১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বিএনপির নতুন গোয়েবলসীয় মিথ্যাচার


ক. ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি।’ খ. ‘আওয়ামী লীগ নেতারা কলকাতা-দিল্লী বসে সময় কাটিয়েছেন।’ গ. ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।’ ঘ. ‘আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সংগঠন।’ ঙ. ‘আওয়ামী লীগ আবার বাকশাল কায়েম করতে চায়।’ চ. ‘আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসনে বিশ্বাস করে।’ ছ. ‘আওয়ামী লীগ কর্তৃত্ববাদে বিশ্বাস করে।’ জ. ‘আওয়ামী লীগ কোন উন্নয়ন করেনি।’ ঝ. ‘পদ্মা সেতু স্বপ্নই থেকে যাবে।’

চমকে দেবার মতো কথা- কি বলে? না, পাঠক এ আমার কথা নয়। যারা টেলিভিশনের সামনে বসেন বা খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলন কাভার করেন, আমারই মতো সবাই জানেন কথাগুলো বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা ও তার ভার-আক্রান্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা রুহুল কবির রিজভীর। মাঝে-মধ্যে ৩ নম্বরের মতো মিনমিন করেন দুদু। হালে যোগ দিয়েছেন গয়েশ্বর রায় এবং নিতাই বাবু (রায়-বাবুদের কথা আলাদা। বিএনপিতে যখন নাম লিখিয়েছেন তখন একটু পেঁয়াজ তো খাবেনই, সব সময় না হলেও, যখন একটু গো-প্রজাতি সুরা ভক্ষণ করেন, তখন)।

খালেদা জিয়ার কথা আলাদা। তিনি যখন ওই সব কথা বলেন মানুষ কি-না হেসে থাকতে পারে? তিনবারের প্রধানমন্ত্রী (যদিও একবার মাত্র কয়েকদিনের এবং আওয়ামী লীগের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত)। তিনি যখন ওই কথাগুলো বলেন তখন বুঝতে বাকি থাকে না রাজনীতির কোন অন্ধকার বিবরে তিনি বসবাস করছেন। চারপাশে ‘শ্বাপদের’ দল কিলবিল করছে আর তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে বাঁচতে চাইছেন। নইলে পাগল ছাড়া এমন মিথ্যাচার কি কেউ করে? তিনি মনে করেন হিটলারের প্রোপাগা-া উপদেষ্টা গোয়েবলসের থিওরি এপ্লাই করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটবেন। অর্থাৎ একটি মিথ্যা বারবার বললে তা সত্য হয়ে যাবে। খালেদা জিয়া জানেন কি-না জানি না, হিটলার মরে গেছে অনেক আগে। তার অস্তিত্ব এখন আর নেই। এখন একটা মিথ্যা বারবার বললে সত্য হওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি শতবার বললেও না। এখন মোবাইল-কম্পিউটার-ইন্টারনেটের যুগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নাতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল নামের এমন এক যুগে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন যেখানে কোন কিছু লুকাবার যেমন উপায় নেই, তেমনি মিথ্যে বলে পার পাওয়ারও উপায় নেই। গুগল মিয়া ইউনিটব মিয়ারা সব ধারণ করেন এবং সংরক্ষণ করে রাখেন। যখন তখন তা বের করে আনতে পারেন। মোবাইল তো এক অবাক করা ব্যাপার। অবশ্য স্বশিক্ষিত কারও পক্ষে এসব জানার কথা নয়।

খালেদা জিয়ার প্রব্লেম হলো সব জায়গায় ব্যর্থ হয়ে এখন একটি সেøাগান আবিষ্কার করেছেন। কয়েকদিন আগে টিভিতে দেখলাম মির্জা ফখরুল বলছেন, আওয়ামী লীগ নাকি ‘কর্তৃত্ববাদ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এখন ‘কম গণতন্ত্র বেশি উন্নয়ন’ এই নীতি অবলম্বন করেছে (?)

কিন্তু কোথায় কবে কখন আওয়ামী লীগের কোন নেতা এই কথাটি বলেছেন কেউ কি শুনেছে? কিংবা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের কোন্ সভায় এমন কোন প্রস্তাব উত্থাপন হয়েছে বা পাস হয়েছে এমন কথা আওয়ামী লীগের কোন নেতা বলতে পারবেন না। চিন্তাও করেনি দলটি। বস্তুত মহাবীর মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে প্লেনের মতো টেক-আপ করেছে তার বিরুদ্ধে তো বলা যাবে না, জনগণ পেঁদাবে। তাই এখন প্রচার করছে আওয়ামী লীগ নাকি ‘কম গণতন্ত্র বেশি উন্নয়ন’ নীতি অবলম্বন করেছে। এটি পরে আলোচনা করব। তার আগে লেখার শুরুতে আওয়ামী লীগ বিরোধী যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু আলোচনা দরকার।

প্রথমেই প্রশ্ন করব আওয়ামী লীগের কোন্ নেতা কখন বলেছেন ‘বেশি উন্নয়ন কম গণতন্ত্র’-এর কথা? কিংবা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ বা সম্পাদকম-লী বা সভাপতিম-লীর কোন্ সভায় এ ধরনের নীতির কথা বলা হয়েছে বা কোন্ পর্যায়ে রেজুলেশন নিয়েছে তা খালেদা জিয়া ও তার ভারাক্রান্ত সেক্রেটারি জেনারেলকে জনসমক্ষে বলতে হবে। নয়ত এটি চরম মিথ্যাচার হিসেবে গণ্য হবে। খালেদা জিয়া হবেন মিথ্যের নেত্রী, যা তার জন্য সুখবর হবে না।

১. ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি।’ তবে কে মুক্তিযুদ্ধ করেছে? বেগম খালেদা জিয়ার মিলিটারি স্বামী জিয়াউর রহমানও বাধ্য হয়েই ভারত গিয়েছিলেন। তিনি পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাননি। এমনকি মুক্তিযুদ্ধে অনেক মিলিটারি-অমিলিটারি কমান্ডারের অনেক বীরত্বগাথা আছে, যা অসংখ্য গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ওপর এ পর্যন্ত যে সব গ্রন্থ রচিত হয়েছে কোথাও কি জিয়াউর রহমানের কোন যুদ্ধের বীরত্বগাথা দেখেছেন কেউ? দেখবেন না। কারণ তিনি কোন যুদ্ধে অংশ নেননি।

তবে মুক্তিযুদ্ধ করল কে? এর সোজাসাপটা উত্তর হলো মুক্তিযুদ্ধ করেছে বাঙালী ছাত্র-জনতা-শ্রমজীবী মানুষ, মিলিটারি, পুলিশ, ইপিআর, আনসার। সবই করেছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা (২৬ মার্চ), নেতৃত্বে ও নির্দেশে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে (পাকিস্তানী মিলিটারি জান্তা তাঁকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিক্ষেপ করে) যুদ্ধ পরিচালনাসহ সরকার পরিচালনা করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি), তাজউদ্দীন আহমেদের (প্রধানমন্ত্রী) নেতৃত্বাধীন মুজিবনগর বিপ্লবী সরকার। সেদিন খালেদা জিয়া বা এখনকার ড্রামবিটাররা কে কোথায় ছিলেন? একজনকে জানি তিনি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মুজিবনগর সরকারে ছিলেন। বিএনপিতে আছেন তিন নম্বরের মতো। মির্জা ফখরুলও শুনেছি বিতর্কিত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন। তার বাবা চখা মিয়া নাকি একাত্তরের রাজাকার ছিলেন।

২. ‘আওয়ামী লীগ নেতারা কলকাতা-দিল্লী আয়েসে কাটালে’ মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীগণ কি বিএনপির ছিলেন? সবই তো আওয়ামী লীগেরই নেতা।

৩. আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করলে দলীয় গঠনতন্ত্রে গণতন্ত্রের কথা আছে কেন? সংবিধানেইবা কেন গণতন্ত্র, মৌলিক-মানবাধিকারের কথা রয়েছে? কেনইবা পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়, উপজেলা নির্বাচন হয়, পৌরসভা নির্বাচন হয়, ইউপি নির্বাচন হয়, হচ্ছে। কেনইবা জাতীয় প্রেসক্লাব নির্বাচন হয়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বার কাউন্সিল, বার এ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন হয়- এসবের কি জবাব দেবেন খালেদা বা মির্জা ফখরুল?

৪. ‘আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট’। ফ্যাসিস্টের সংজ্ঞা কি আমি জানি না। তবে আমি রাক্ষুসী দেখেছি। মানুষ পুড়িয়ে খেয়ে ফেলে তাকে রাক্ষুসী ছাড়া কি বলা যাবে। যারা ‘ফ্যাসিস্ট’ শব্দ উচ্চারণ করেন তারা হিটলার-মুসোলিনীকে সম্ভবত জানেন। লেখাপড়াতো আন্ডার-ম্যাট্রিক-গ্র্যাজুয়েট। এই লেবেলে ফ্যাসিজমের মতো সিরিয়াস কিছু পড়ানো হয়নি শুনিনি। আজও তাই।

৫. ‘আওয়ামী লীগ আবার বাকশাল কায়েম করতে চায়।’ এটা হলে তো বেগম জিয়ার জন্য সুখবর। তখন জয়েন করেছিলেন জিয়াউর রহমান, ওয়ারিশ সূত্রে এবার খালেদা জিয়া বাকশালের সদস্য হতে পারবেন (?)

৬. ‘আওয়ামী লীগ’ একদলীয় শাসন চাইলে খালেদার বিএনপি কি তবে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন?

৭. ‘কর্তৃত্ববাদ’-এর কথা উঠলে বলতে হয় এর সংজ্ঞা কি? বলবেন?

৮. আওয়ামী লীগ কোন উন্নয়ন করেনি? তবে কে করল উন্নয়ন, যা রাজধানী ঢাকা, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, হচ্ছে, কে করেছে এগুলো। পদ্মা সেতু, ছিটমহল, সমুদ্রসীমা, ৪ কোটি মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন, ১৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন, সহনশীল পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের মাথাপিছু আয় ১৪০০ মার্কিন ডলার, বঙ্গবন্ধু পারমাণবিক কেন্দ্র (ক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট), হাত-পা ছড়ালে ফ্লাইওভার, বছরের প্রথম দিন বিনামূল্য ৩২ কোটি বই প্রদান, ফিরিস্তি অনেক লম্বা। প্রশ্ন হলো, এসব কি আপনি করেছেন বেগম খালেদা?

৯. ‘পদ্মা সেতু স্বপ্নই থেকে যাবে।’ নিজের তো মুরদ নেই, অন্য কেউ করলেও যার সহ্য হয় না তিনি খালেদা জিয়া। ফেসবুকে এক টিনএজ তরুণীকে কালো গগলস, শিপন শাড়ি, দালানের হোয়াইট ওয়াশের মতো মে-কাপ, পাশে খালেদা জিয়ার ছবি, ভাবখানা এমন মেয়েটি একদিন খালেদা জিয়া হবে। অপর একজন শেয়ার দিয়েছেন, এসব মে-কাপ টে-কাপ বাদ দিন, খালেদা জিয়া বানানোর চেয়ে লেখাপড়া শিখিয়ে সত্যিকার জননেত্রী বানান।

বস্তুত, খালেদা জিয়া এমন এক সময় কথাগুলো বলেছেন যখন পাকিস্তানসহ কয়েকটি স্বৈরাচারী দেশ আইএস, আল কায়েদার মতো টেরোরিস্ট অর্গানাইজেশনের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে বাংলাদেশের দিকে। জঙ্গীরা এখানে ঘাঁটি গেড়ে অস্ত্র, মাদকদ্রব্য চোরাচালান করবে এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী করবে। কেননা আজকের তরুণ প্রজন্ম শিক্ষিত এবং তারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পক্ষে আপোসহীন (খালেদার মতো না বুঝে আপোসহীন নয়)।

দ্বিতীয়ত, সমসাময়িককালের সবচেয়ে দক্ষ, সাহসী, দূরদর্শী রাষ্ট্রনেতা চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিকভাবে প্লেনের মতো টেক-আপ করছে, খালেদার তো ঈর্ষান্বিত হওয়ারই কথা।

খালেদা জিয়া না বুঝুন মওদুদরা ঠিকই বুঝেন, যে হারে উন্নয়ন হচ্ছে তাতে করে তারা মাঠে নামবেন কি করে (?), জবাবইবা কি দেবেন? শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আজকের বাংলাদেশের তুলনা হতে পারে কেবল সপ্তদশ এবং অষ্টদশ শতকের প্রথমার্ধের মতো। তখনও বাংলাদেশ অর্থেবিত্তে সমৃদ্ধ ছিল।

মুঘল সাম্রাজ্যের নিভু নিভু কালের সম্রাট আওরঙ্গজেব বাংলাদেশকে ‘ভারত-স্বর্গ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এর পেছনে কারণ ছিল। আওরঙ্গজেব তার শাসনামলের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন দাক্ষিণাতে যুদ্ধ করে এবং যুদ্ধ করতে করতে যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত এবং আর্থিকভাবে পর্যুদস্ত তখনও একমাত্র সুবে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যে কর প্রদান অব্যাহত রাখে। ঐতিহাসিকদের মতে সপ্তদশ শতক থেকে অষ্টদশ শতকের প্রথমার্ধ বাংলাদেশ ছিল অর্থনৈতিকভাবে অন্যতম সমৃদ্ধ ও উন্নত সুবে বাংলা। ঐতিহাসিক প্রফেসর ড. সুশীল চৌধুরীর মতে সে সময় বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশের কৃষিজ পণ্য, কুটির শিল্প এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মুঘল সাম্রাজ্যের নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ ছিল সুবে বাংলা-ভূ-স্বর্গ। কাশিমবাজার কুঠির প্রধান জাঁ-ল (ঔবধহ খধ)ি লিখেছেন ওটাই বাংলার যথার্থ অভিজ্ঞান।

কিন্তু বাংলাদেশের এই সমৃদ্ধি তাবৎ বিশ্বের লুটেরাদের শ্যেনদৃষ্টিতে পড়ে এবং এখান থেকে ধনসম্পদ লুট করার জন্য এসে আর ফেরত যেতে চাইত না। ব্রিটিশ বেনিয়াদের আগমন এবং এখানে বসে ষড়যন্ত্র ও রাজধানী মুরশিদাবাদের পতনও এভাবেই হয়। ষোলো শ’ ষাটের দশকে ফরাসী পর্যটক বার্নিয়ে (ইবৎহরবৎ) যথার্থই বলেছেনÑ ‘....ঃযধঃ ঃযব শরহমফড়স ড়ভ ইবহমধষ যধং ধ যঁহফৎবফ মধঃবং ড়ঢ়বহ ভড়ৎ বহঃৎধহপব, নঁঃ হড়ঃ ধ ংরহমষব ড়হব ভড়ৎ ফবঢ়ধৎঃঁৎব.’

আজ আবার ভিনদেশী শকুনদের ডেকে এনে ষড়যন্ত্রের জাল বোনার অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের সহযোগিতা করছে এ দেশেরই কিছু পাতিকাক। তখন ছিল পাইরেটস, বিদেশী বেনিয়া, আজ ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাসের সুযোগে শকুনেরা নখ বসাতে চাইছে। ওদের আমরা চিনি। একাত্তরে নাম ছিল রাজাকার-আলবদর-আলশামস, জামায়াত-মুসলিম লীগ; আজ তাদের নাম জঙ্গী, আইএস, আল কায়েদা, হিযবুল মুজাহিদীন, হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ প্রভৃতি।

তাদের সঙ্গে সুর মেলাতে দেখা যায় কিছু বুদ্ধিজীবী-সাংবাদিককে। এরা আনুগোত্রীয় বুদ্ধিজীবী। এদের মুখোশ উন্মোচন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২-এর ১৬ জুলাই ডিইউজের স্বাধীনতা-উত্তর প্রথম দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় বঙ্গবন্ধু প্রধান অতিথি হিসেবে যে বক্তৃতা দেন তার কিছু অংশ হলো : ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকবে। আমাদের গণতন্ত্র চাই কিন্তু উচ্ছৃঙ্খলতা চাই না। কারও বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি করতে চাই না।’ অথচ কোন কোন কাগজে লেখা হয়েছে ‘মুসলমানকে রক্ষা করার জন্য সংঘবদ্ধ হও’। যে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আমার দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, এখানে বসে কেউ যদি সেই বীজ বপন করতে চান, তাহলে কি আপনারা সহ্য করবেন? আপনারা শিক্ষিত, আপনারা লেখক, আপনারা ভাল মানুষ, আপনারাই বলুন কোন্টা ভাল আর কোন্টা মন্দ। বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার পর ৪৪ বছর পার হয়ে গেছে। এখন শিক্ষিতের সংজ্ঞা কি? ভাল মানুষের চেহারাইবা কেমন? জবাব খুঁজতে হলে বন্ধুর কাছে যেতে হবে। আর তাই বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য আজও প্রাসঙ্গিক।

ঢাকা ॥ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব