২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কোন্ পথে পাক-ভারত ক্রিকেট?


মোঃ নুরুজ্জামান ॥ ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট দ্বৈরথকে কেবল ফুটবলে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনা করা যায়। টেস্টের ঐতিহাসিক লড়াই বলতে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড এ্যাশেজ সিরিজকেই বোঝায়। কিন্তু জনপ্রিয়তায় সেটি মোটেই ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের কাছে নয়। ক্রিকেটে উপমহাদেশের চিরশত্রু দুই প্রতিবেশীর ম্যাচ দেখতে মূলত গোটা বিশ্বই দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দুঃখজনক হলেও সত্যি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আকর্ষণীয় এই দ্বৈরথ। সহসা হওয়ার সম্ভাবনাও কম! খোদ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান শাহরিয়ার খানের বক্তব্যেই সেটি পরিষ্কার। ‘পাকিস্তান-ভারত সিরিজের চ্যাপ্টার এখানেই ক্লোজ!’ ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বলেন শাহরিয়ার। উল্লেখ্য, সিরিজের সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চেয়ে ভারত ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) একটি মেইল বার্তা পাঠায় পিসিবি। সেখানে সিদ্ধান্ত নিতে সময়সীমা বেঁধে দেয়া ছিল। বিসিসিআই ওই মেইলের জবাব দেয়নি। পাকিস্তান তাই চূড়ান্ত হতাশার পর এমন ঘোষণা দেয়। আলোচিত সিরিজটি নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। ভারত রাজি না হলে আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিল পাকিস্তান। তবে সেটি আত্মঘাতী হবে বলে মনে করেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। পাশাপাশি সিরিজ প্রসঙ্গে হতাশা প্রকাশ করেছেন গ্রেট এই ক্রিকেটার। ক্রিকেটকে রাজনীতির সঙ্গে মেলানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির আরেক কিংবদন্তি ইমরান খান। কিন্তু রাজনীতির কাছে সবই যেন অসহায়। পাক-ভারত সিরিজ কেবল দু’দেশের ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে চিরবৈরি দুই পরাশক্তির রাজনৈতিক অবস্থা জড়িত। পাকিস্তান সরকার সিরিজ খেলতে ক্রিকেটারদের ছাড়পত্র দিলেও ভারতের মোদি সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সঙ্কেত মেলেনি। ফলে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে সাবেক দুটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বিষয়টি ঝুলে ছিল। বিসিসিআইর বরাবর পিসিবির পাঠানো মেইলে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিরিজের ব্যাপারে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ জানাতে হবে। কিন্তু বিসিসিআই তার উত্তর দেয়নি। আর তাতেই সিরিজের সম্ভাবনায় সমাপ্তি টানে পাকিস্তান। ১৪ ডিসেম্বর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে পিসিবি বস শাহরিয়ার বলেন, ‘হ্যাঁ আমরা মেইলের মাধ্যমে জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তারা কিছুই জানায়নি। আমি তাই পরিষ্কার বলতে চাই, সিরিজটি আর হচ্ছে না!’ প্রাণানন্তকর প্রচেষ্টায় ক্ষান্ত দেয়া শাহরিয়ার যোগ করেন, ‘আমরা ভারতের মাটিতে খেলার ব্যাপারে সবদিক ভেবে দেখেছি। সেটি সম্ভব না হওয়ায়, আরব আমিরাতে সিরিজটি করতে চেয়েছিলাম। ভারত তাতেও আগ্রহ দেখায়নি। এরপর তাদের কথা মতো নিরপেক্ষ ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় এটি আয়োজনের চেষ্টা করেছি। তাতেও ভারতের সম্মতি পাওয়া গেল না! আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সফল হইনি। পুরো ক্রিকেট বিশ্ব হতাশ।’ হতাশ হলেও টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত হবে না বলে মনে করেন সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক আকরাম। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এত আন্তরিকতার পরও কেন ভারত সরকার এ নিয়ে সময় নষ্ট করছে। তবু এজন্য আমাদের টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত হবে না। কারণ এটি আইসিসির প্রতিযোগিতা। তাতে ভবিষ্যত প্রজন্মের ক্ষতি হবে।’ এ নিয়ে এমনকি দুতিয়ালির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন পাকিস্তান গ্রেট ইমরান। দেশটির অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফের চেয়ারম্যান ইমরান খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করে এ নিয়ে কথা বলেন। ‘পাক-ভারত সিরিজটি অবশ্যই হওয়া উচিত। দুই দেশের ক্রিকেট বন্ধ রেখে সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে লড়াই কোন সঠিক উত্তর হতে পারে না। কিছু অসুস্থ ব্যক্তির বিকৃত কাজের জন্য এ সিরিজটি বয়কট হতে পারে না।’ ক্রিকেটার থেকে ঝানু রাজনৈতিক বনে যাওয়া ইমরান আরও যোগ করেন, ‘আমি একসময় দক্ষিণ আফ্রিকাকে নির্বাসিত করার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছিলাম। কারণ, সেখানে বর্ণবৈষম্যের ব্যাপকতা ছিল। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করার মতো কর্মকা হতো। কিন্তু, সবসময় চেয়েছি ক্রিকেট যেন কখনও বন্ধ না থাকে। দু-দেশের মধ্যে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক বাড়াতে খেলাধুলার অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে।’

উদাহরণ টেনে ইমরান বলেন, ‘যেমন, পাকিস্তানে শচীন টেন্ডুলকরকে যেভাবে মানুষ ভালবাসে, ঠিক সেভাবেই ভারতের নাগরিকরা ওয়াসিম আকরামকে ভালবাসে।’ মোদি ইমরানকে কি জানিয়েছেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি, দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেট চালিয়ে নিতে। আমার কথা শুনে মোদিজি শুধু হেসেছেন। আমি বুঝতে পারছি না তার হাসিতে তিনি ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ বুঝিয়েছেন! তবে, আমি ইতিবাচক মানুষ, তাই সিরিজটি নিয়েও ইতিবাচক কিছুই ভাবছি।’ সম্ভাবনা শেষ হওয়ার আগে পাকিস্তান-ভারত সিরিজ ঘিরে নাটক কম হয়নি। কখনও শোনা গেছে আলোচিত সিরিজটি ঝুলে গেছে। আবার ভারত এটি নিজেদের মাটিতে খেলতে চায়, নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক কারণে পাকিস্তান কিছুতেই প্রতিপক্ষ দেশে যেতে রাজি নয়। ঘরের মাটির ফিরতি সিরিজটি তারা নিরপেক্ষ ভেন্যু আরব আমিরাতেই খেলতে চাইছিল। এন শ্রীনিবাসন বিসিসিআই সভাপতি থাকাকালে পিসিবির সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে খেলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যেখানে এই সিরিজটি হবে পাকিস্তানেরই ‘হোম’ সিরিজ। ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কান দল বহনকারী বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই পাকিস্তান আমিরাতকে হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। যেহেতু এটা পাকিস্তানের ‘হোম’ সিরিজ তাই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার কেবল পিসিবিরই। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মুম্বাইর তাজ হোটেলে হামলা হয়।