মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৭ আগস্ট ২০১৭, ২ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

স্বেচ্ছাচারিতায় অনিশ্চিত শিক্ষা কার্যক্রম

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • রাজশাহীর দি নর্থ পলিটেকনিকে বিনা নোটিসে ছাঁটাই সাতজন

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ নগরীর উপশহরে অবস্থিত ‘দি নর্থ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ থেকে কোন কারণ ছাড়াই বিনা নোটিসে ছাঁটাই করা হয়েছে ছয় শিক্ষকসহ সাতজনকে। তাদের তিন মাসের পাওনা বেতনও দেয়া হয়নি। এর আগে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাজেদুর রহমান খোকনের স্বেচ্ছাচারিতায় চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন অধ্যক্ষসহ আরও তিন শিক্ষক। চাকরি হারানো এই ১০ শিক্ষক-কর্মচারী গত ৮ থেকে ১২ বছর যাবত ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে আসছিলেন।

এদিকে একসঙ্গে একাধিক শিক্ষক ছাঁটাই করায় শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর। আর হঠাৎ চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাকরিচ্যুত শিক্ষক ও এক অফিস সহকরী।

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া ছাড়াও আদালতে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা। জানা গেছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই সরাসরি বরখাস্ত করা হয় রসায়ন বিভাগের শিক্ষক হাসিনা পারভীনকে। এর আগে ১ জানুয়ারি একইভাবে বরখাস্ত করা হয় আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক খাদিজা আকতার, সামসাদ শাহরিয়ার, কম্পিউটার বিভাগর শিক্ষক তানজিল ইসলাম ও অফিস সহকারী তাহেরা আঞ্জুম রুমাকে। এরপর ওই মাসেই বরখাস্ত করা হয় গণিত বিভাগের শিক্ষক গোলাম মোর্শেদকে। এছাড়াও স্থায়ী থেকে অস্থায়ী (ক্লাসভিত্তিক মজুরি) করা হয়েছে ইংরেজীর শিক্ষক আলমগীর হোসেনকে। এর আগে গত ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাজেদুর রহমান খোকনের স্বেচ্ছাচারী আচারণে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ তৈয়বুর রহমান, সিভিল বিভাগের শিক্ষক ফাইম হোসেন ও সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক তোফাতুন নাহার। রসায়নের শিক্ষক হাসিনা পারভীন বলেন, মাতৃকালীন ছুটি শেষে ১ ফেব্রুয়ারি তিনি যোগদান করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু যোগদান করতে দেয়া হয়নি। পরের দিন প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয় তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন লিখিত কপি তাকে দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, এর আগে তিনজন শিক্ষক বেতনসহ মাতৃকালীন ছুটি পেয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ পরিচালক সাজেদুর রহমান খোকন ঘোষণা দিয়েছে মাতৃকালীন ছুটিতে বেতন দেয়া হবে না। এ ঘোষণা দিয়ে তার পাঁচ মাসের বেতন আটকে দেয়া হয়। এর প্রতিবাদ করার পর দুই মাসের বেতন দিলেও তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পরিচালক সাজেদুর রহমান খোকন বলেন, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে মাতৃকালীন ছুটির বেতন দেয়া হয় না। শিক্ষক-কর্মচারী ছাঁটাইয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ বা ছাঁটাইয়ের কোন নিয়মনীতি নেই। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সঙ্কটের কারণে কিছু শিক্ষক কর্মচারী ছাঁটাই করা হলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য নতুনভাবে দুইজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দি নর্থ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরিচালনা পর্ষদ ছাড়াই এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মালিক তথা পরিচালক সাজেদুর রহমান খোকন একাই তার ইচ্ছামতো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার স্বেচ্ছাচারিতা ও একক কার্যক্রমে শিক্ষার কোন পরিবেশ নেই এ প্রতিষ্ঠানে। বকেয়া ফি আদায়ের নামে প্রবেশপত্র আটকে দেয়ায় গত ২ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি এ প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী। এতে এক সেমিস্টার পিছিয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৪/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: