মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

লোক নাট্যদলের দুই নাটকের প্রদর্শনী ॥ ভারতের গঙ্গা যমুনা নাট্য উৎসবে

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কলকাতায় অনিক আয়োজিত ৮ দিনব্যাপী গঙ্গা যমুনা নাট্য উৎসবে আমন্ত্রিত হয়েছে লোক নাট্যদলের দর্শকনন্দিত নাটক ‘লীলাবতী আখ্যান’ এবং ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে পদাবলী যাত্রা ‘সোনাই মাধব’। উৎসবে ‘লীলাবতী আখ্যান’ নাটকের দুটি এবং ‘সোনাই মাধব’ নাটকের একটিসহ মোট তিনটি প্রদর্শনী হবে। এ লক্ষ্যে লোকনাট্য দলের ৫০ সদস্যের একটি দল বুধবার কলকাতা গেছে। লোক নাট্যদল সূত্রে জানা গেছে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় কলকাতার মধ্যম গ্রামের নজরুল শতবার্ষিকী সদন মঞ্চে গঙ্গা-যমুনা নাট্য উৎসবের উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান। উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের লোক নাট্যদলের প্রধান ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কলকাতার বিশিষ্ট নাট্য নির্দেশক বিভাস চক্রবর্তী। আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬-৩০টায় মধ্যম গ্রামের নজরুল শতবার্ষিকী সদন মঞ্চে লোক নাট্যদলের ‘লীলাবতী আখ্যান’ নাটকের প্রথম প্রদর্শনী হবে। এছাড়া ২৬ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিরাটি সাধারণ পাঠাগার সংলগ্ন মঞ্চে ‘লীলাবতী আখ্যান’ নাটকের দ্বিতীয় প্রদর্শনী হবে। ২৭ ডিসেম্বর রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় একই মঞ্চে ‘সোনাই মাধব’ নাটকের একটি প্রদর্শনী হবে। নাটক মঞ্চায়ন শেষে আগামী ২৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে লোক নাট্যদল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে কলকাতা ত্যাগ করবে। লোকনাট্যদলের ‘লীলাবতী আখ্যান’ নাটকটি রচনা করেছেন নাসরীন মুস্তাফা আর নির্দেশনা দিয়েছেন লিয়াকত আলী লাকী। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাহফুজা হিলালী হ্যাপী, মাস্উদ সুমন, লিয়াকত আলী লাকী, আবু বকর বকশী, মাহবুব তনয়, স্বদেশ রঞ্জন দাসগুপ্ত, আমিনুল ইসলাম অহন, তাজুল ইসলাম মুন্সি, রুবেল শঙ্কর, আক্তার হোসেন, জুলফিকার আলী বাবু, রাসেল রানা রাজু, শহিদুজ্জামান আকাশ, আজিজুর রহমান সুজন, ফজলুল হক, মিজানুর রহমান মিজান, মুসা রুবেল, জাহাঙ্গীর রানা, শাহারিয়ার কামাল, রাজীব হোসেন, আজমেরি ইলাহী নীতি, প্রিয়াংকা বিশ্বাস মেঘলা, শায়লা আহমেদ শিল্পী, উম্মে রুমা, তালবিদা আলী মিম, রাবেয়া বাসরী সূচনা। নাটকের সঙ্গীত পরিকল্পনা ইয়াসমীন আলী ও নির্ঝর চৌধুরী, আলোক পরিকল্পনা ঠান্ডু রায়হান, পোশাক পরিকল্পনা, এনাম তারা সাকি, রূপসজ্জা সুভাশিষ সাহা তন্ময়। অন্যদিকে ‘সোনাই মাধব’ নাটকটি রচিত হয়েছে ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে। নাটকটি নির্দেশনা, সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন লিয়াকত আলী লাকী। বিভিন্ন গানের সুর দিয়েছেন দীনেন্দ্র চৌধুরী ও লিয়াকত আলী লাকী। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোকসানা আক্তার রূপসা, মোঃ জাহিদুল কবির লিটন, লিয়াকত আলী লাকী, রহিমা খাতুন নীলা, উম্মে মরিয়ম রুমা ও কিশোয়ার জাহান, মোমিন মিয়া, সূচিত্রা রানী সূত্রধর, আব্দুল্লাহেল রাফি তালুকদার, শায়লা আহমেদ, মাহাবুব তনয়, মোঃ রওশন হোসেন, মোঃ মামুন হোসেন, তাল্বিদা আলী মীম, রাবেয়া বাসরী সূচনা, আজমেরী এলাহী নীতি, মোঃ জাহিদুল কবির লিটন, মোমিন মিয়া, সূচিত্রা রানী সূত্রধর, আব্দুল্লাহেল রাফি তালুকদার, মোমিন মিয়া, সাদমান তারিফ প্রত্যয়, মূসা রুবেল, মিজানুর রহমান, তাজুল ইসলাম মুন্সি, ইয়াসমীন আলী, সাদমান তারিফ প্রত্যয়, মোমিন মিয়া, মোঃ জাহিদুল কবির লিটন, মোঃ মনিরুজ্জান, মোঃ নুরুজ্জামান বাদশা, এএফএম একরাম হোসেন জাহাঙ্গীর, মোঃ কবির হাসান। নাটকের সঙ্গীত মোঃ রওশন হোসেন, আলো সুজন মাহবুব। ‘লীলাবতী’ নাটাকের প্রধান চরিত্র খনার আসল নাম লীলাবতী। সিংহলের ভাগ্যবিড়ম্বিত রাজকন্যা। তাঁর পিতা সিংহলরাজ শত্রুর হাতে পরাজিত ও নিহত হলে শিশু লীলাবতী স্বীয় শিক্ষাগুরু মুঞ্জলসহ বন্দী হন শত্রু দুর্গে। তাঁদের সঙ্গে আরও এক শিশু বন্দী হিসেবে যোগ হয়, তাঁর নাম মিহির। মিহির উজ্জয়নী-রাজ হর্ষ-বিক্রমাদিত্যের রাজসভার জ্যোতিষী প-িত বরাহের পুত্র। পিতার ভুল গণনার ফলে তাঁর বারো দিনের আয়ু জানতে পেরে তাঁকে জন্মের সাতদিন পর তাম্রপাত্রে রেখে ভাসিয়ে দেন সাগরে। আচার্য মুঞ্জল তাঁকে সাগর থেকে রক্ষা করেন, লীলাবতীর সঙ্গেই সন্তান স্নেহে লালন পালন ও জ্যোতিষবিদ্যায় পারদর্শী করে তোলেন। এভাবে ষোলো বছর কেটে যায়। এরই মাঝে লীলাবতী আর মিহির একে অপরের ভালবাসায় আবদ্ধ হন, সূর্যকে সাক্ষী রেখে বিয়ে হয় তাঁদের। ইতোমধ্যে লীলাবতী গণনা করে জানতে পারেন, মিহির রাজ-জ্যোতিষী বরাহের পুত্র। দুর্গ থেকে পালিয়ে তাঁরা উজ্জয়নী চলে যান। লীলাবতী তাঁর অসাধারণ গণনাবলে প্রমাণ করেন যে, শ্বশুরের গণনা ছিল ভুল মিহির আসলে শতবর্ষ আয়ু নিয়ে জন্মেছেন। পুত্র ও পুত্রবধূকে প্রথমে আদরেই বুকে টেনে নেন বরাহ। কিন্তু একজন নারীর অসামান্য প্রতিভা অল্পদিনের ব্যবধানেই তাঁকে ঈর্ষাতুর করে তোলে। ক্রমে তা জিঘাংসায় পরিণত হয়। লীলাবতী ইতোমধ্যে কৃষকদের হিতার্থে বহু ভবিষ্যদ্বাণী সংবলিত ‘শ্লোক’ রচনা করেন, যার ফলে কৃষকদের প্রভূত উপকার হয়। এভাবে লীলাবতী তাদের মধ্যে অপ্রতিরোধ্য প্রভাব বিস্তার করেন এবং তিনি তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার স্বীকৃতিস্বরূপ মহারাজের রাজসভায় দশম রতœ হিসেবে অভিষিক্ত হন। ঈর্ষায় অন্ধ শ্বশুর কোনক্রমেই পুত্রবধূর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে পারলেন না। তাঁরই নিষ্ঠুর আদেশে অবশেষে মিহির স্বীয় গুণাবতী স্ত্রীর জিহ্বা কর্তন করেন, যাতে লীলাবতী আর কোন বচন উচ্চারণ করতে না পারেন। এ কারণেই লীলাবতী পরবর্তীকালে খনা বা কর্তিত-জিহ্বা নামে পরিচিত হন। লীলাবতীর মৃত্যু ঘটে কিন্তু সাধারণ মানুষের মুক্তিদাত্রী হিসেবে সকলের স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে থাকেন খনা নামে। এদিকে লোকনাট্য দলের আরেক প্রযোজনা পদাবলী যাত্রা ‘সোনাই-মাধব’ মূলত সোনাই এবং মাধবের প্রেম এবং চির বিচ্ছেদের কাহিনী, আর এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে মানব সমাজের বিভিন্ন দিক। বাবা নেই, ভাই নেই, মায়ের একমাত্র সন্তান সোনাই। রূপে-গুণে অতুলনীয়। তার মা তাকে তার মামার কাছে রেখে আসে সুন্দর ভাল পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার জন্য। ঘটকের আনা কোন পাত্রই মামা-মামির পছন্দ হয় না। এরই মধ্যে সোনাইয়ের সঙ্গে মাধবের দেখা হয়, হয় পরিচয় এবং প্রেম। নীরবে চলে দেখাশোনা, চিঠি আদান-প্রদান। এ গ্রামে এক দেওয়ান ছিল, তার নাম ভাবনা, তার অত্যাচারে সুন্দরী মেয়েরা ঘরের বাইরে যেতে পারত না; বাঘরার মাধ্যমে জানতে পারে সোনাইয়ের কথা এবং মামার কাছে যায়। মামা প্রথমে সোনাইকে ভাবনার সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয় না পরে মৃত্যুর ভয় দেখালে সে বলে দেয় নদীতে জল আনতে গেলে যেন সোনাইকে সে বজরায় তুলে নেয়। ভাবনা তাই করে। বজরা থেকে মেয়ে কান্না আসছে শুনে মাধব যেয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং দেখে সে মেয়ে তারই সোনাই। ঘরে নিয়ে আসে, বিয়ের আয়োজন করে। কিন্তু দেওয়ান মাধবের বাবাকে ধরে নিয়ে যায়, তাই বাবাকে উদ্ধার করার জন্য মাধব যায় দেওয়ানের কাছে। সোনাই এক বছর একা থাকে ঘরে। তার পর ফিরে আসে তার শ্বশুর, বলে সোনাই না গেলে মাধবকে ছেড়ে দেবে না। বাধ্য হয়ে সোনাই যায় মাধবকে ছাড়াতে। দেওয়ান মাধবকে ছেড়ে দিয়ে ঘরে এসে দেখে সোনাই বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে। কাহিনী শেষ হয় মাধবের হাহাকারে, সে নদীর ঘাটে বসে সোনাইকে ডেকে চলে। কারো লালসার কারণে যে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে তাই এ পালায় বোঝানো হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এ. এম.

২৪/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: