১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ছয় বছরে পোল্ট্রি খাতে বিনিয়োগ হবে ৫০ হাজার কোটি টাকা


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ডিম এবং প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন মুরগির মাংসের প্রয়োজন হবে। বিনিয়োগ দরকার হবে প্রায় ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকা। এই চাহিদা কিংবা বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হলে সরকারী-বেসরকারী সহযোগিতা বাড়াতে হবে, সরকারকে পোল্ট্রি খাতে আরও বেশি নজর দিতে হবে। বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘২০২১ সালের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের চ্যালেঞ্জ : সরকারী-বেসরকারী পরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটি (বিপিআইসিসি)। গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) রিসার্চ ফেলো ড. সুবীর কান্তি বৈরাগী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, ব্যাংক সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে না এলে পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশ সম্ভব হবে না। ১২ থেকে ১৫ শতাংশ সুদ দিয়ে শিল্প করা কঠিন। ডিম, দুধ, মাছ ও মাংস সকল বয়সের মানুষ বিশেষ করে নারী ও শিশুর জন্য খুবই দরকারি খাদ্য। তবে ২০২১ সাল নাগাদ প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে পোল্ট্রি খাত উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। সেক্ষেত্রে পুষ্টিস্বল্পতা কিংবা অপুষ্টি দূর করতে হলে ডিম ও মাংস খাওয়ার পরিমাণ অনেক বাড়াতে হবে। পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে প্রাণিজ আমিষের যোগান নিশ্চিত করতে হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, পোল্ট্রি খাত অবশ্যই বিমার আওতায় আনতে হবে। কেননা একটি স্থানে বার্ড ফ্লু হলে দেখা যায় পুরো এলাকার ভাল মুরগিও মেরে ফেলা হয়, এতে খামারিরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ভোক্তার কাছে আকর্ষণীয় মাংস হচ্ছে পোল্ট্রি। কেননা এর দামও কম এবং স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে হলে পুষ্টি ও বিনিয়োগ দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সাল নাগাদ পোল্ট্রি শিল্পে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাড়াতে এবং পোল্ট্রি শিল্পের অগ্রগতিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে এফবিসিসিআই।

বিপিআইসিসির আহ্বায়ক মসিউর রহমান বলেন, একটি লাগসই পোল্ট্রি শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে জাতীয় কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করাই আজকের কর্মশালার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগ ২৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। এজন্য সরকারী সহযোগিতা প্রয়োজন। শীঘ্রই হালাল মাংস রফতানির জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাই রফতানির ক্ষেত্রে বাধাগুলো দূর করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট মাংসের চাহিদার ৪০-৪৫ শতাংশই আসছে পোল্ট্রি শিল্প থেকে। তাছাড়া বর্তমান চাহিদার শতভাগ ডিম, মুরগি, বাচ্চা এবং ফিড এখন দেশীয়ভাবেই উৎপাদিত হচ্ছে। মাংস হচ্ছে ‘হাইলি নিউট্রিসাস ফুড’ এবং সমকালের বিজ্ঞানীদের মতে এটি বিশেষ করে এইচআইভি ইনফেকটেড কমিউনিটির জন্য একটি দরকারি খাদ্য। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে পোল্ট্রি মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড প্রদানের ঘোষণা দেন তিনি।

বিপিআইসিসির যুগ্মআহ্বায়ক শামসুল আরেফিন খালেদ তার সূচনা বক্তব্যে বলেন, কাঁচামালের মধ্যে কেবলমাত্র ভুট্টাই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে, তাও মোট চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ। বাকি সবকিছ্ইু আমদানি করতে হচ্ছে। হাতেগোনা কিছু ওষুধ দেশে তৈরি হচ্ছে, বেশিরভাগই আসছে বাইরে থেকে। কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আয়কর এবং অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। বাজার ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। ব্যাংকের সুদের হারও বেশি। বিদেশী কোম্পানিগুলোর সাথে দেশীয় খামারিরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। তিনি বলেন, বার্ড-ফ্লু’র ভ্যাকসিনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিয়ে জটিলতা নতুন করে বেড়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায় বলেন, আগামী দিনের চাহিদা বাড়াতে সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোক্তাদের অবশ্যই এক হয়ে কাজ করতে হবে।