মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

চাপা ক্ষোভ, অভিমান গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের তিন বছর

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

এমদাদুল হক তুহিন ॥ শাহবাগ আন্দোলনের তিন বছর পূর্তিতে প্রকাশ্যে এসছে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশেরই চাপা ক্ষোভ আর অভিমান! শুধু তাই নয়, প্রশ্ন উঠেছে ‘কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে?’ প্রশ্নটি আর কারও নয়, এক সময়কার আন্দোলনের অন্যতম কর্মী ও ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসুর। সময়ের ঘূর্ণিতে তিন বছর পূর্তির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এমন প্রশ্ন রেখে তিনি দ্বিতীয় আর কোন উত্তর করেননি! যেন এও এক বিস্ময়! শুধু বাপ্পা নন, দেশের কালিমা মুক্তির তাগিদে তরুণ প্রজন্মের হাতে গড়ে ওঠা ওই আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা একাধিক কর্মী ও সমর্থকদের আচরণেও একই অভিমানী কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হয়।

অস্বীকার করতে চাইলেও ইতিহাস স্বমহিমায় চির অম্লান। শাহবাগ আন্দোলন কিংবা গণজাগরণ মঞ্চের এ আন্দোলনের ছিল সোনালী অতীত আর ইতিহাস। বহু আগেই ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়েছে আন্দোলনের স্বর্ণালী ক্ষণ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কোটি মানুষ সেদিন অপেক্ষায় ছিল একটি রায়ের। মোটা দাগের মানুষের আশা আকাক্সক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয় রায়টি। মুহূর্তেই বিক্ষোভে উত্তাল, বোয়ানের আহ্বানে ক্ষোভে ফেটে পড়া মানুষ নেমে আসে রাস্তায়। শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অল্প মানুষের সমাগম মুহূর্তেই রং ছড়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।

’১৩ পরবর্তী সময়ে ৪ জন যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে হতাশ হয়েছিলেন দেশের প্রতিটি মানুষ। সেদিন কারও বিশ্বাসই হয়নি বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকেও ঝুলতে হবে একই পথে। ঝুলেছে আরও অনেকেই, তরুণ প্রজন্ম বিশ্বাস করে- ‘দ্বিতীয় কোন যুদ্ধাপরাধী বেঁচে থাকবে না, যার নিঃশ্বাসে বাংলার বাতাস দূষিত হয়!’ হয়েছেও তাই। আন্তর্জাতিক মানদ- বজায় রেখে রায় হচ্ছে, বহু রথী-মহারথীকে টেক্কা দিয়ে কার্যকর হচ্ছে ফাঁসি। ব্লগার এ্যান্ড ব্লগার এন্ড অন লাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের (বোয়ান) সভাপতি ব্লগার অনিমেষ রহমান বছর পূর্তির প্রশ্ন উঠালে বলেন, ‘পেশাগত ও পারিবারিক কাজে ব্যস্ত আছি। এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য নয়।’ একই রকম অবস্থান গণজাগরণ মঞ্চের নেতা এফ এম শাহীনেরও। তিনি দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে আড্ডা দেয়া ছাড়া তেমন কোন পরিকল্পনা নেই।’ তার কথায়ও ফুটে উঠে চাপা অভিমানের স্পষ্ট ক্ষোভ।

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচী ও ইমরানের বক্তব্য ॥ তিন বছর পূর্তিতে গণজারণ মঞ্চ দুদিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে জানিয়ে ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘বেলা আড়াইটায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে কর্মসূচী শুরু হবে। বিকেল ৪টায় দেশব্যাপী জাগরণ যাত্রা ছাড়াও ৫টায় স্মৃতিতে জাগরণ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।’

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৫/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: