২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

এবারও সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী পাবে বিনামূল্যে পাঠ্যবই


বিভাষ বাড়ৈ ॥ গত কয়েক বছরের মতো আগামী বছরও নতুন শিক্ষাবর্ষে সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে সরকারীভাবে বিনামূলে পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে। বছরের প্রথম দিনই সারাদেশে একযোগে ‘বই উৎসব’ পালনের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ৩৩ কোটি ৪৫ লাখ বই তুলে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু কাগজ সঙ্কট, দাম বৃদ্ধিতে মুদ্রাকরদের অসন্তোষ, রাষ্ট্রায়ত্ত কর্ণফুলী পেপার মিলসের (কেপিএম) ব্যর্থতা আর বিশ্বব্যাংকের নানা আপত্তির কারণে কাজে বিলম্ব হওয়ায় এবার সঙ্কট তৈরি হতে পারে প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ে।

আগস্ট মাস থেকে শুরু হওয়া পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর কাজ ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে এই মুহূর্তে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হচ্ছে ছাপাখানা। সময়ের কথা মাথায় রেখে স্বাভাবিকের কয়েকগুণ চাপ বেড়েছে ছাপাখানার কর্মীদের। শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে বই তুলে দেয়ার জন্য ছাপাখানাগুলোর ওপর সরকারের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ইন্সপেকশন টিমসহ বিশেষ কমিটি নিয়মিত ছাপাখানাগুলো পরিদর্শন করছে। পাঠ্যবইয়ের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে কাজের অগ্রগতির চিত্র যেমন দেখা গেছে তেমনি জটিলতাও লক্ষ্য করা গেছে। জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাচনের কারণে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই সারাদেশের জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কিন্তু এখন সে অবস্থান থেকে সরে ২৮ ডিসেম্বর রাত ১২টার মধ্যে বই পৌঁছে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিকের আড়াই কোটি বই এখনও তৈরিই হয়নি বলে তথ্য পাওয়ায় চিন্তায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে প্রাক-প্রাথমিক ও ইংলিশ ভার্সনের বই ছাপার কাজে অগ্রগতি না হওয়ায়। প্রাথমিকের বই প্রস্তুত না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনসিটিবির কর্মকর্তা ও মুদ্রাকর দুই পক্ষই বলছে, এবার কার্যাদেশ দেয়ার পর হঠাৎ করে বিশ্বব্যাংক বই ছাপা নিয়ে নানা শর্তজুড়ে দেয়ার পর পাল্টাপাল্টি বিরোধে কাজ পিছিয়েছে অন্তত দুই মাস। এখন তার খেসারত দেয়া লাগতে পারে। এর সঙ্গে আরও কিছু জটিলতা আছে বলে বলছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই। এনসিটিবির কর্মকর্তারা রবিবার জানিয়েছেন, প্রাথমিকের বইয়ের কভার তৈরি করা হয় আর্টকাট পেপার দিয়ে। যার বেশিরভাগ আমদানি করতে হয়। কিছু দেশীয় বাজার থেকে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিকের প্রায় ৭০ ভাগ বই পৌঁছে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে। বাকি ৩০ ভাগের মধ্যে ৩ ভাগ হচ্ছে আমাদের আপদকালীন রিজার্ভ। বাদবাকি ২৭ ভাগ বইয়ের ইনার, কাভার তৈরি হয়ে গেছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখের ওপরে বই ছাপানোর কাজ চলছে। যে সময় আছে তাতে ২৮ ডিসেম্বরের আগেই বই ছাপানোর কাজ শেষ হবে বলে দাবি করছে এনসিটিবি। এনসিটিবির কর্মকর্তা ও দেশীয় মুদ্রাকররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বিশ্বব্যাংকের খামখেয়ালির কারণে এবার রিজার্ভ ডে নেই। শুরুর দিকে বিশ্বব্যাংকের নানা রকম টাল-বাহানার কারণে নির্ধারিত সময়ে চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। চুক্তি বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় এবার রিজার্ভ ডে রাখার সুযোগ পাওয়া যায়নি। ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে বই পৌঁছে দেয়ার দিন ধার্য করলেও এখন কার্যত প্রাইমারির সব বই প্রস্তুত না হওয়ায় এটা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি, ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে বই পৌঁছে দিতে পারব বলে বলছেন কর্মকর্তারা।

মাধ্যমিকের প্রায় ৯৪ শতাংশ ও প্রাথমিকের প্রায় ৭০ শতাংশ বই জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে পৌঁছানো হয়েছে বলে দাবি তাদের। এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য মতে, ডিসেম্বরের শেষের দিকে অতিমাত্রায় শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে। সাধারণত শৈত্যপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট কুয়াশা ও কনকনে ঠা-ার কারণে ঘর থেকেই বের হওয়া দুঃসাধ্য! যানবাহন অচল দাঁড়িয়ে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে বই পৌঁছে দেয়া হবে?

এ প্রশ্নের জবাবে এনসিটিবির সদস্য ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী বলেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা বসে এ বিষয়ে আলোচনা করব। আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পৌর নির্বাচন চলাকালীন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বই পৌঁছে দেয়া কতটা সহজ হবে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. ইনামুল হক সিদ্দিকী বলেন, পৌর নির্বাচনে উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অফিসারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সম্পর্কিত: