১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দুর্বল প্রবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে ধরতে পারল না চীন


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রবৃদ্ধির ধীরগতির কারণে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির তকমাটা এ বছর আর নিজের দখলে রাখতে পারছে না চীন। ২০১৫ সালে প্রবৃদ্ধির আকারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ১৫ হাজার ১শ’ কোটি ডলার পিছিয়ে রয়েছে চীনা প্রবৃদ্ধি। তবে চীন যদি আগামী ১০ বছর ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখে, শুধু সে ক্ষেত্রেই চীন যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও টেক্কা দিতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০০৬ থেকে ২০১৫, চীনা অর্থনীতির নিরন্তর পথচলা। গত এক দশকের উন্নয়নের মধ্য দিয়েই ২০১৫ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছিল চীন। কিন্তু বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসেই দেশের অর্থনীতির ধীরগতির কারণে ভেঙ্গে যেতে শুরু করে চীনের সে স্বপ্ন। বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতির কারণে চীনা পণ্যের চাহিদা ও রফতানি কমাই কাল হয়ে যায় দেশটির জন্য। কমতে শুরু করে ইউয়ানের মান, কমে আসে ভোক্তাখরচ, নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশটির উৎপাদন খাতেও।

বাকি বছরটা এর জের টানতে হয় চীনকে। বছরের শেষার্ধে নিম্নমুখী থাকে রফতানি খাত, ইউয়ানের মান, ভোক্তাখরচ ও উৎপাদন খাত। অন্যদিকে, মন্দার মধ্যে প্রযুক্তির ওপর ভর করে কচ্ছপ গতিতেই এগোতে থাকে মার্কিন অর্থনীতি। তাই বছর শেষে হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির আকার বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজার ৯শ’ কোটি ডলার, যেখানে বছর শেষে চীনের জিডিপির আকার দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৯শ’ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পার্থক্যটা চোখে পড়ার মতো না হলেও শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে এত ফারাক তৈরি হবে যে, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ধারে কাছে পৌঁছাতে চীনের অনেক বছর লেগে যাবে।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ হারে, যেখানে চীনের মোট প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১৬ সালের তাদের পূর্বাভাস ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান কমেছে ৬ দশমিক সাত নয় শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের দুর্বল মানের চেয়েও চীনের কাছে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নকে কিভাবে স্থিতিশীল করা যায়, সে বিষয়টি। তাদের হিসাবে, যদি আগামী ১ দশক টানা ৫ শতাংশ হারে চীনের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয় তাহলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেয়া চীনাদের জন্য সহজ হবে।