২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

অনুমাননির্ভর নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজার নিয়ে অনুমাননির্ভর নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসই ব্রোকারস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু। পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত ছাড়া নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসই মেম্বারস ক্লাবে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ২০১০ ও ১৯৯৬ সালের পুঁজিবাজার ধস নিয়ে তথ্যভিত্তিক কোন প্রতিবেদন আসে নাই। যে কারণে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তারা যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে তা আমাদের কাছে গভীর ষড়যন্ত্রের চক্র হিসেবে মনে হয়। কারণ আমেরিকার স্টক একচেঞ্জের কারসাজি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছিল, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, গত ২৫ তারিখ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগের বিষয়ে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া একাধিক দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে কেউ কেউ এ নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন। এ মন্তব্যের ফলে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৫ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি এ কয়েকদিনে পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তাই অনুমান করে কোনো মন্তব্য করা ঠিক না। কারণ এতে পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

টিটু আরও বলেন, তিতাস গ্যাস তালিকাভুক্ত কোম্পানি হওয়া সত্ত্বেও ট্যারিফ কমানোর বিষয়টি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয় এনার্জি রেগুলেটর কমিশন। যে বিষয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। এ ছাড়া ট্যারিফ কমানোর বিষয়টি গোপন রাখা হয়। যাতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণœ ও ডিএসই তালিকাভুক্তি রুলস ভঙ্গ হয়েছে। এ ছাড়া এই কোম্পানির শেয়ারটির প্রায় ৪ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিল। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিতাস গ্যাস কোম্পানি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে শেয়ার প্রতি প্রায় ৯ টাকা আয় করে বলে জানান আহসানুল ইসলাম টিটু। কিন্তু লভ্যাংশ ঘোষণা করে ১৫ শতাংশ। যে কোম্পানিটি আগে ধারাবাহিকভাবে ৩০ শতাংশ বা তার ওপরে লভ্যাংশ প্রদান করে। তিতাস গ্যাসের এ আচরণে কোম্পানিটিসহ তালিকাভুক্ত সরকারি আরও ৬টি কোম্পানির ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দেখা গেছে ৩০ আগস্ট সরকারী ৭ কোম্পানির বাজার মূলধন ছিল ১৮ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা, যা ৩ ফেব্রুয়ারি ৫ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকায়।

নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে ইস্যু ম্যানেজারদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রয়োজন রয়েছে। আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থার জায়গাটা তালিকাভুক্ত কোম্পানির পারফরমেন্সের ওপর যতটা নির্ভর করে; ততটা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। আইপিও প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীলতার অভাবে কোম্পানিগুলোর প্রতি আস্থা কমতে বসেছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা আইপিওগুলো বাজারে আনছে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা দরকার। তাদের বিগত আইপিওগুলোকে পর্যালোচনার আওতায় আনারও প্রয়োজন রয়েছে। কারণ ভাল দায়িত্বে ভাল কোম্পানি বাজারে আসলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। মার্কেটে আরও গতি আসবে। আর তা না হলে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, বাজারে ভাল কোম্পানির শেয়ারের প্রবাহ দরকার; তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিনিয়োগকারীদের আস্থা।

সংবাদ সম্মেলনের আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর সাবেক পরিচালক মিজানুর রহমান খান, খুজিস্তা নূর-ই নাহরীন মুন্নি, আনোয়ার ইব্রাহিম ও মিনহাজ মান্নান ইমন।