মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

পাঠক সৃষ্টির জন্য...

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

আমিনূর রশীদ বাবর

শিক্ষিতরা শিক্ষাজীবন শেষ করেই বইয়ের জগত থেকে নির্বাসিত হয়ে যায় এটা কোন নতুন বিষয় নয় বা এটা আশ্চর্য হওয়ার মতো কোন ব্যাপারও নয়। বয়স বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই আমরা বই পড়া বিষয়ে মানুষের অনীহা, বইয়ের প্রতি অরুচি দেখে আসছি। আমাদের বুঝতে হবে এই অনীহা ও অরুচির প্রকৃত কারণটা কি? বই পড়ার প্রতি মানুষের এই অরুচির কারণ জানতে হলে প্রথমেই বলতে হয় এর জন্য দায়ী এ দেশের শিক্ষা পদ্ধতি। বর্তমানে দেশে চলমান যে শিক্ষা পদ্ধতি আছে তা কি বিজ্ঞানভিত্তিক যুগোপযোগী? চলমান শিক্ষা পদ্ধতি তৈরি করার সময় দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও মা, বাবাদের অবস্থা এসব কোন কিছুই বিবেচনা না করে শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছে। আর এই পদ্ধতিতে আমাদের স্কুল-কলেজে পাঠদান করা হচ্ছে। এ ধরনের পাঠদান করে প্রকৃত পাঠক বা জ্ঞানী সৃষ্টি করা যাবে না। শিক্ষা হচ্ছে দুই প্রকার। এক বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও জ্ঞানমূলক শিক্ষা। এখন বুঝতে হবে আমাদের আর্থিক অবস্থা কি রকম। এর উত্তর হবেÑ আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা হচ্ছে ইথিওপিয়ার খরাপীড়িত জনতার মতো। এমতাবস্থায় কাউকেও বই পড়ার পরামর্শ দেয়া হবে ধৃষ্টতার শামিল। অতএব, প্রকৃত পাঠক সৃষ্টি করতে হলে আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও মা-বাবাদের অবস্থা ইত্যাদির মধ্যে সমন্বয় করে যদি একটি যুগোপযোগী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন করা যায় তা হলেই পাঠক সৃষ্টি করা যাবে। এছাড়া পাঠক সৃষ্টির জন্য সারাদেশে ব্যাপকভাবে সাধারণ পাঠাগার স্থাপন করতে হবে, প্রত্যেক স্কুল-কলেজে সমৃদ্ধ পাঠাগার থাকতে হবে। তাছাড়া আমাদের দেশে প্রতিবছর একুশের বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়, এই বইমেলাকে আরও ব্যাপকভাবে চালু করতে হবে। অন্তত সকল উপজেলায় একুশের বইমেলা চালু করতে হবে।

বাঙালীরা তো আবার খুব আবেগপ্রবণ জাতি, একুশ এলেই আমাদের ভাষা প্রেম একেবারে উথলে ওঠে। এ ধরনের ভাষাপ্রীতি না করে সত্যিকার ভাষাপ্রীতি দেখাতে পারলে বইয়ের পাঠক, বইপ্রেমী সৃষ্টি করা যাবে। অতএব, বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে হলে আমাদের স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যা গেলানোর অভ্যাস পরিহার করে তাদের জ্ঞান-পিপাসাকে, তার বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করে দিতে হবে। আর এটা করার দায়িত্ব শিক্ষকের। কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা বুঝে না বুঝে তা না করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো শিক্ষা দেন। আর এ জন্যই বইয়ের পাঠকের এই দুরবস্থা। অতএব, শিক্ষাঙ্গন থেকে এই সব অচলাবস্থা দূর করতে পারলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ করা যাবে। মনে রাখতে হবে প্রগতিশীল জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। গির্জাপাড়া, মৌলভীবাজার থেকে

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৪/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: