মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

রিপাবলিকানরা কেন মুসলিমবিরোধী

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫
রিপাবলিকানরা কেন  মুসলিমবিরোধী
  • এনামুল হক

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থিতা লাভের লড়াইয়ে যে দু’জন প্রার্থী অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন তারা জয়লাভের জন্য এমন সব কৌশল বেছে নিয়েছেন যে, তাতে আমেরিকার ক্ষতি ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না। কৌশলগুলোর একটি হলো সন্ত্রাস ভীতিকে পুঁজি করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষের বিষবাষ্প ছড়ানো।

প্রার্থী দু’জনের অন্যতম ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে আহ্বান জানিয়েছেন যে, সন্ত্রাসের হুমকি চিহ্নিত না করতে পারা পর্যন্ত সরকারকে মুসলমানদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর সার্বিক ও পরিপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। একথা বলার একদিন পর এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয় তার এই পরিকল্পনা কিভাবে কাজ করবে। কারণ বেশিরভাগ পাসপোর্টে পাসপোর্টধারী কোন ধর্মের লোক তার যেখানে উল্লেখ থাকে না সেখানে সীমান্ত দিয়ে আগত লোকেরা যে মুসলমান রক্ষীরা তা বুঝবে কিভাবে? ট্রাম্প উত্তর দিয়েছিলেন, রক্ষীরা সোজা জিজ্ঞাসা করবে তুমি কি মুসলমান?

বলাবাহুল্য ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে তার দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাউকে ব্যঙ্গ বিদ্রƒপ করতে শোনা যায়নি। অথচ এভাবেই ট্রাম্প রক্ষণশীল ভোটারদের সমর্থন তার পক্ষে টেনে চলেছেন। তার জন্য তিনি সত্যকে পদদলিত করছেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের অপমান অপদস্থ করছেন এবং উদ্ভট সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন। মুসলমানদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার প্রস্তাব দেয়ার একটা বেআইনী ও লজ্জাকর প্রচারণা। অথচ যিনি সেটা করছেন রিপাবলিকান সমর্থকরা তাকেই জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশ্বস্ত বলে মনে করছে। দলের এমন একজন প্রার্থীই তাদের চোখের মণিতে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু এমন ধরনের প্রস্তাব দিয়ে ট্রাম্প যে এক বিপজ্জনক পথে পা বাড়িয়েছেন সে কথা ভেবে খোদ রিপাবলিকান নেতারাও উদ্বিগ্ন। অনেকে বলেছেন যে, ট্রাম্পের অমন প্রস্তাব আমেরিকার প্রতিষ্ঠার পেছনে যেসব মূল্যবোধ কাজ করেছে তার ওপর আঘাতস্বরূপ। ট্রাম্প যদিও বলেছেন যে, তার প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা মার্কিন নাগরিক মার্কিন সশস্ত্রবাহিনীর মুসলিম সৈন্য, এথলেস্ট ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না তথাপি রিপাবলিকান নেতারা জানেন যে সময় যত গড়াবে এই প্রস্তাবের কারণে মডারেট, তরুণ ও অশ্বেতাঙ্গ ভোটাররা উত্তরোত্তর এতই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে যে, সাধারণ নির্বাচনে তাদের ভোট হারাতে হতে পারে।

এটা ঠিক যে, সন্ত্রাসবাদ বিশেষ করে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় আমেরিকানদের অনেকের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শাসক এলিট শ্রেণী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এরা অনেক আগেই আস্থা হারিয়ে বসেছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থীরা। তারা একজোট হয়ে ওবামাকে সন্ত্রাস মোকাবেলায় দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় আখ্যায়িত করছে। ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ভোটারও তাদের মতো একই মত পোষণ করছে। তারা বলছে ইসলামী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা না করে ওবামা বরং ঐ শক্তিকে তোষণ করছেন। কিছু কিছু রিপাবলিকান প্রার্থী মার্কিন জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সন্ত্রাস আতঙ্ককে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে ওবামাকে অযোগ্য হিসাবেও ভর্ৎসনা করছেন। তারা বলছেন যে সন্ত্রাস মোকাবেলায় অগ্রাধিকার নির্ধারণেও ওবামা ভুল করছেন। এই প্রার্থীদের মধ্যে আছেন ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও, নিউজার্সির গবর্নর ক্রিস ক্রিস্টি এবং ফ্লোরিডার সাবেক গবর্নর জেব বুশ।

অন্য প্রার্থীরা বিশেষত ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ ভিন্ন কিছু করতে বদ্ধপরিকর বলে মনে হয়। ওবামাকে অযোগ্য হিসেবে নিন্দিত করার পরিবর্তে তারা আভাসে ইঙ্গিতে বলতে চাইছেন যে ওবামা ও তার সরকার আসলে অমঙ্গলকারী। ইসলামী সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কিছু বলতে ওবামার অনীহার কথা উল্লেখ করে মি. ট্রাম্প এক ধরনের ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন। রিপাবলিকান ইহুদী কোয়ালিশন নামক একটি সংগঠনের সদস্যদের তিনি বলেছেন, ‘উনি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাঁকে নিয়ে কিছু একটা চলছে যে ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না।’

ক্রুজ তো ওবামাকে র‌্যাডিকেল ইসলামের সমর্থক বলতেও ছাড়েননি। গত ৫ ডিসেম্বর আইওয়াবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এ্যাটর্নি জেনারেল লরেটা লিঞ্চ র‌্যাডিকেল ইসলামী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দেবে তাকেই বিচার করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন।’ কথাটা অসত্য। লিঞ্চ আসলে বলেছিলেন যে, মুসলিম বিরোধী সহিংসতার উস্কানি যেই দেবে তারই বিচার করা হবে। ক্রুজ বলেন, ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদকে আমি শয়তান আখ্যায়িত করছি। আমি অঙ্গীকার করছি যুক্তরাষ্ট্রে আমি শরিয়া আইন বলবৎ করতে দেব না। এখন লিঞ্চের সাহস থাকুক তো আমাকে গ্রেফতার করুক।’ উপস্থিত জনম-লী তার এই কথায় হর্ষধ্বনি করে ওঠে। এইভাবে ইসলামবিরোধী মনোভাব উস্কে দিচ্ছেন রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থীরা। এ এক বিপজ্জনক খেলা যা আমেরিকানদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

২৩/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: