২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পাকি কণ্ঠস্বর ॥ শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদার বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদার মন্তব্য স্তম্ভিত দেশের মানুষ। মঙ্গলবার সারাদেশের মানুষের মুখে মুখে ছিল এই একই প্রশ্ন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাসে শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বিতর্কিত মন্তব্যে ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দেশের মানুষ। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর পাকিস্তান ও জামায়াতে ইসলামীর মতো অভিন্ন সুরে খালেদা জিয়ার করা মন্তব্যে গোটা জাতি হতবাক ও বিস্মিত। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিরোধী বিএনপিপ্রধানের বক্তব্যের নিন্দা-প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে দেশ ও জাতির কাছে খালেদা জিয়াকে ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকসহ সাধারণ মানুষ। অন্যথায় পাকিস্তানের এজেন্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের এবং সর্বত্র স্বাধীনতাবিরোধী এই অপশক্তির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খালেদা জিয়া তাঁর স্বাধীনতাবিরোধী নগ্নরূপ জাতির সামনে আবারও প্রকাশ করেছেন মন্তব্য করে তাঁরা বলেছেন, খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যে গোটা জাতি হতবাক ও বিস্মিত। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সরকারী ও স্বীকৃত পরিসংখ্যান অস্বীকার করে খালেদা জিয়া আবারও প্রমাণ করেছেন একাত্তরে তিনি যেভাবে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অনুগত ছিলেন, এখনও সেই অবস্থানে অটল রয়েছেন। পাকিস্তান ও যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের ইসলামীর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি হয়েছে খালেদা জিয়ার কণ্ঠে। একাত্তরে রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, আর খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টে হানাদারদের সঙ্গে আরাম-আয়েশে ছিলেন। উনি কিভাবে জানবেন মুক্তিযুদ্ধে কতজন শহীদ হয়েছেন? অনেকে খালেদা জিয়ার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, পাকিস্তানীদের অপকর্ম আড়াল করার উদ্দেশ্যেই একাত্তরে ক্যান্টনমেন্টে পাক হানাদারদের মেহমানদারিতে থাকা খালেদা জিয়া

পরিকল্পিতভাবেই ইতিহাস-বিকৃতকারী বক্তব্য দিয়েছেন। খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ঔদ্ধর্ত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে নিজেকে, তাঁর দল বিএনপিকে ছোট করেছেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। তাই অবিলম্বে পাকিস্তান ও যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেয়া এবং তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়দানের অপরাধে অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে বিচারের মুখোমুখি করতেও দাবি জানান বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও দেশের প্রথম সেনাবাহিনীপ্রধান মেজর জেনারেল (অব)কে এম শফিউল্লাহ বীরউত্তম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা রণাঙ্গনে থেকে জীবনবাজি রেখে হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। উনি (খালেদা জিয়া) তো তখন ক্যান্টনমেন্টে আরাম-আয়েশে ছিলেন। তাই বিএনপি নেত্রী কিভাবে জানবেন কিভাবে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, কত মানুষ মারা গেছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং স্বাধীনতার পরে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তো কাউন্ট (গণনা) করা হয়নি কত মানুষ শহীদ হয়েছেন। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর ঐতিহাসিকভাবে সত্য ৩০ লাখ শহীদের মহান আত্মদানের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কখনই দেশপ্রেমের পরিচয় দেয় না বরং শহীদদের প্রতি অবমাননারই শামিল।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় চৌদ্দ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যে গোটা জাতি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছে। এমন মন্তব্য পরাজিত পাকিস্তানীরা করার সাহস দেখায়নি, যা দেখিয়েছেন খালেদা জিয়া। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার ঘোষণা, শহীদের সংখ্যা এবং বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের মাধ্যমে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া কোথায় ছিলেন? মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনা ক্যাম্পে অবস্থান করে এবং যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সখ্যের কারণেই খালেদা জিয়া এমন ক্ষমার অযোগ্য ও অশালীন উক্ত করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। বিএনপিকে একাত্তরের ঘাতক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সঙ্গে পরাজিত হয়ে খালেদা জিয়া দিশেহারা হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সখ্যের কারণে তাঁর মতিভ্রম হয়েছে। বেগম জিয়ার উক্তি শুধু শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অবমাননা নয়, তাঁর কথিত মুক্তিযোদ্ধা স্বামী জিয়াউর রহমানের সঙ্গেও করেছেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের কাছে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, এ নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেব? একেক সময় একেক রকম পাগলামি কথাবার্তা কেউ বলবে, সে বিষয়ে বলার কী রয়েছে। আসলে এসব বিষয়ে তাদের পাত্তা না দেয়ায় ভাল।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ খালেদা জিয়া মানসিকভাবে অসুস্থ দাবি করে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিকারগ্রস্ত মন্তব্য করে খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন। খালেদা জিয়া এমন বক্তব্য দিয়ে মূলত রাজাকার ও পাকিস্তানীদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে বেগম জিয়া স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করছেন। আসলে বিএনপির ভাঙ্গন দেখে দলটির নেত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই বিএনপি নেতাদের বলব, আপনাদের নেত্রীর (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা করান। আওয়ামী লীগ সুস্থ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল প্রত্যাশা করে।

জিয়ার মরণোত্তর বিচার দাবি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর এই জিয়াউর রহমানই গোলাম আযমকে বাংলাদেশে নাগরিকত্ব প্রদান করেছিল। যুদ্ধাপরাধীদের এ দেশে প্রতিষ্ঠা করেছিল। যা তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়াও করে যাচ্ছেন। তাই আমি মনে করি, জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর ফাঁসি দেয়া হোক, এটা আজ জনগণের প্রত্যাশা।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর-শান্তি কমিটির হায়েনারা ত্রিশ লাখ বাঙালীকে হত্যা করেছেÑ এ কথা আজ শুধু অনুমানই নয়, মীমাংসিত সত্য। এই জঘন্য গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের বিচার যখন বাংলাদেশ এগিয়ে নিয়ে চলেছে, তখন এই বিচারের বিরোধিতা করে পাকিস্তান সরকার নিজেদের সে সময়কার অপকর্মকে অস্বীকার করার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।

তাঁরা বলেন, এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিহ্নিত ১৯৫ যুদ্ধাপরাধী সেনা সদস্যের বিচারের দাবিও যখন জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তানী সরকার এবং যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেল খালেদা জিয়ার কণ্ঠে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং এদেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের অপকর্ম হাল্কা করে দেখানোর হীন রাষ্ট্রবিরোধী উদ্দেশ্যেই খালেদা জিয়া এ বক্তব্যে দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যক্ষ সমর্থন জানালেন। নেতৃদ্বয় যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেয়া এবং তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়দানের অপরাধে খালেদা জিয়াকে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।

‘হলোকস্ট ডিনাইয়াল এ্যাক্ট’ প্রণয়নের দাবি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ॥ মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাসে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বিচারপতি গোলাম রাব্বানী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।

নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ দেশ ও জাতির কাছে বিএনপির ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়ে যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, দেশ ও জাতি যখন বিজয়ের ৪৪তম বার্ষিকী উদ্যাপন করছেন, যখন পাকিস্তান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সমালোচনা করে একাত্তরের গণহত্যা অস্বীকার করছেÑ ঠিক তখন বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সরকারী ও স্বীকৃত পরিসংখ্যান অস্বীকার করে আবারও প্রমাণ করেছেন, একাত্তরে তিনি যেভাবে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অনুগত ছিলেন এখনও সেই অবস্থানে অটল রয়েছেন। তাঁরা বলেন, শুধু বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সরকারই নয়, সোভিয়েত বার্তা সংস্থা ‘তাস’, ‘ইউএনআই’ ও ‘ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিক’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংস্থা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ বলেছে। তবে গণহত্যাকারী পাকিস্তান এবং তাদের গণহত্যার সহযোগীরা সবসময় এই পরিসংখ্যান অস্বীকার করছে।

অবিলম্বে হলোকস্ট ডিনাইল এ্যাক্ট প্রণয়নের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতিহাস বিকৃতি প্রতিহতকরণের উদ্দেশ্যে গণহত্যার ভিকটিম ইউরোপের ১৪টি দেশ ‘হলোকস্ট অস্বীকৃতি আইন’ প্রণয়ন করেছে, যে আইনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গণহত্যার পরিসংখ্যান অস্বীকার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তখন থেকেই আমরা বহুবার ইউরোপের হলোকস্ট ডিনাইয়াল এ্যাক্টের মতো আইন প্রণয়নের দাবি করছি। এই আইন প্রণীত না হলে ভবিষ্যতে বিএনপি যদি কখনও ক্ষমতায় আসে তবে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার লেশমাত্র থাকবে না। একাত্তরের শহীদদের অবমাননাও বন্ধ হবে না।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিবাদ ॥ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইসমত কাদীর গামা ও মহাসচিব (প্রশাসন) এমদাদ হোসেন মতিন খালেদা জিয়ার মনগড়া, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের ৪৪ বছর পর শহীদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধা তথা সমগ্র জাতির মধ্যে যে অনৈক্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন, তা মোটেই কাম্য নয়। নেতৃদ্বয় বলেন, খালেদা জিয়ার এই বিভ্রান্তমূলক বক্তব্য প্রতীয়মান হয় যে, খালেদা জিয়া পাকিস্তানীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে একদিন হয়ত বলেই ফেলবেন, এদেশে কোন গণহত্যা হয়নি বা এদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: