মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

তিস্তার সব পানিই নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, এদেশে এখন শুধু বালুচর

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
তিস্তার সব পানিই নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, এদেশে এখন শুধু বালুচর

শাহীন রহমান ॥ তিস্তা। পাহাড়ী সুন্দরীকন্যা নামে খ্যাত আন্তর্জাতিক নদী। এক সময়ের স্রোতস্বিনী এখন দেশের কোটি মানুষের দুঃখ। উজানে তিস্তার ওপর বাঁধ দিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন ক্যানেলের মাধ্যমে স্রোত ঘুরিয়ে দিয়ে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ রোধ করা হয়েছে। শীর্ণকায় এ তিস্তায় বর্ষার ভাঙ্গনে নিঃস্ব হচ্ছে লাখো পরিবার। শুষ্ক মৌসুমে নেই কোন সেচের পানি। কোটি মানুষের দুঃখ নিয়ে তবুও বয়ে চলেছে এই তিস্তা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজানে তিস্তার বুকে বাঁধ দিয়ে প্রবাহ বন্ধ করে নদীর ওপর যে অত্যাচার শুরু হয়েছে বোধকরি পৃথিবীর আর কোন নদীর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি। একটি দুটি নয়; তিস্তার বুকে রয়েছে বড় ৬টি বাঁধ। এছাড়া সেচ প্রকল্পের জন্য নদীর উপনদীগুলোতে রয়েছে অসংখ্য বাঁধ। এর বুকে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুত নির্মাণ করা হয়েছে ৩০টি। এখানেই শেষ নয়, ভারতে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের তিস্তা গঙ্গা সংযোগ খাল তৈরিও সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন তিস্তার বুকে গজলডোবা নামক স্থানেই যে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে তার মাধ্যমে সব পানি ধরে রাখা সম্ভব। এর বাইরে রয়েছে উপনদীগুলোতে একাধিক বাঁধ। ভারতের বিভিন্ন অংশে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখায় বাংলাদেশ অংশে নদীটি এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিস্তা বাঁধের কারণে পরিবেশ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের বছরে যে ব্যাপক ক্ষতি হবে তার আর্থিক পরিমাণ ১৩৫ বিলিয়ন ডলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে উজান থেকে ডালিয়া পয়েন্টে যে পানি আসছে তা আসলে তিস্তার পানি নয়। কারণ গজলডোবার সøুইস গেট চুয়ানো পানি ছাড়া আর কোন পানি তিস্তা থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বাঁধের মাধ্যমে নদীর নিয়ন্ত্রণ ইতোমধ্যে ভারতের হাতে চলে গেছে। তিস্তায় ডালিয়া ব্যারাজে উজান থেকে আসা পানিপ্রবাহ প্রায় শূন্য। এখন পানি যা আসছে তা ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ভাটির উপনদী থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিস্তা নদী নিয়ে কোন চুক্তি না থাকায় পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করতেও পারছে না বাংলাদেশ।

ত্রি-স্রোতা বা ‘তিন প্রবাহ’ থেকে তিস্তা নামধারী এ নদীটি সিকিম হিমালয়ের ৭ হাজার ২শ’ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত চিতামু হ্রদ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এটি দার্জিলিংয়ে অবস্থিত সিভক গোলা নামে পরিচিত একটি গিরিসঙ্কটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। দার্জিলিং পাহাড়ে তিস্তা একটি বন্য নদী হিসেবে পরিচিত হলেও এর উপত্যকা ঘন বনে আচ্ছাদিত। পার্বত্য এলাকা থেকে প্রথমে প্রবাহটি দার্জিলিং সমভূমিতে নেমে এসেছে। এরপর প্রবাহটি পশ্চিমবঙ্গের দুয়ার সমভূমিতে প্রবেশ করে। পরে নীলফামারী জেলার খড়িবড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

উজানে বাঁধের কারণে শীর্ণকায় বয়েচলা তিস্তার বুক চিড়ে এখন শুধুই বালু চর। নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বর্ষায় একটু পানি হলেই পাড় উছলিয়ে পড়ে। বর্ষার সময় নির্ধারণ করা নদীর বিপদসীমার পরিমাপও অনেক উপরে উঠে গেছে। ১৯৭৯ সালে ডালিয়া পয়েন্টে বর্ষায় তিস্তায় পানি প্রবাহের বিপদসীমা নির্ধারণ করা হয় ৫২ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। সে সময় শুষ্ক বা বর্ষার সময় তিস্তা ছিল স্বাভাবিক গতির একটি নদী। এখন বর্ষায় একটু পানি হলেই এ বিপদসীমা অতিক্রম করে।

নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিস্তায় যতগুলো বাঁধ রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও উল্লেখযোগ্য বাঁধের নাম গজলডোবা। সিকিম এন্ডারসন সেতুটি দার্জিলিং কালিংপং সড়কে অবস্থিত, যার ২৫ কিলোমিটার ভাটিতে করনেশন সেতু। এরই ভাটিতে সিভক শহরের কাছে তিস্তা নদী ডুয়ার্সের সমতলে প্রবেশ করেছে। তারও ১৫ কিলোমিটার ভাটিতে গজলডোবায় এ ব্যারাজ নির্মাণ করা হয়েছে। গজলডোবার ৭০ কিলোমিটার ভাটিতে তিস্তা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গজলডোবার এই বাঁধে ফটক রয়েছে ৫৪টি, যা বন্ধ করে তিস্তার মূলপ্রবাহ থেকে পানি বিভিন্ন খাতে পুনর্বাহিত করা হয়। নদী বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, তিস্তার পানি তিস্তা-মহানন্দা খালে পুনর্বাহিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এ বাঁধ স্থাপন করা হয়েছে। ২ হাজার ৯১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা-মহানন্দা খালের মাধ্যমে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার ও মালদহ জেলায়ও সেচের পানি সরবরাহ হচ্ছে। কার্যত তিস্তার পানি গজলডোবা বাঁধের মাধ্যমে বিহারের মেচী নদীর দিকে প্রবাহিত করা হচ্ছে। সেখান থেকে ফারাক্কার উজানে এ পানি ফুলহার নদের মাধ্যমে পুনরায় সরবরাহ করা হবে। মেচী নদীতে একটি বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, ফলে উত্তরবঙ্গ ও বিহারে ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ পরিকল্পনাও সম্পূর্ণ হবে।

জাতিসংঘের সাবেক পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এসআই খান বলেন, ভারত ইতোমধ্যে এ নদীতে ৬টি বড় বাঁধ দিয়েছে। এছাড়া ছোট সেচ প্রকল্পের জন্য তিস্তার উপনদীগুলোতে দেয়া হয়েছে আরও অসংখ্য বাঁধ। জলবিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে ৩০টির মতো। এছাড়া আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের হিমালয় ১নং সংযোগ খালের মানস সাংকোচ-তিস্তা গঙ্গা সংযোগ খালের কাজও সম্পন্ন করেছে ভারত। ভারত সরকার তিস্তায় গজলডোবা বাঁধের মাধ্যমে উজানে জলাধার থেকে পানি সরাসরি ফারাক্কা বাঁধের উজানে গঙ্গা নদীতে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ভারত তিস্তা বেসিনের পানি মহানন্দা বেসিনেও সরিয়ে নিচ্ছে। গঙ্গা থেকে আরেকটি সংযোগ খালের মাধ্যমে তিস্তার পানি দক্ষিণাত্যেও সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ভারতের রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির দেয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ভারত ইতোমধ্যে তিস্তা নদীর উজানে বেশ কয়েকটি বাঁধ নির্মাণ করেছে। তিস্তার বুকে গজলডোবা নামক স্থানে যে বাঁধ বা ব্যারাজ স্থাপন করা হয়েছে তার মাধ্যমেই মূলত তিস্তার সব পানি আটকে রাখা যায়। কেবলমাত্র সøুইস গেটের মাধ্যমে যে পানি চুইয়ে আসে তাই পাচ্ছে বাংলাদেশ। সংগঠনটি জানায়, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের বাম ও ডান পাশ দিয়ে দুটি খাল তৈরি করা হয়েছে, যার পানি ধারণ ক্ষমতা ১৪২ ও ৪৫৫ কিউসেক। এই বাঁধের ডান দিকের খাল শুকনো মৌসুমে মহানন্দা নদীর প্রবাহের সব পানি আটকে রাখতে সক্ষম।

ভারত কর্তৃক উজানে বাঁধ নির্মাণ করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশে তিস্তা ব্যারাজে পানি সঙ্কট রয়েছে শুরু থেকেই। তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে কয়েক দফায় আলাপ আলোচনা হলেও ভারতের অনাগ্রহের কারণে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ বাস্তবায়নে হিমালয় অঞ্চলে যে ১৪টি খাল খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে সেগুলোর অন্যতম হলো ব্রহ্মপুত্রের উপনদী তিস্তা ও গঙ্গা সংযোগ এবং যোগী গোপা-তিস্তা-ফারাক্কা সংযোগ। ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী সংযোগ খালের মাধ্যমে তিস্তা নদীর পানি প্রথমে ফারাক্কা পয়েন্টে আনা হবে। ফারাক্কা পয়েন্ট থেকে সংযোগ খাল কেটে উড়িষ্যার সুবর্ণরেখা ও মহানদী পর্যন্ত সংযোগ স্থাপিত হবে। আন্তঃবেসিন সংযোগ পরিকল্পনায় মানোস ও সাংকোচ ব্রহ্মপুত্রের এ দুটি উপনদী থেকে সংযোগ খালের মাধ্যমে পানি এনে তিস্তার গজলডোবা ব্যারাজের মাধ্যমে ধরে রেখে পশ্চিমদিকের খালের মাধ্যমে ফারাক্কা পয়েন্ট দিয়ে প্রবাহিত করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তঃবেসিন সংযোগ প্রকল্পে তিস্তা সংযোগ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকা অঞ্চলে পানি শূন্যতাসহ মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।

পরিবেশ ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, তিস্তা নদীর গড়প্রবাহ রয়েছে ৬ হাজার কিউসেক। ঐতিহাসিকভাবে তিস্তায় পানি আসে হিমালয়ের হিমবাহ থেকে, যার সঙ্গে যোগ হয় এর গতিপথের ঝর্ণা ও উপনদীগুলোর প্রবাহ। প্রবাহ বসন্ত আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে যখন তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে তুষার ও হিমবাহগুলো গলতে শুরু করে। বর্ষায় অতিবৃষ্টি অনেক সময় ভাটির ডুয়ার্স সমতলে বন্যা সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, সিকিম এন্ডারসন সেতুটি দার্জিলিং কালিমপং সড়কে অবস্থিত, যার ২৫ কিলোমিটার ভাটিতে করনেশন সেতু। এরই ভাটিতে সিভক শহরের কাছে তিস্তা নদী ডুয়ার্সের সমতলে প্রবেশ করেছে। তারও ১৫ কিলোমিটার ভাটিতে গজলডোবা ব্যারাজ নির্মাণ করা হয়েছে। গজলডোবার ২৫ কিলোমিটার ভাটিতে দোমোহনি রেল সড়ক সেতু, যার উজানে ডুয়ার্স অঞ্চলের ধরলা নদী এসে মিশেছে। শীতে তিস্তার এই নদীর যোগান ৩৫০ কিউসেকের বেশি হয় না। গজলডোবার ৭০ কিলোমিটার ভাটিতে তিস্তা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজ চালু করার মাধ্যমে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল ও মোহনায় যে ক্ষতি হয়েছে ও হচ্ছে দেশের অধিকার আছে তার ক্ষতিপূরণ চাওয়ার। সিকিমে নির্মিত তিস্তার ড্যামগুলো এ ক্ষতি বাড়িয়ে চলছে। গুগল ম্যাপে দেখা যায়, বাংলাদেশের তিস্তা নদী তিস্তা ব্যারাজের মুখে শুকিয়ে আছে। এভাবে ভারত বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকার ফসল, জনজীবন এবং অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই নদীপ্রবাহের ঐতিহাসিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জনগণকে পথে নামতে হবে। এছাড়াও তিস্তা নদীর পানি ব্যবহারের বেলায় জাতিসংঘের ১৯৯৭ কনভেনশন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংগঠন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আব্দুল মতিন বলেন, ভারত সিকিমে বিদ্যুত উৎপাদন ও তিস্তা নদীর পানি সরিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ অংশে এ নদীর ওপর বেশ কয়েকটি ড্যাম ও ব্যারাজ স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে আরও ড্যাম ও ব্যারাজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ব্যারাজ তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহকে এতটাই হ্রাস করেছে যে, শীতকালে স্বল্পপ্রবাহের সময় বাংলাদেশে কোন পানিই পাওয়া যায় না। এছাড়াও গজলডোবার উজান থেকে পশ্চিমবঙ্গের ডাহুক নদীতে প্রবাহিত করছে, যা আসলে তাদের পূর্বপরিকল্পিত আন্তঃবেসিন পানি প্রত্যাহারভিত্তিক আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের একটি আগাম ট্রায়াল।

পরিবেশ বিজ্ঞানী এসআই খান আরও বলেন, আগে ১০ হাজার কিউসেক পানি তিস্তা থেকে প্রজেক্টে নিয়ে যাওয়া হতো। এখন ৫শ’-৭শ’ কিউসেক পানি দিয়ে এর তলানিও ভরে না। তিস্তা বাঁধের কারণে পরিবেশ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৩৫ বিলিয়ন ডলার। এ ক্ষতি জাতিসংঘের মাধ্যমে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে আদায় করতে হবে। এজন্য আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারি। তিনি বলেন, ভারত তিস্তা চুক্তিসহ অন্যান্য নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নানা অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। ভারত কোনভাবেই আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ভেঙ্গে উজানে বাঁধ দিয়ে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ের চো লামু লেক থেকে উৎপত্তি হওয়া একসময়ে তিস্তার গতি ছিল দুর্বার। ১৯৭৭ সালে তিস্তার উজানে ভারতের গজলডোবা নামক স্থানে ব্যারাজ নির্মাণ করে তিস্তার এ দুর্বার গতি থামিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপরও গজলডোবা ব্যারাজ থেকে শুষ্ক মৌসুমে যে পরিমাণ পানি ভাটিতে বাংলাদেশকে দেয়া হয়, তা প্রায় ৭০ কিলোমিটার অতিক্রম করে তিস্তা ব্যারাজে এসে পৌঁছায়। তিস্তা ব্যারাজ থেকে এ পানি ঘুরিয়ে সেচ খালের রিজার্ভারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, তিস্তার স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ঠিক রাখতে প্রয়োজন ৪ হাজার কিউসেক পানি। সম্প্রতি শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২শ’ থেকে ৫শ’ কিউসেকের মধ্যে। বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের শুরুর দিকে উজানের পানি সমস্যা প্রকট না হলেও বর্তমানে তিস্তা ব্যারাজের স্থলে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাচ্ছে।

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৫/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: