২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ভবিষ্যতের কার্যধারার উত্তর জানতে চাই নতুন তাত্ত্বিক রূপরেখা


ভবিষ্যতের কার্যধারার উত্তর জানতে চাই নতুন তাত্ত্বিক রূপরেখা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ সত্যিকারের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াগুলো অনেকাংশে সেসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে যা মোটেও অর্থনৈতিক নয়। সনাতন মূলধারার অর্থনীতি এখন অতীত বিষয়। চলমান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রক্রিয়াগুলোর সত্যিকার প্রকৃতি ব্যাখ্যার জন্য এর কোন প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতের বিভিন্ন কার্যধারার মৌলিক প্রশ্নের উত্তর জানতে প্রয়োজন এক নতুন তাত্ত্বিক রূপরেখা যা নীতিপরামর্শের জন্য প্রয়োজন হবে। নিউ প্রাগমেটিজম (বাস্তবধর্মিতা) হলো সেই রূপরেখা। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক লোক বক্তৃতায় পোলান্ডের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী অধ্যাপক ড. গ্রেগর্গ ডব্লিউ কোলদকো এসব কথা বলেন। ‘বিশ্ব কোন দিকে যাচ্ছে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ শিরোনামের এই লোক বক্তৃতার আয়োজন করে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. গ্রেগর্গ ডব্লিউ কোলদকোকে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী অধ্যাপক ড. গ্রেগর্গ ডব্লিউ কোলদকোকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ। এরপর অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত অধ্যাপক ড. গ্রেগর্গ ডব্লিউ কোলদকোর কর্মজীবন ও অর্জন নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সহ-সম্পাদক মেহেরুননেছার উপস্থাপনায় সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।

লোকবক্তৃতায় অধ্যাপক ড. কোলদকো আরও বলেন, ভবিষ্যতের বিভিন্ন কার্যধারার মৌলিক প্রশ্নের উত্তর অর্থনৈতিক পদ্ধতিসমূহ থেকে পাওয়া যাবে না। অর্থনৈতিক পরিম-লে কি ঘটছে শুধু এর ওপরে বিশ্বের ভবিষ্যত এবং সভ্যতা নির্ভর করে না, এটি মুখোমুখি থাকা সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, জনতাত্ত্বিক, প্রযুক্তিগত এবং বাস্তুসংস্থান সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার ওপরও নির্ভর করে। এই জন্য একটি আন্তঃ শাস্ত্রীয় মনোভাব দরকার। আমাদের একটি নতুন তাত্ত্বিক কাঠামো দরকার যা নীতি পরামর্শের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। বাস্তবধর্মিতা (প্রাগমাটিজম) ভবিষ্যত প্রজন্মের কার্যধারার নানা ধরনের মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, যদি আমরা পৃথিবীর ভবিষ্যতে একটি সুখী এবং একটি যৌক্তিক সুসঙ্গতিপূর্ণ উন্নয়ন দেখতে চাই, তাহলে অর্থনৈতিক পুনঃউৎপাদন প্রক্রিয়াসমূহের সঙ্গে নতুন মূল্যবোধ প্রচলন করতে হবে। কিন্তু একই সময়ে বাস্তবধর্মিতাকে (প্রাগমাটিজম) ভুলে গেলে চলবে না। যা যৌক্তিক জাতীয় সম্পদ বরাদ্দের জন্য একটি মৌলিক এবং অপরিহার্য বিষয়। আমাদের এমন একটি প্রাগমাটিজম দরকার, যা একটি মূল্যবোধ পদ্ধতি থেকে এসেছে। যে মূল্যবোধ সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিয়ে সামাজিক ঐক্য ও টেকসই উন্নয়নকে নিশ্চিত করে অংশগ্রহণমূলক বিশ্বায়নকে ত্বরান্বিত করে এবং যা বহুসংস্কৃতিবাদকে সমর্থন করে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে সামাজিক সন্তুষ্টির একটি দীর্ঘমেয়াদী সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্য, এর অন্তর্নিহিত অর্থ এবং পদ্ধতির দৃষ্টিকোণ থেকে নিউ প্রাগমেটিজমকে বিবেচনা করতে হবে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকা- থেকে সংঘাতগুলো কিভাবে দেখা দেবে এবং কোন প্রতিষ্ঠান ও নীতিমলার সমন্বয়ে বিশ্বব্যাপী সেগুলোর সমাধান সম্ভব সেটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অর্থনীতি বলে দেবে। ভাষণের পর সবার জন্য উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অধ্যাপক ড. গ্রেগর্গ ডব্লিউ কোলদকো।

অধ্যাপক আবুল বারকাত বলেন, অধ্যাপক কোলদকো শুধু একজন অর্থনীতিবিদ, সমাজ বিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিবিদই নন, তিনি অর্থনীতির উত্তরণ এবং উন্নয়ননীতি বিষয়ে এই বিশ্বের প্রথম সারির একজন প্রবক্তা। তিনি ‘পুনর্জাগরণের অর্থনীতিবিদ’ হিসেবে সারা বিশ্বে সমাদৃত। নব্য-উদারবাদের কঠোর সমালোচক কোলদকো এক নতুন অর্থনৈতিক চিন্তাধারা ‘নিউ প্রাগমেটিজম’ এর মূল প্রবক্তা।

তিনি আরও বলেন, কোলদকোর ভাষায় ভাল অর্থনীতি বিশ্বের শুধু নিছক বর্ণনা নয়, এটি তার চেয়েও বেশি। এই অর্থনীতি আরও ভালর পথে পরিবর্তনের একটি হাতিয়ার। প্রচলিত গ-ির বাইরে বেরিয়ে চিন্তার এক নতুন জগৎ উন্মোচন করেছেন অধ্যাপক কোলদকো।