মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৭ আগস্ট ২০১৭, ২ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

চকোলেট চিপ স্টারফিশ

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ১২:১৮ এ. এম.
  • এনামুল হক

সাগর জলে যে কত রকমের বিচিত্র প্রাণীর বাস তা বলে শেষ করা যাবে না। যেমন এন্টার্কটিকার সøাইম স্টার এবং শিকারি ‘দানব’ স্টারফিশ হচ্ছে প্রকৃতির সবচেয়ে চমকপ্রদ অমেরুদ-ী প্রাণীগুলোর অন্যতম। তেমনি আরেকটি প্রাণী হলো চকোলেট চিপ স্টারফিশ, যার বাস ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরে।

চকোলেট চিপ স্টারফিশ হলো একটা সাধারণ নাম যার দ্বারা ওরিএস্টেরিডাই পরিবারের অসংখ্য প্রজাতিকে বোঝানো হয়ে থাকে। বন্দী অবস্থায় এরা তেমন ভাল থাকে না। কারণ, মুক্ত জীবনে যেমন খাওয়া-দাওয়া করে বন্দী জীবনে তেমন করতে পারে না। প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে নিডোরেলিয়া আরমাটা নামে যে প্রাণী আছে সেটাকে প্রায়শই চকোলেট চিপ স্টারফিশ বলা হয়ে থাকে। তবে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরে প্রোটোরইস্টার নোডোসাস নামে এক প্রজাতির স্টারফিশ আছে, যা তামাটে বর্ণ থেকে ঘন কমলা পর্যন্ত নানা বর্ণ ধারণ করতে পারে। ভারত মহাসাগরে এর এক জ্ঞাতি আছে যার নাম প্রোটোরইস্টার লিংকি। এটা আবার লক্ষণীয়ভাবে লাল ও সাদা বর্ণের হয়ে থাকে। এই গ্রুপের সমস্ত স্টারফিশের শরীরে দারুণ রকমের বর্র্ম আছে। ওদের চিপগুলো কাঁটার মতো কাজ করে ক্ষুধার্ত শত্রুকে বাধা দেয়। অথচ প্রকৃত চকোলেট চিপের ক্ষেত্রে এর উদ্দেশ্য ঠিক বিপরীত।

পূর্ব আটলান্টিকে ওরিএস্টেরিডাই পরিবারের একমাত্র সদস্য হলো ওরিএস্টার রেটিকুলাটাস। এদের প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বাচ্চাদের গাত্রবর্ণ অপেক্ষাকৃত অনুজ্জ্বল, যার ফলে এরা সাগরতলের ঘাসের বুকে সহজেই মিশে যেতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের রং কেন এত উজ্জ্বল হয় সেটাই এক রহস্য।

সøাইম স্টার নামে এক জাতের স্টারফিশ আছে। এরা পিটারাস্টেরাইডাই পরিবারের। এদের শরীরে দারুণ রকমের আঁঠালো ও চটচটে পদার্থ থাকে। এগুলোর একটিকে হাতে তুলে নিলে আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে প্রচুর পরিমাণে মিউকাস বা চটচটে পদার্থ ছেড়ে দেয়। তবে প্রাণীটির আরেক আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য আছে। প্রোটারইস্টার ও তার জ্ঞাতিদের শরীরে দ্বিতীয় একটি আবরণ আছে। এ অনেকটা সার্কাসের তাঁবুর মতো যা প্রকৃত শরীরকে লুকিয়ে রাখে।

এন্টার্কটিকায় ল্যাবিডিয়াস্টার এ্যানুলেটাস নামে এক জাতের স্টারফিশ আছে যাকে কেউ কেউ স্টারফিশ পরিবারের ‘গ্রেট হোয়াইট শার্ক’ নামে আখ্যায়িত করেছেন। প্রাণীটি সর্বভুক এবং খাওয়ার নানা ধরনের কায়দাকানুন আছে। কেউ কেউ মুখ দিয়ে নিজেদের পাকস্থলী ঠেলে বের করে আনে এবং তারপর মাইক্রো-এ্যালজি ও এ জাতীয় ক্ষুদে প্রাণীদের শুষে খেয়ে নেয়। এন্টার্কটিকার এই শিকারি স্টারফিশের ৫০টি পর্যন্ত বাহু থাকে। বাহুগুলি পেডিসেলারিয়াই নামক কাঠামোর দ্বারা আবৃত যা নখরের মতো কাজ করে। ক্রিল বা ক্রাস্টাসিয়ানদের আঁকাড়ে ধরে। শিকারকে আঁকড়ে ধরার পর স্টারফিশের টিউবের মতো পাগুলি খাদ্য বহন করে মুখ পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং তারপর ওগুলি জ্যান্ত খেয়ে ফেলা হয়। ২ ফুট লম্বা এই স্টারফিশ এই পরিবারের মধ্যে অপেক্ষাকৃত বড় প্রাণী। এগুলিকে দানব স্টারফিশও বলা যায়। তবে যত বড় দানবই হোক না কেন মানুষের কারণে ওরা আজ বিপন্ন।

সূত্র : এ্যানিমেল সায়েন্স

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ১২:১৮ এ. এম.

০৫/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: