১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে এবার সরাসরি এ্যাকশন


স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেষ মুহূর্তে এসে পৌর নির্বাচনে আচরণবিধি রোধে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছে ইসি। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আর কোন শোকজ বা নোটিশ নয়। সরাসরি এ্যাকশন নেয়া হবে। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে কারও অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে কমিশন পিছু হটবে না। এমপি-মন্ত্রী তিনি যেই হোন কারও বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে এ্যাকশনে নামবে ইসি। নির্বাচন কমিশন তার ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহারেও বদ্ধপরিকর।

নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজ বলেন, নির্বাচনের শেষদিকে এসে নির্বাচনে আক্রমণাত্মক হওয়ার শঙ্কা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠকেই আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও আগেই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। এজন্য তাদের এ বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোনক্রমেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন যেন ব্যাহত না হয়। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য আর কোন চিঠি দিয়ে সতর্কতার সময়ও নেই। এখন যে সময় রয়েছে চিঠি-চুঠির বিষয় থাকবে না। সরাসরি রিটার্নিং অফিসারকে বলা হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তারা সরাসরি এ্যাকশন নেবে। এমপিদের বিধি ভঙ্গে কোন ছাড় দেয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও শোকজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আচরণবিধি ভঙ্গ করলে যত বড়লোকই হোক, ক্ষমতাশালীই হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংসদ সদস্য হোক বা অন্য কেউই হোক, যদি কেউ এখন আচরণবিধি ভঙ্গ করেন বা মানতে অপারগতা প্রকাশ করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আদেশ এবং নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গে এ্যাকশন নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষমতারও সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে ইসি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ঠিকমতো তার দায়িত্ব পালন করছে কিনা তারও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যক্তি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে সে প্রার্থীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রার্থীকে সহায়তা করা বা সহয়তা নেয়ার ঘটনা ঘটলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়া হবে।

এ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার শুরু থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে সরকারের বিভিন্ন এমপি ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় কয়েকজন এমপিকে পাশে বসিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ছবি গণমাধ্যমে আসে। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অর্ধশত এমপির বিরুদ্বে কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। খবরের কাগজে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন এমপির বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠিও দেয়া হয়েছে। ইসির নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কোন এমপি বা মন্ত্রী সরাসরি কোন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়া বা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেয়ার কথা বলতে পারেন না। এমনকি নির্বাচন প্রভাবিত হয় এমন কোন বক্তব্য রাখাও নিষিদ্ধ।

অভিযোগ রয়েছে যেসব এমপি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত শোকজ নোটিশ দেয়া ছাড়া আর কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি ইসি। শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া ছাড়া আর কোন ব্যবস্থাই নেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে বিভিন্ন মহল থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনে ইসির আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ইসির শোকজ নোটিশকে প্রেমপত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জাতীয় পার্টির চেয়রম্যান এইচএম এরশাদও ইসিকে মেরুদ-হীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ অবস্থায় বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে। এসব সমালোচনার প্রেক্ষিতে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আর কোন ছাড়া দেয়া হবে না। যার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠবে তার বিরুদ্ধে সরাসরি এ্যাকশন নেয়া হবে।

শেরেবাংলা নগরে ইসি সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাহনেওয়াজ আরও বলেন, এখন আর চিঠির বিষয় নয়, এ্যাকশনের বিষয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে তা দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। নির্বাচনের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিপক্ষে চলে গেছে এমন কথা সত্য নয়। এখনও আমাদের কাছে যে রিপোর্ট রয়েছে তাতে দুয়েকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। সঙ্গে সঙ্গে এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়াও হচ্ছে। এসব বিষয় আমাদের দৃষ্টিগোচরে আসছে। সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশও দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে আচরণবিধি রোধে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমনকি এসব রিটার্নিং কর্মকর্তা তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কিনা, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে উল্লেখ করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে যায়, মারামারি হয়। তখন ব্যবস্থা নিতে হয়। তবুও নির্দেশ দেয়া হয়েছে আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা পিছপা যেন না হয়। যে পিছপা হবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শোকজ করতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের শেষের দিকে আক্রমণাত্মক হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেই এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এ কারণে নির্বাচন যেন ব্যাহত না হয় সে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করেন।

শাহনেওয়াজ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংসদ সদস্যরাও বিধি লঙ্ঘন করলে সেক্ষেত্রে সরকার প্রধানের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কেননা সুষ্ঠু নির্বাচন একা করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে কারও সহায়তা চাওয়া ইসির অসহায়ত্বের কোন ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য দেশের সবার সমর্থন আশা করতে পারে ইসি। এ জন্য সরকার প্রধানের কথা বলা হয়েছিল। সেই সঙ্গে যারা বিভিন্ন দায়িত্বে থাকবেন তারাও যেন সহায়তা করেন। সবাই আইনগতভাবে সহযোগিতা করবে। কারও কাছ থেকে সহায়তা চাওয়াটা নির্বাচন কমিশনের ভুলের কারণ না বা অসহায়ত্বেরও কারণ নয় উল্লেখ করেন।

রানীশংকৈল পৌর নির্বাচন স্থগিত ॥ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশিন (ইসি)। বুধবার সহকারী সচিব রাজিব আহসান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর এ পৌরসভার নির্বাচন ৬ মাস স্থগিতের আদেশ দেয় আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিতের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। ফলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৩ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া গত মঙ্গলবার হাইকোর্ট ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভার নির্বাচনও স্থগিতের আদেশ দিয়েছে। তবে ইসির পক্ষ থেকে এ পৌরসভা নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ॥ সারাদেশে পৌর নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনের দিন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- ‘পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকার সব সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারী অফিস, প্রতিষ্ঠান, সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারী-বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ভোট দেয়া ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে নির্বাচনী এলাকায় ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।’ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ভোটের দিন কোন পাবলিক পরীক্ষা থাকলে পরীক্ষাকেন্দ্র ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: