২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পুনরায় ওমরাহ ভিসা


বাংলাদেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের জন্য পুনরায় ওমরাহ ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, গত বছর ওমরাহ ভিসায় বাংলাদেশ থেকে ৫১ হাজার ৩২১ জন গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। তাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হাজী ভিসার মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে আসার অঙ্গীকার সত্ত্বেও ফিরে আসেননি। এই সংখ্যা ১১ হাজার ৪৮৫-এর নিচে হবে না। এতে স্বভাবতই সৌদি সরকার ক্ষুব্ধ হয় এবং এক পর্যায়ে বাংলাদেশকে ওমরাহ ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়। ব্যক্তির চেয়ে সৌদি সরকারের প্রধান অভিযোগ ছিল বাংলাদেশের হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, সৌদি আরব বিগত কয়েক বছর ধরেই এ জাতীয় অভিযোগ করে আসছে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এমনকি হজ মৌসুমেও এজেন্সিগুলো হাজী পাঠানো নিয়ে প্রতারণা করে থাকে। হজ মৌসুমেও কিছুসংখ্যক হাজীর সৌদি আরব গিয়ে দেশে না ফেরার অভিযোগ আছে। দুঃজনক হলো, হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাব নেতৃবৃন্দ বরাবরই বিষয়টি অস্বীকার করে, এমনকি চেষ্টা করে ধামাচাপা দেয়ার। এক পর্যায়ে সৌদি সরকার বাংলাদেশের কিছুসংখ্যক এজেন্সিকে (১০৪) কালো তালিকাভুক্ত এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলসহ দুই কোটি টাকা জরিমানা করে। তারা বাংলাদেশ সরকারকে হজ এজেন্সির সংখ্যা কমাতেও বলে। উল্লেখ্য, বিশ্বে মোট হজ এজেন্সির সংখ্যা মাত্র তিন হাজার ৪৩৪টি। সেখানে বাংলাদেশেই প্রায় ১৪০০ হজ এজেন্সি আছে। এরমধ্যে শুধু ওমরাহ হজ এজেন্সির সংখ্যা সাড়ে তিন শতাধিক। এদিকে লাখ লাখ ওমরাহ ভিসা প্রত্যাশীদের কথা বিবেচনা করে সরকার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ প্রতিনিধি দল পাঠায় কয়েক দফায়। সম্প্রতি তাতে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।

সৌদি আরব বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমবাজার। গোটা মধ্যপ্রাচ্যেও সংখ্যার দিক থেকে সর্বাধিক। সঠিক তথ্য-পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও কমবেশি এই সংখ্যা ৬০-৭০ লাখের কম হবে না। অধিকাংশই শ্রমজীবী এবং অনেকেই বহুদিন ধরে কর্মরত। এত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশীর মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী থাকা বিচিত্র নয়। এর মধ্যে ওমরাহ ভিসা নিয়ে যারা যান এবং মেয়াদ শেষেও সে দেশে অবস্থান করেন অবৈধভাবে, তারা স্বভাবতই দু’দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি করেন, যা কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়। এর জন্য অবশ্য প্রধানত দায়ী হজ এবং ওমরাহ হজ এজেন্সিগুলো। সে অবস্থায় হাবের অবশ্য কর্তব্য হবে প্রতারক ও ভুয়া এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল। সম্প্রতি সৌদি নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক সামরিক জোটেও যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। সে অবস্থায় সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা অত্যাবশ্যক। বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কমতে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে স্বভাবতই সৌদি সরকার অন্যবিধ নানা উন্নয়নমূলক কাজে মনোনিবেশ করবে। এ অবস্থায় তাদের আরও দক্ষ, অর্ধদক্ষ ও অদক্ষ শ্রমজীবীর প্রয়োজন পড়বে। বাংলাদেশ সেই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। সে অবস্থায় হজ ভিসা অথবা ওমরাহ ভিসা নিয়ে আর কোন নয়-ছয় কাম্য নয়। হাব নেতৃবৃন্দের বিষয়টি অবশ্যই অনুধাবন করা উচিত। এর বাইরেও কাতারে আগামী বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য অগণিত নির্মাণ ও অদক্ষ শ্রমিক প্রয়োজন। সেদিকেও সরকারের বিশেষভাবে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন।