২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এমপি লতিফের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলা


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃতির অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর-পতেঙ্গা আসনের এমপি এমএ লতিফের বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের হয়েছে। যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলমের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বাদীপক্ষের কৌঁসুলি এ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। জাতির জনকের ছবি বিকৃত করায় দ-বিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় এ মামলা দায়ের করেছেন সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি।

সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি এ প্রসঙ্গে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে বাঙালী জাতি এবং আওয়ামী লীগের আপামর নেতাকর্মী ও সমর্থকের মনে আঘাত দিয়েছেন সংসদ সদস্য এমএ লতিফ। তিনি অবিলম্বে এই এমপিকে দল থেকে বহিষ্কার এবং তার আসন শূন্য করে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানান। মামলার বাদী সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি তার আর্জিতে উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুকে অপমান করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাঁর শরীরে অবাঙালী পাকিস্তানীদের পোশাক জুড়ে দিয়ে বিকৃত ছবি উপস্থাপন করেছেন এমপি এমএ লতিফ। এ ব্যাপারে তার একান্ত সচিবকে ফোন করে ক্ষমা চেয়ে ছবি সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু এমএ লতিফ সে উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। ইচ্ছাকৃতভাবে এহেন কাজ করে তিনি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন।

এদিকে একই দিনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহিম জিল্লু চট্টগ্রামে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম নুরুল আলম মোহাম্মদ নিপুর আদালতে মানহানির আরও একটি অভিযোগ পেশ করেন। আদালত অভিযোগ যাচাইবাছাই করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানান বাদীর আইনজীবী সালাউদ্দিন আহমেদ রিমু। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগে সংসদ সদস্য লতিফের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

বিতর্কিত করার অভিযোগ মহানগর আওয়ামী লীগের ॥ বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে একটি কুচক্রী মহল চট্টগ্রাম বন্দর-পতেঙ্গা আসনের এমপি এমএ লতিফকে বিতর্কিত করার ঘৃণ্য চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তারা এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, জনপ্রিয় সংসদ সদস্য এমএ লতিফ রচিত বিভিন্ন সেøাক উদ্ধৃত করে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনকের ছবি বিকৃত করে ফেস্টুন বানিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগে তোলপাড় সৃষ্টি করে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এমএ লতিফ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিগত সাত বছর ধরে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওই মহলটি এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ঐতিহ্যবাহী চিটাগাং চেম্বার নির্মিত দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সফল বাস্তবায়ন ও পাঁচ দিনব্যাপী জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে দেশের অতীত গৌরব, সম্ভাবনা ও সামর্থ্যকে তুলে ধরে সব মহলের প্রশংসা অর্জন করাটাই এমপি লতিফের জন্য এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের প্রতি অনুগত একজন মানবিক ও সংবেদনশীল সহকর্মীকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্য কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে ফেস্টুনে জাতির পিতার এডিটিং ছবি ব্যবহার করার মতো যে গর্হিত কাজ তারা করেছে, তা খুবই দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়।

বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রামের সুদূরপ্রসারী উন্নয়নে যারা বিরোধিতা করেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকা-ের বিশ্বমুখী প্রবণতাকে যারা আটকে দিতে চেয়েছিল, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মাণকে যারা অভিনন্দন জানাতে সঙ্কীর্ণতা দেখিয়েছে, তারাই একটা সফল আয়োজনের উদ্যোক্তা এমএ লতিফ এমপির কর্ম-আকাক্সক্ষাকে বিতর্কিত এবং হেয়প্রতিপন্ন করতে এসব ঘৃণ্য তৎপরতা চালাচ্ছে বলে আমরা মনে করি।

বঙ্গবন্ধুর মাথার নিচে এমএ লতিফ এমপির দেহ সংযুক্ত করে ফেস্টুন বানিয়ে যারা নোংরা রাজনীতির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তারা সচেতন জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ইতোপূর্বেও নিন্দিত হয়েছে, ভবিষ্যতে অগ্রসর রাজনীতির ধারা থেকে তারা অবশ্যই আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। ইতোমধ্যে কুচক্রী মহলের এ ষড়যন্ত্র চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষের কাছে সাজানো ঘটনা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্মসম্পাদক মোঃ শফর আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শেখ মাহমুদ ইসহাক, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক মাহবুবুল হক মিয়া, মহানগর শ্রমিক লীগ সভাপতি বখতিয়ার উদ্দিন খান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এনামুল হক চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগ সদস্য কামরুল ইসলাম দুলু, বন্দর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা এজাহার মিয়া, ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালেহ আহম্মদ চৌধুরী, হাজী জয়নাল আবেদিন, হাবিবুল হক, মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের ও এইচএম সোহেল এবং এমপি লতিফের নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: