২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বর্ষার আগেই নগরীর তিন শ’ রাস্তা সংস্কার করা হবে


বর্ষার আগেই নগরীর তিন শ’ রাস্তা সংস্কার করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ২০১৬ সালকে পরিচ্ছন্ন বছর হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। নগরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে বাধ্যতামূলকভাবে সন্ধ্যার পরে গৃহস্থালি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের জমাকৃত সকল ময়লা-আবর্জনা গ্রহণ ও সরানোর কাজ করা হবে। সকল ময়লা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। তাই দিনের বেলায় কোন প্রকার ময়লা সংগ্রহ করবে না ডিএসসিসি। সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আনা হবে আধুনিক ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও পরিবেশবান্ধব এলইডি সড়ক বাতি সংযোজন করা হবে। দখলমুক্ত করা হবে সড়কগুলো। আগামী বর্ষার আগেই নগরীর তিন শ’ রাস্তা মেরামত বা সংস্কার করা হবে। যার শতকরা ৭৫ ভাগই হবে কংক্রিটের তৈরি। যাতে পানিতে ডুবলেও কোন প্রকার ক্ষতি না হয়। এ জন্য তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে বলেছেন, পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক অভিযোগ গ্রহণের জন্য সিটি কর্পোরেশনে একটি হটলাইনও খোলা হবে। নেয়া হবে নানা উদ্যোগ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণের মেয়র এ ঘোষণা দেন এবং তার আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

ক্লিন ঢাকা ॥ ২০সিক্সটিন নামে এ কর্মসূচী আগামী ১ জানুয়ারি ’১৬ থেকেই কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়। পরিচ্ছন্নতা বছরের কর্মসূচী সফল করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে এবং কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। শহরের পরিবেশ বিনষ্টকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট এবং মামলা করা হবে।

সাঈদ খোকন বলেন, বছরের পর বছর নগরীর সমস্যাগুলো প্রকট হচ্ছে। উত্তরণের পথ খুঁজতে উদগ্রীব হয়ে আছি। আপনারা জানেন যে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্পদ, অর্থ ও কর্তৃত্বের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি প্রতিটি সঙ্কটের অন্তরালেই থাকে উত্তরণের অপার সম্ভাবনা। এই অনুপ্রেরণায় ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৬ সালকে ‘পরিচ্ছন্ন বছর’ হিসেবে ঘোষণা করছি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরিচ্ছন্ন বছর-১৬’কে সফল করতে সিটি কর্পোরেশন বিস্তারিত কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এতে থাকছে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, জনগণকে সম্পৃক্ত ও সচেতন করা, পরিচ্ছন্নতাবান্ধব জনঅভ্যাস গড়ে তোলা, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন, আধুনিক পরিবেশবান্ধব সড়কবাতি সংযোজন ও সড়কগুলোকে দখলমুক্ত করা।

সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আগামী বছর প্রধান সড়ক থেকে বর্জ্যরে কন্টেনার স্থানান্তর করা হবে। এ জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মোট ৫৭ সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন তৈরি করা হবে। দৈনিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সকাল সাতটার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের আধুনিকীকরণ ও অতিরিক্ত ৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ঢাকার প্রধান জনসমাগমস্থলে আগামী বছরের মধ্যে ডিএসসিসির উদ্যোগে ছোট আকারে ৫০ এবং ওয়াটার এইডের সহযোগিতায় ২৫ পূর্ণাঙ্গ আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। ২০১৭ সালের মধ্যে আরও ৫০ পূর্ণাঙ্গ পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যমান পাবলিক টয়লেটগুলো ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করা হবে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের আনুষ্ঠানিকতা ২০১৬ সালের মধ্যে শেষ করা হবে। ’১৬ সালে ঢাকা শহরকে দৃষ্টিনন্দন করতে রাজপথ থেকে সকল ইউনিপোল ও অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ করা হবে। এর পরিবর্তে বড় বড় এলইডি বোর্ড স্থাপন করা হবে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সরকারী ও বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে বিনা অনুমতিতে ব্যানার, তোরণ, ফেস্টুন ইত্যাদি লাগাতে দেয়া হবে না। যারা এ নিয়ম মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ডিএসসিসি। আগামী বছরের মধ্যে রোড ডিভাইডার ও সড়কের পাশে অব্যবহৃত জমিতে সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। এ সময় সরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনে রং করার নির্দেশ দেয়া হবে। ঢাকা শহরে পরিচ্ছন্নতার অন্যতম অন্তরায় রাস্তা ও ফুটপাথের অবৈধ দখল। তাই সড়ক থেকে হকার ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সড়কে গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। গণপরিবহনের জন্য ‘বাস বে’ নির্মাণ করা হবে। সড়ক দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। রিকশা ও ভ্যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।