২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

‘আগামীর সেরা তারকা নেইমার-দিবালা’


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নেইমার ইতোমধ্যে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এবারই ফিফা ব্যালন ডি’অরের সেরা তিনে জায়গা করে নিয়েছে বার্সিলোনার ব্রাজিলিয়ান তারকা। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামীতে ফিফা সেরার দৌড়ে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবেন সেলেসাও অধিনায়ক। বুধবার এক সাক্ষাতকারে সাবেক আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার সেবাস্টিয়ান ভেরন বলেছেন, আগামীতে ব্যালন ডি’অরের লড়াইটা নেইমারের সঙ্গে হবে আর্জেন্টিনার উঠতি ফুটবলার পাওলো দিবালার।

গত সাত বছর ধরে বর্ষসেরা পুরস্কারের লড়াই হয়ে আসছে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানা রোনাল্ডোর মধ্যে। এবারও এর বাইরে যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন প্রায় সবাই। আর্জেন্টিনার সাবেক মিডফিল্ডার ভেরন অবশ্য বার্সিলোনার নেইমার ও জুভেন্টাসের ফরোয়ার্ড দিবালার মধ্যে ভবিষ্যতে আরেকটা দারুণ দ্বৈরথের গন্ধ পাচ্ছেন। ভেরন বলেন, প্রতিভা আছে। এটা এখন ধারাবাহিকতা, জয় আর শিরোপার ওপর নির্ভর করে। দিবালাকে তার মতো করে বেড়ে ওঠার সময় দিতে হবে বলে মনে করেন ভেরন। বলেন, মেসি তো মেসিই। কিন্তু লিওর পরে আর্জেন্টিনার আরেকজন আধিপত্য করেছে দেখাটা দারুণ হবে। দিবালাকে নিয়ে আমি দারুণ আশাবাদী।

টেকো মাথাার সাবেক এই ফুটবলার আরও বলেন, তার ওপর অনেক প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে দেয়া উচিত হবে না। এত কম বয়সে সবাই জুভেন্টাসের মতো বড় ক্লাবে যেতে পারে না। রাতারাতি গোলও আনতে পারে না। পালের্মোতে তিন বছর কাটানোর পর ২০১৫ সালে জুভেন্টাসে নাম লেখান ২২ বছর বয়সী দিবালা। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ইতালিয়ান সিরি এ লীগে ১৬ ম্যাচ খেলে ৮ গোল করেন তিনি। আর সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ ম্যাচে করেন ১০ গোল। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে বার্সিলোনার হয়ে অসাধারণ খেলছেন মেসি-রোনাল্ডোর সঙ্গে এ বছরের বর্ষসেরার পুরস্কারের তিন জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেয়া নেইমার। স্প্যানিশ লা লিগায় ১৩ ম্যাচ খেলে ১৪ গোল করেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। আর বার্সিলোনার হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯ ম্যাচ খেলে ১৬ গোল করেছেন।

আরেক খবরে জানা গেছে, রোনাল্ডোর দুর্দান্ত সাফল্যের মূলে নাকি ‘ঘুম’। বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ তারকা। চোখ ধাঁধানো ফুটবলশৈলী দিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপসেরার মুকুট চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতেছেন। পর্তুগাল, ইংল্যান্ড ও স্পেনের ঘরোয়া লীগের শিরোপা জিতেছেন বেশ কয়েকবার। দলের মতো ব্যক্তিগত সাফল্যেও নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ব্যালন ডি’অর পুরস্কার নিজের দখলে নিয়েছেন তিনবার। আরও একবার এই পুরস্কার জয়ের দৌড়ে আছেন। এবারও স্থান পেয়েছেন বর্ষসেরার সেরা তিনের তালিকায়। বর্ষসেরার এই মুকুট জয়ে এবার তাকে লড়তে হবে শিরোপা পঞ্চকজয়ী বার্সিলোনার দুই তারকা লিওনেল মেসি ও নেইমারের সঙ্গে।

এখন প্রশ্ন হতে পারে রোনাল্ডোর এমন নজরকাড়া সাফল্যের রহস্য কী? উত্তরটা অবশ্য নিজেই দেয়ার চেষ্টা করেছেন সি আর সেভেন। তিনি জানিয়েছেন, সাফল্যের রহস্য তেমন কঠিন কিছু নয়, বেশি বেশি ঘুম। শরীরকে সুস্থ রাখতে দিনের অর্ধেকটা পার করেন নিদ্রায়! বিশ্বের সুঠাম দেহের অধিকারী ফুটবলারের তালিকায় রোনাল্ডো শীর্ষদের তালিকায়। শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে শয়নকক্ষও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে নিজের শতভাগ উজাড় করে দিতে শরীরকে সুস্থ রাখার বিকল্প নেই। পর্তুগীজ যুবরাজ্যের ভাষ্যে ফুটে উঠেছে এমনই, ‘আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি শয়নকক্ষ। শরীরকে সুস্থ রাখতে আমার বিশ্রামের প্রয়োজন। সুতরাং যেখানেই থাকি না কেন আমি ঘুমাই।’ ফুটবল মাঠে রোনাল্ডো বেশ গোছানো। আবার দলকে জয় এনে দিতে সতর্কও বটে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভুল করেন না।

সম্প্রতি স্পেনের একটি টিভি স্ক্রিনে ধরা পড়ে রোনাল্ডোর শয়নকক্ষের দৃশ্য। যেখানে রোনাল্ডো নিজেই ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন তার শয়নকক্ষের পরিপাটি দৃশ্যগুলো। দেয়ালটা সাজানো। ডাইনিং টেবিলেও একই ছাপ। ঝলমলে শয়নকক্ষ, যা তার বাড়িকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আর সেই সাজানো শয়নকক্ষে ঘুমটা ভাল হওয়ারই কথা। দৈনিক ১২ ঘণ্টা এখানেই ঘুমিয়ে থাকেন রোনাল্ডো। এই ঘুমের প্রভাব পড়ে নাকি মাঠেও। এ বিষয়ে রোনাল্ডো বলেন, ‘আমাকে দিনের অর্ধেকটাই কাটাতে হয় বিছানায়। কারণ আপনি জানেন, মাঠে ভাল পারফর্ম করতে হলে আপনাকে বিশ্রাম দরকার। তাই আমি নিয়মিত বিশ্রাম নিই।’

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: