২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সমস্যায় জর্জরিত কাউনিয়া রেল স্টেশন


স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর ॥ যাত্রীভাড়া বৃদ্ধির পরও রংপুর অঞ্চলের রেল যোগাযোগের নাভি বলে পরিচিত কাউনিয়া রেলস্টেশন জংশনটিতে স্বাধীনতার পর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা আয় হলেও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি যাত্রীসেবার। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম, জনবল সঙ্কট, যাত্রী বিশ্রামাগার, পুরাতন ছাদ ও টিন দিয়ে পানি পড়া, গণশৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবসহ নানা সঙ্কটে জর্জরিত এ স্টেশনটি। নোংরা পরিবেশ এবং বহিরাগত দালাল ও টানা পার্টির উপদ্রপে অতিষ্ঠ এখানকার রেলযাত্রীরা। এসব কিছুর মাঝেই ধুঁকে ধুঁকে চলছে স্টেশনটি।

জানা গেছে, রংপুরের অতি গুরুত্বপূর্ণ এ জংশনটি দিয়ে প্রতিদিন আট আন্তঃনগর, আট মেইল, চার লোকাল ও ছয়টি কমিউটারসহ মোট ২৬টি ট্রেনে লক্ষাধিক যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। কাউনিয়া স্টেশন ম্যানেজার বাবু আল রশীদ জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশনটিতে ৩০ স্টাফের বিপরীতে আছেন ১৬ জন। ৬ জন স্টেশন মাস্টারের পদ থাকলেও আছে ৩ জন। এদের দু’জন চুক্তিভিত্তিক। এছাড়া বুকিং সহকারীর ৩টি পদ থাকলেও আছেন ২ জন। টিসি ৩ জনের স্থলে দু’জন, পি-ম্যান ৭ জনের স্থলে আছে ৪ জন, এসি ম্যান ৬ জনের স্থলে আছে ৩ জন, সুইপারের দুটি পদ থাকলেও রয়েছে একজন। তিনিও আবার প্যারালাইস্ড রোগী। গেটম্যান ৩ পদের স্থলে আছে একজন এবং সালটিং জামাদারের একটি পদ থাকলেও তা নেই দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া রয়েছে বিশ্রামাগার সমস্যা। সাধারণ ও ভিআইপিদের বসার কোন ব্যবস্থা নেই। দেশে রেলের ৪টি বিভাগীয় দফতরের মধ্যে অন্যতম একটি লালমনিরহাট। অথচ সবচেয়ে নাজুক অবস্থা এ বিভাগের। সিগন্যাল ব্যবস্থা যেটা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সেই সিগন্যাল ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কোন চিন্তা নেই। চলছে শত বছরের পুরাতন ব্যবস্থা দিয়েই। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য রেল পুলিশ থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা ব্যস্ত চোরাচালানের পোটলা খোঁজা আর টু-পাইসের কাজে ব্যস্ত। সামান্য বৃষ্টি এলেই প্লাটফর্মে দাঁড়াবার উপায় থাকে না। প্লাটফর্মের চতুর্দিক দিয়েই পানি পড়ে। পানি পড়ে শত বছরের প্রাচীন দাফতরিক কার্যালয়েও। ফলে পানিতে নষ্ট হয় মূল্যবান নথিপত্র। তাদের অভিযোগ, এতকিছুর পরও কর্তৃপক্ষ এসব সংস্কারের ব্যবস্থা নেয় না। বরং বাইরে থেকে উর্ধতন কোন কর্মকর্তা এলে ধুয়ে মুছে রং করে চাকচিক্য করা হয়। এছাড়া পানির ব্যবস্থা নেই, একটি মাত্র টিউবওয়েল থাকলেও সেটি অধিকাংশ সময়েই নষ্ট থাকে। নেই টয়লেট ব্যবস্থাও। ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।