২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

আশা পূরণ মিঠুনের


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্রায় দুই বছর আগে ২০১৪ সালের আগস্টে সর্বশেষ টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। এরপর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আর দেখা যায়নি মোহাম্মদ মিঠুনকে। অথচ সেই মিঠুনই কি না টি২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে স্থান করে নিয়েছেন।

কেন এমনটি হলো? বিসিবির নির্বাচক কমিটির প্রধান ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, ‘ভারতে একটা টুর্নামেন্ট খেলেছে মিঠুন। বিপিএলে বলব না খুব ভাল করেছে। তবে ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুইয়েতে খুব ভাল খেলেছে। খুলনায় ক্যাম্পেও ভাল খেলেছে। সব বিবেচনা করে ওকে নিয়েছি। আসলে টিম হয় একটা কম্বিনেশন চিন্তা করে। স্পটে কাকে খেলাবে, আমাদের সঙ্গে কথা বলে কোচ অধিনায়ক ঠিক করে থাকে। সেই বিবেচনায় তাকে নিয়েছি। সে টপঅর্ডার থেকে যে কোন জায়গায় খেলতে পারে। পাশাপাশি সে অনেক অভিজ্ঞও। ‘এ’ দলের পারফর্মেন্স সাহায্য করেছে তাকে দলে নেয়ার ক্ষেত্রে। আমরা তাকে টি২০ খেলোয়াড় মনে করি এবং সে প্রথম সুযোগ এই সংস্করণেই পেয়েছিল। এবার এই স্টেজে দেখতে চাই সে কেমন করে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘তখন (জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজে) মিঠুন পুরপরি ফিট ছিল না। সে আমাদের বিবেচনায় ছিল। সে যে মানের খেলোয়াড় তার পুরোটা আমরা দেখতে পারি নাই। আমার মনে হয় সে খুব ভাল খেলোয়াড়। সে যদি সঠিক জায়গায় সঠিক সময়ে সুযোগ পায় সে কিছু করে দেখাতে পারবে এবং সেই ক্যাপাবিলিটি তার আছে। ওপেনিংয়েও তামিম ও সৌম্য সরকারের ব্যাকআপ হিসেবে দেখা হচ্ছে মিঠুনকে।’ মিঠুন যখন খুলনায় প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে ভাল করলেন, তখন তারও আশা জেগেছে সুযোগ পাওয়ার। সুযোগ পেয়ে মিঠুন জানালেন, ‘খুবই ভাল লাগতেছে। আসলে শেষ তিনটা প্র্যাকটিস ম্যাচের পর আশা করছি যে হয়ত বা কিছু হলেও হতে পারে। তার আগে এ ধরনের কোন আশা ছিল না। পারফর্মেন্সের কারণেই। তিনটা প্র্যাকটিস ম্যাচ হয়েছিল। তিনটাতে ৮৫, ৪২, ৬৭ করেছিলাম। দুইটাতে তিনে। একটা ওপেনিংয়ে। ওপেনিংয়ে ৬৭ রান করেছিলাম। কোচ আমার ব্যাটিংয়ের বিষয়ে পজেটিভ বলছে। আসলে ওইভাবে আগে কখনও দেখে নাই তো। আমার ব্যাটিং দেখার পরও বলছিল, তোমার ব্যাটিং খুব ইমপ্রেসিভ।’ মিঠুনের কথাতেই মনে হচ্ছে, প্রস্তুতি ম্যাচের পর আশা দেখেছেন; তাই পূরণ হয়েছে।

এখন মিঠুনের সামনে প্রত্যাশার চাপ। সেই চাপ কী মিঠুন নৈপুণ্য দিয়ে দূর করতে পারবেন? মিঠুন জানান, ‘ব্যাটিং আসলে একটা রিদমের বিষয়। যতদিন যায়, মাথা তত বেশি কাজ করে। ম্যাচুরিটি আসে। ওইদিক থেকে তো অবশ্যই একটা অভিজ্ঞতা হচ্ছে, যতদিন যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিংটা আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল। মনে হয় ব্যাটিংটা অনেক উন্নতি হইছে। আগে যেমন এক ম্যাচে রান করলে পরের ম্যাচে হইত না। এখন ধারাবাহিকতা আছে। ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলার বিষয়টা আসছে।’

টি২০ বিশ্বকাপে ব্যাটিং করার সুযোগ পেলে তা কাজেও লাগাতে চান মিঠুন, ‘টি২০ বিশ্বকাপের আগে অনেক সময় আছে। এর মধ্যে নিজেকে আরও তৈরি করা যাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য। তাছাড়া এখন বর্তমান যে অবস্থায় আছি, তাতে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী। কারণ আত্মবিশ্বাসী না হলে ওই জায়গায় ভাল করাটা কঠিন। ইনশাল্লাহ ভাল করব।’

আইসিসিতে তিন মোড়লের ক্ষমতা খর্ব হচ্ছে!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। কিন্তু এর সর্বময় ক্ষমতাটা দখল করে আছে তিন ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। সব ধরনের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্তই সংবিধান! তবে সেই আধিপত্য খর্ব হতে যাচ্ছে। আইসিসি থেকে এই তিনটি দেশের আধিপত্য শেষ করতে সংস্থাটির গঠনতন্ত্র ও প্রশাসনিক ক্ষমতায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। বুধবার দুবাইয়ে আইসিসির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিশ্ব ক্রিকেটে সার্বিক কার্যক্রমগুলো এতদিন তিন দেশ ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বোর্ডসমূহের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপেই পরিচালিত হয়েছে। এ কারণে ক্রিকেট বিশ্বের ‘মোড়ল’ নাম পেয়ে যায় দেশ তিনটি। সর্বশেষ এক সংশোধনীতে ফলাফল যাই হোক এ তিনটি দেশ সবসময়ই র‌্যাঙ্কিংয়ের ওপরের দিকে থাকবে, কিন্তু বাকিদের উত্থান পতন ঘটবে। সেরা আটের বাইরে থাকলে এমনকি টেস্ট খেলার জন্য সহযোগী সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে প্লে অফ খেলে আসতে হবে। এছাড়া যেহেতু আইসিসির আর্থিক সমর্থনে এ তিন দেশের বিনিয়োগ বেশি সে কারণে সব ধরনের ক্ষমতাই করায়ত্ত করার একটি পাঁয়তারা হয়েছিল। এবার সেটাই ভেঙ্গে যাবে নতুন করে সংশোধনী আসলে। সংশোধনী গঠনতন্ত্র অনুসারে, ২০১৬ সালের জুন মাসে গোপন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে আইসিসির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: