২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শিক্ষকদের আন্দোলন আগামী ২৩ তারিখ পর্যন্ত স্থগিত


বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেছেন, শিক্ষকদের দাবি নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন, সরকারের পদস্থ চারজন সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাথে কয়েকদফা আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনা শেষে আমাদের উপলব্ধি হচ্ছে, আমরা একটা সম্মানজনক সমাধানের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। কিন্তু সেটা নির্ভর করছে আমলাদের মধ্যে যারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন তাদের উপর। তারা কতটুকু নিষ্পত্তি করতে চান এবং তাদের মন-মানসিকতার উপর সেই নিষ্পত্তি নির্ভর করে। আমাদের দিক থেকে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা প্রদান করেছি। যেহেতু আলোচনা চলছে, আমরা আমাদের কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত আগামী ২৩ তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করছি। এর মধ্যে যদি সমস্যাটির সম্মানজনক সমাধান হয় তবে এর সাথে জড়িত সবাইকে আমরা ধন্যবাদ জানাবো। আর যদি না হয় তাহলে আন্দোলনের সার্বিক অগ্রগতি এবং কর্মসূচি পর্যালোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া একটার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ ছাড়াও ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১১টায় সংগঠনের সাধারণ সভায় অংশ নেন ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মাকসুদ কামাল আরোও বলেন, আজকের ফেডারেশনের সাধারণ সভায় আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষে এ পর্যন্ত যতটুকু অগ্রসর হয়েছি সে বিষয়টি আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ও সরকারের পদস্থ চারজন সচিবদের সাথে আমাদের দুইদফা আলোচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাথেও একদফা আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে আমাদের উপলদ্ধি, আমরা একটা সম্মানজনক সমাধানের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। কিন্তু সেটা নির্ভর করে আমলাদের মধ্যে যারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, কতটুকু তারা নিষ্পত্তি করতে চান এবং তাদের মন-মানসিকতার উপর সেই নিষ্পত্তি নির্ভর করে। আমাদের দিক থেকে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা প্রদান করেছি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি আমাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল রয়েছেন। ২ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাথে সরকারের পদস্থ চারজন আমলার সাথে আলোচনা হয় এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য এ মাসের ১১তারিখ দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সেই আলোচনার তারিখ এগিয়ে এনে ৭ তারিখ করা হয়। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল রয়েছেন। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা প্রত্যাশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের সমস্যাটির সমাধান হবে।

তিনি বলেন, এর আগে আমরা জানুয়ারির ১১ তারিখ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করি। পরবর্তীতে শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে গত ১৯ তারিখ থেকে সেই কর্মসূচি চলতি মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। আগামী ২৩ তারিখে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাধারণ সভা রয়েছে। সেইদিন পর্যন্ত আমাদের যে কর্মবিরতির যে কর্মসূচি তা স্থগিত থাকবে। এর মধ্যে যদি সমস্যাটির সম্মানজনক সমাধান হয় তবে এর সাথে জড়িত সবাইকে আমরা ধন্যবাদ জানাবো। আর যদি না হয় তাহলে আন্দোলনের অগ্রগতি এবং কর্মসূচি পর্যালোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনের সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের আলোচনায় ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ১৯ তারিখে মিটিং করে ৩ তারিখের সময় দিয়েছিলাম। আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছি। সেই আলোচনা অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে এবং তারা বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছেন। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা আমাদের দাবির ব্যাপারে আশাবাদি। সামনের দিকে এগোচ্ছি এবং একটি অগ্রগতির দিকে যাচ্ছি। এ কথাটি আমি স্পষ্ট করে বলি আমরা আন্দোলনে আছি, আমরা আন্দোলনে থাকবো।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: