১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ভালবাসার আবির মাখা


শীতের পালা শেষ, আসছে বসন্ত। এই বসন্তকে বরণ করবে পহেলা ফাগুন। দখিনা হাওয়া জানান দিচ্ছে বসন্ত বার্তা আর সেই সঙ্গে ভালবাসা দিবসের আগাম খবর। বসন্ত মানেই প্রেমের মাস, প্রকৃতি সাজতে শুরু করে এক নতুনরূপে। প্রকৃতি থেকে শুরু“করে সর্বজীবের মধ্যে বিরাজ করে প্রেমের বার্তা। ভালবাসা প্রকাশের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি মানে বিশ্ব ভালবাসা দিবস। এই দিনটি শুধু ভালবাসা দেয়া-নেয়ার দিন। এই দিনটি তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আর পরপর এই দুটি দিন বাঙালীরা মনের মতো করে উদ্যাপন ও উপভোগ করে। হাতে আর বেশি সময় নেই। পহেলা ফাগুন ও ১৪ ফেব্রুয়ারি দোরগোড়ায়।

১৪ ফেব্রুয়ারি বা বিশ্ব ভালবাসা দিবসে পুরো সময়টাজুড়েই কেবলই থাকে ভালবাসার ক্ষণ। ভালবাসা এদিন তোলা থাকবে কেবল ভালবাসার মানুষটির জন্যই। আর নিশ্চয়ই চাইবেন আপনার প্রিয় মানুষটি যেন আপনার দিক থেকে চোখ ফেরাতে না পারে। ভ্যালেন্টাইন এই মাত্র হাতেগোনা কয়েকদিন বাকি। তাই সবাই প্রস্তুত এই দিনটাকে আপন রঙে রাঙাতে। সেটা হতে পারে নিজেকে সাজাতে, নিজেকে নতুন ফ্যাশন আর স্টাইলে উপস্থাপন করতে।

ভ্যালেন্টাইন আর ফাগুন উদ্যাপনে সবসময়ই তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাসই বেশি চোখে পড়ে। পোশাক ডিজাইনের ক্ষেত্রে তাই তাদের পছন্দের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। এই উপলক্ষে সামনে রেখেই দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো সাজিয়েছে রকমারি পোশাকের পসরা।

সব পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ভালবাসার সমার্থক নানান মোটিফ। সুতরাং বিশ্ব ভালবাসা দিবসে ক্রেতারা সহজেই প্রিয়জনের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করতে পারেন রঙের উপহার সামগ্রীর মাধ্যমে।

বসন্ত ও ভ্যালেন্টাইন ডে সামনে রেখে অঞ্জনসের আয়োজনে যুক্ত হয়েছে ট্রেডিশনাল বা পাশ্চাত্য ঘরানার পোশাক। প্যাটার্ন বৈচিত্র্যে এবং সুতিকাপড় মাধ্যম হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে ব্লক-স্ক্রিন প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারির কাজ। ঋতুভিত্তিক রঙ বৈচিত্র্যের কারণে ক্যাজুয়াল ও পার্টিওয়ার হিসেবে অঞ্জনসের এই ট্রেন্ডি পোশাকগুলো দেবে ভাইব্র্যান্ট উইন্টার লুক। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, বড় ফতুয়া ও শিশু-কিশোরদের জন্য নানা পোশাক পাওয়া যাবে এ আয়োজনে। ফাগুন আর ভালবাসা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও ফ্যাশন হাউসকে ক্র্যাফট তাদের শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবির কালেকশনে নিয়ে এসেছে বৈচিত্র্য। বাসন্তী, হলুদ আর সবুজের সংমিশ্রণে তাদের শাড়িগুলো সত্যিই আকর্ষণীয়।

শীতের মাঝামাঝিতেই ফাগুন ও ভ্যালেন্টাইন উপলক্ষে সেজেছে নগরদোলা ফ্যাশন হাউস। নগরদোলার বর্ণিল পোশাকের সমাহারে এখানে নারীদের জন্য রয়েছে শাড়ি, থ্রি-পিস, সিঙ্গেল কামিজ, ফতুয়া আর পুরুষের জন্য রয়েছে শার্ট ও পাঞ্জাবি। ভালবাসা দিবসকে সামনে রেখে ফ্যাশন হাউস ওজি সেজেছে নতুন রঙে। সুতিকাপড়ে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক, সিকোয়েন্সের মিশেলে ফ্লোরাল ও ঐতিহ্যবাহী আল্পনার মোটিফে তৈরি হয়েছে পোশাকগুলো। প্রতিটি পোশাকে উজ্জ্বল রঙ প্রাধান্য পেয়েছে। মেয়েদের জন্য রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া ও পাঞ্জাবি। ছেলেদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি।

বসন্তবরণে মুমু মারিয়া এনেছে নতুন ডিজাইনের সালোয়ার-কামিজ, কাফতান ও শাড়ি। সময়োপযোগিতা আনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে সুতিকাপড়। প্রতিটি পোশাকে বিভিন্ন রঙের সমাবেশ ঘটিয়ে আনা হয়েছে বসন্তের উপযোগিতা।

এ ছাড়াও বিসর্গ, লণ্ঠন, ফানুস, অতঃপর, কাপড়-ই-বাঙলা, মেঘ এই দিবস উপলক্ষে বাজারে এনেছে রকমারি আর নয়নকাড়া সব পোশাক।

যদি সারাদিনের জন্য বেরনোর পরিকল্পনা থাকে তাহলে অবশ্যই ক্যাজুয়াল পোশাকেই প্রাধান্য দিন। আর যদি রাতে রোমান্টিক ডিনারে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে শাড়ি পরতে পারেন। শাড়িটা শিফন, সিল্ক বা হাফ সিল্ক হলে বেশি ভাললাগবে। তবে পোশাক বাছাই করতে হবে নিজের চেহারা, গঠন ও সেদিনের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। ঝলমলে রোদ, হালকা শীত, বসন্তের আগমনী বার্তা ও সর্বোপরি প্রেমকে মাথায় রেখে অনুজ্জ্বল রঙে দিন এড়িয়ে যাওয়াই ভাল হবে। ভালবাসার রঙগুলোতে নিজেকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলুন। যে কোন উজ্জ্বল রঙও এই সময়ের জন্য এবং প্রেমের জন্য একদম পারফেক্ট। পছন্দমতো নীল, হালকা গোলাপি, সাদা, হালকা বেগুনী উজ্জ্বল হলুদ, পরতে পারেন।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : শাওন ও তিথি

মেকআপ : পারসোনা

পোশাক : রঙ বাংলাদেশ