২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়


নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর, ২৩ ডিসেম্বর ॥ জেলায় কোনভাবেই স্কুল-কলেজে শিক্ষকদের ফরম পূরণ বাণিজ্য থামানো যাচ্ছে না। বেসরকারী কলেজগুলোতে চলছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কাজ। শিক্ষকদের ফরম পূরণ বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ অতিরিক্ত টাকা না নেয়ার জন্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা এবং জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে শিক্ষকরা। জেলার কয়েকটি কলেজ বিশেষ করে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। জেলার চরাঞ্চলের দিনমজুর খেটে-খাওয়া অভাবী মানুষ উপায়ান্তর না দেখে পালের গবাদি পশু বিক্রি, এনজিও ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ ও দাদন এনে সন্তানদের ফরম পূরণ করতে বাধ্য হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এভাবে জোর জুলুম করে টাকা আদায় করাতে চরাঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএমখালীতে শহীদ সিরাজ সিকদার কলেজে শিক্ষকরা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত টাকার ৩Ñ৪ গুণ হারে আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। শহীদ সিরাজ সিকদার কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হানিফ, আলাউদ্দিন, আরিফ, রুবেল মিয়া, কাউছার, জসিম উদ্দিন, হাবিবুর রহমান, মহিউদ্দিনসহ অর্ধশত শিক্ষার্থী জানায়, তাদের কাছ থেকে শিক্ষকরা ফরম পূরণ বাবদ বিনা রশিদে ৫ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা আদায় করছে। এ কলেজ থেকে এবার তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা। শিক্ষকদের আর্থিক দুর্নীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে তারা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে তারা। কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুল হক বলেন, পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে কত টাকা ধরা হয়েছে তা অফিস বলতে পারে আমার জানা নেই। কলেজের শিক্ষক আব্দুল হক বলেন, আশপাশের কলেজগুলোতেও একই হারে ফরম পূরণের টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা বেশি ধরিনি। উক্ত কলেজের সাবেক ইংরেজি প্রভাষক মোঃ সেলিম হোসেন জানান, শহীদ সিরাজ সিকদার কলেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুল হক তাকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কলেজের চাকরি থেকে বহিষ্কার করেছে। যা তিনি আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ফরম পূরণের বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে চরাঞ্চলে হাজী শরীয়তুল্লাহ কলেজ, হাবিবুল্লাহ কলেজসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম ছড়িয়ে পড়বে বলে এলাকাবাসী অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস বলেছেন, ইতোমধ্যে হাইস্কুল ও কলেজগুলোতে ফরম পূরণ বাবদ পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা না নেয়ার জন্য এবং নিয়ে থাকলে তা শিক্ষার্থীদের ফেরত দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: