলে সিরীয় সেনা সূত্রে জানা যায়।