২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আয়ু বাড়ছে


অকালে ঝরে যাওয়ার শাপমুক্ত আজ বাংলাদেশের মানুষ। দু’বেলা দু’মুঠো যোগাড়যন্ত্র করতে যাদের ফুরাত দিন, অন্নাভাবে, রোগ শোকে দারিদ্র্যে নিঃশেষ হতো প্রাণবায়ু, সেই বাঙালীর জীবন সেই করুণ অবস্থার বদল হয়েছে। অকাল মৃত্যুর করাল গ্রাস থেকে মুক্ত তার জীবন। মানুষ মরণশীল। কিন্তু জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে আয়ু বৃদ্ধি অসম্ভব নয় আর। তাই দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দেশের মানব সম্পদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজ বা শ্রম মৌলিক চাহিদা শক্তি হিসেবে প্রতিভাত। কাজের বৈচিত্র্যও বিভিন্ন ধরনের শ্রমের যৌথ ক্রিয়ার যুগলবন্দী নানা শ্রেণীর শ্রমজীবী মানুষের কর্মে পরিণত হয়েছে। জীবনে চলার পথে যে কোন অবস্থান থেকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যে কয়েকটি পথ খোলা থাকে, মানব উন্নয়নের মূলমন্ত্র অনুযায়ী সেই পথের সংখ্যা যত বাড়বে, ততই বিকশিত হবে জীবন। আর বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়নের ধারায় শামিল হচ্ছে ক্রমশ। মানব উন্নয়নের এই বিকাশকালে দেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। সেই সঙ্গে ঘটছে শিক্ষার বিস্তার। সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সুবিধাও তৈরি হচ্ছে। মাথাপিছু বেড়েছে আয়, কমেছে দারিদ্র্য এবং জীবনযাত্রার মানেরও উন্নয়ন ঘটেছে। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে শ্রম। যা মানুষের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। উপযুক্ত শ্রম শুধু আত্মমর্যাদাবোধই দেয় না, মানুষকে সামাজিকভাবে অংশগ্রহণ করতেও উৎসাহিত করে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে দেখা যায়, গড় আয়ু বৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি, মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মহামারীসহ প্রাণঘাতী রোগে মানুষের মৃত্যু ঘটার দিন আর নেই। ফলে গড় আয়ু বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৭০ বছর ৮ মাস ১২ দিন। এই হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আর এসবের সবটুকু কৃতিত্বই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। যার পরিকল্পনা, শ্রম ও নিষ্ঠা দেশের মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে উত্তরণ ঘটাচ্ছে। অবশ্য পুরুষের চেয়ে নারীদের গড় আয়ু বেশি। আয়ু বেড়ে যাওয়ার কারণে রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের দায়ও বেড়েছে। দেশে বর্তমানে ৫ কোটি মানুষ ষাটোর্ধ বয়সী। আয়ু বাড়ায় এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়বে। সুতরাং এই প্রবীণদের সুস্থ জীবনযাপন, আয়ের উৎস নির্ধারণ, কর্মক্ষমতা বহাল রাখার কাজটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃদ্ধাশ্রম তাদের জন্য কোন সমাধান নয়। বরং এই কয়েক কোটি মানুষকে নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরী। বার্ধক্যের বারান্দায় দাঁড়ানো মানুষের প্রতি রাষ্ট্র কোনভাবেই অবহেলাজনিত আচরণ বা ব্যবস্থা রাখতে পারে না। অবশ্য দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার শহরে কমলেও গ্রামাঞ্চলে কমেনি। পুরুষের পাশাপাশি বৃদ্ধ নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে হবে। পাঁচ বছরের নিচে প্রতি হাজারে গড়ে যে ৩৮ শিশু বর্তমানে মারা যায়, তা রোধ করার কাজ আরও গতিশীল হওয়া প্রয়োজন।

দেশে শিক্ষিতের হার বাড়ছে। সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ গ্রামাঞ্চলেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। শিক্ষার কারণে মানুষ হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্য সচেতন। অগ্রগতির সোপান ধরে বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার, টয়লেট সুবিধা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার, স্থ’ূল প্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি ঘটেছে। দেশও নিম্ন আয়ের থেকে এখন নিম্ন-মধ্যম আয়ে উন্নীত হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, খাদ্য ইত্যাদি মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিস্ময়কর বৈকি! আর এই অগ্রগতিকে আরও সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ। সামাজিক দশটি খাতে অগ্রগামী বাংলাদেশকে তার অর্জন ধরে রাখতে হলে পরিকল্পনামাফিক আরও অগ্রগতি সাধন জরুরী। দেশের মানুষ চায়, আনন্দ উজ্জ্বল পরমায়ু। আর তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারের। জনগণ সহযোগী হিসেবে অবশ্যই পাশে থাকবে।