মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ঋণ ও সুদের হার

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় ঋণ ও আমানতের সুদের হার কমানো হয়েছে। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ঋণের সুদের হার কমানো হয়। আর এ সুবিধা প্রদান করতে গিয়ে মেয়াদী আমানতের সুদহারও হ্রাস করা হয়েছে। এতে আমানতকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই গেল। এ খাতে তাদের আয় কমে গেল। ফলে ব্যাংকিং খাতে ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান আবারও বাড়ল। যদিও বিদেশী ও বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলো এ পদ্ধতি এখনও অনুসরণ করেনি। সুদের হার হ্রাসের ক্ষেত্রে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে যে, বিনিয়োগে উৎসাহ বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বড় বড় বিনিয়োগকারী অনেকদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ব্যাংকগুলোর সুদহার বেশি হওয়ায় বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং গৃহীত পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগকারীরা আসবেন এবং ব্যাপক বিনিয়োগ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। সুদহার কমানোর ফলে এখন থেকে ঋণখেলাপীও কম হবে। সুলভ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ীরা ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকারী বাণিজ্য বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোয় ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়াদী আমানতের সুদের হারও কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে, যা ছিল ৮ শতাংশ। এরই প্রেক্ষাপটে গত মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা এ সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেন, যা চলতি মাসের ১ তারিখ হতে কার্যকর হয়েছে। নতুন সুদহারে উদ্যোক্তারা মেয়াদী ঋণ পাবেন ১৩ শতাংশ সুদে, চলতি মূলধন ১৪ শতাংশ, বাণিজ্যিক সাধারণ ঋণ ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ।

আগে এ ব্যাংকগুলো ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছিল এসব ঋণে, পাশাপাশি মেয়াদী আমানতের সুদ হারও এক শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনে ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংক থেকে আমানতকারীরা এখন সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ পাবেন। এর আগে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদ দিত ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলোর হাতে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ বাড়ছিল না। এ তহবিল বিনিয়োগে না যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে না। ব্যাংকগুলো ধারণা করছে, সুদহার হ্রাসের ফলে এখন থেকে ঋণখেলাপীও কম হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ৭টি ব্যাংকের গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। ব্যাংকিং খাতে ঋণ ও আমানতে সুদ ব্যবধান বাড়ায় গত ডিসেম্বর মাসে তা দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট, যা নবেম্বর মাসে ছিল ৪ দশমিক ৮১ শতাংশীয় পয়েন্ট। আমানতের চেয়ে ঋণের সুদহার কম হারে কমায় এ ব্যবধান বেড়েছে। সার্বিক ব্যাংকিং খাতে গড় ব্যবধান ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে থাকলেও বেসরকারী ও বিদেশী খাতের ব্যাংকগুলোর সুদ ব্যবধান এখনও ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপরে। বিনিয়োগের মন্থরগতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আমানতের পাশাপাশি ঋণের সুদের সুদও কমছে। তবে আমানতের সুদহার যে হারে কমছে সে হারে ঋণের সুদ কমাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ রয়েছে কোন ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের সুদ ব্যবধান ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি হতে পারবে না। কিন্তু অনেক ব্যাংকই অতি মুনাফা প্রবণতার কারণে প্রত্যাশিত হারে ঋণের সুদ কমাচ্ছে না। অন্যদিকে তহবিল ব্যয় কমানোর অজুহাতে আমানতের সুদ কমানো হয়েছে, যা গ্রাহকদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন স্কিমে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হতেই পারেন। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে আমানতকারীদের সুবিধা হ্রাস গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমানতকারীদের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হবেন- এমনটাই প্রত্যাশা।

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৫/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: