২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

খালার রাজনীতিই টিউলিপের রোল মডেল


খালার রাজনীতিই টিউলিপের রোল মডেল

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বচক্ষে না দেখলেও ছোটবেলায় মা-খালার কাছে তাঁর গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হয়েই রাজনীতিতে আগ্রহী হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর নাতনি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক। বঙ্গবন্ধুর গল্প থেকে অনুপ্রেরণা পেলেও খালা শেখ হাসিনাকেই নিজের রাজনীতির ‘রোল মডেল’ মনে করেন এই ব্রিটিশ এমপি। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবেন কি না এখনও নিশ্চিত নন বলেও জানান টিউলিপ।

বুধবার ঢাকার উত্তরায় ‘নারীদের অনুপ্রেরণা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন টিউলিপ সিদ্দিক। ব্যবসা, সাংবাদিকতা ও রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল নারীদের সঙ্গে স্কুল ছাত্রলীগের যোগাযোগ ঘটাতে প্রথমবারের মতো এই কর্মসূচীর আয়োজন করে স্কলাসটিকা স্কুল কর্তৃপক্ষ, যাতে রাজধানীর নয়টি স্কুলের ছাত্রীরা অংশ নেয়। এ সময় টিউলিপের স্বামী ক্রিস পার্সি, সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। স্কলাসটিকা স্কুলের এক সময়ের ছাত্রী টিউলিপ অনুষ্ঠানের শুরুতে আজকের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে জানতাম রাজনীতি করতে চাই, এমপি হতে চাই। সবাই রাজনীতি করবে না, তবে যারা করতে চান মনোযোগ দিয়ে করবেন।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে শেখ রেহানার সন্তান টিউলিপ সিদ্দিক ২০১৫ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যে পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হন। এরইমধ্যে বিরোধী দলে থাকা লেবার পার্টির ছায়া সরকারেও জায়গা করে নিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ।

অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে টিউলিপ বলেন, বড় হয়ে নানার কথা শুনেছেন, যুদ্ধের কথা শুনে রাজনীতি করব বলে ভেবেছি। নানা মানুষের জন্য কী কী কাজ করতেন, দেশের জন্য কী কী ভাবতেন- এসব গল্প শুনেছি মা-খালার কাছে। বঙ্গবন্ধুর গল্প থেকে অনুপ্রেরণা পেলেও খালা শেখ হাসিনাই আমার রাজনীতির রোল মডেল। তিনি বলেন, মা-খালাকে সবসময় দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষের ভাল-মন্দ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে। খালা আমার রোল মডেল ছিল সব সময়।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধুর এই নাতনি বলেন, ভবিষ্যতে কী হয় বলা যায় না। মাত্র তো এমপি হলাম, পাঁচ বছর পর জিজ্ঞেস করেন কী হয়। তিনি বলেন, আমি এখান থেকেও রাজনীতি শুরু করতে পারতাম। রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে সাহায্য করার জন্য, যে কোন দেশ থেকেই মানুষকে সাহায্য করা যায়। সুযোগ পেলে যুক্তরাজ্যে থেকেও বাংলাদেশের জন্য কাজ করার নিজের আগ্রহের কথাও জানান টিউলিপ।

লন্ডনে জন্ম হলেও কৈশোরে কিছু দিন বাংলাদেশে কাটিয়েছেন টিউলিপ সিদ্দিক। সে সময় স্কলাসটিকায় পড়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি, আমি এখানে ফেরত আসব। খুব ভাল লাগছে। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরে আমার স্বামীকে বলেছি- যখন প্রথম যাব, স্টুডেন্টদের সঙ্গে কথা বলব। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে ছাত্রীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়ে ব্রিটিশ এই এমপি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ সংসদের স্পীকারও নারী। তোমরা ভুলে যেও না, ব্রিটেনেও এটা নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেই হোক, পুরুষ বা নারী; দেশকে যে ভালবাসে, গরিবদের যে ভালবাসে সেটাই জরুরী। দেশকে ভালবাসে কি না তা দেখতে হবে। দরিদ্রদের জীবন যেন উন্নত হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করবে যে, তেমন মানুষই প্রধানমন্ত্রী হবেন। তরুণ মেয়েদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যখন তরুণ মেয়েদের সঙ্গে কথা বলি, দেখি তাদের আত্মবিশ্বাস কম। এটা সমস্যা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ব্রিটেনের মেয়েদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও বলেন, ভয় লাগে, মা-বাবা সাপোর্ট দেয় না, শিক্ষকরাও সাপোর্ট দেয় না।

এমপি পদে নিজের নির্বাচনী প্রচারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে টিউলিপ বলেন, জয় সহজে আসেনি। অনেক প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে হয়ে হতে হয়েছে। নির্বাচনে অনেক কষ্ট। ক্যাম্পেইনে দুই বছর কাজ করেছি। দরজায় দরজায় গিয়েছি। লেবার পার্টি কিন্তু জেতেনি, খারাপ করেছে, আমরা খুব কেঁদেছি। আমি যে আসনে জিতেছি, সেটা আগেরবারও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার আগে যিনি এ আসনে এমপি ছিলেন, তিনি বিখ্যাত অভিনেত্রী, দুইবারের অস্কারজয়ী। তাই আমাকেও জিজ্ঞেস করত সবাই, তুমি কি কখনও অভিনয় করেছ? আমি বলতাম- না অভিনয় করিনি। তিনি বলেন, ব্রিটিশ বাংলাদেশী হিসেবে আমি গর্বিত। ওখানে যারা বাংলাদেশী, তারা সবাই চেয়েছেন ব্রিটেনে বাংলাদেশী এমপি হোক। তিনি ব্রিটেনের মুসলমান নাগরিকরা যেন সমস্যায় না পড়েন, তা নিয়ে কাজ করবেনও বলেও জানান টিউলিপ।