১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

বিপিএলে ‘৫০ ভাগও দিতে পারিনি’ ॥ তাসকিন


বিপিএলে ‘৫০ ভাগও দিতে পারিনি’ ॥ তাসকিন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল টি২০) শেষ হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর। এ টুর্নামেন্টে পেসার তাসকিন আহমেদ খেলেছে চিটাগাং ভাইকিংসের হয়েছে। যে দলটি বিপিএলের এবারের আসর থেকে সবার আগে বিদায় নিয়েছে। ইনজুরি থেকে মুক্ত হয়ে এ টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচ খেলতে পেরেছেন এ পেসার। কিন্তু মাত্র ৪ উইকেট নিতে পেরেছেন। নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর তাই বলেও দিয়েছেন, ‘বিপিএলে ৫০ ভাগও দিতে পারিনি।’ বিপিএল নিয়ে তাসকিনের বলা কথাগুলোর সার সংক্ষেপ এখানে তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন ॥ বিপিএলে নিজের পারফর্মেন্সটা কেমন হলো?

তাসকিন আহমেদ ॥ আমি আমার পারফর্মেন্সে সন্তুষ্ট না। কারণ আল্লাহ আমাকে সামর্থ্য দিয়েছেন, সেটার মনে হচ্ছে আমি আমার ৫০ ভাগও দিতে পারিনি। আমি এর থেকে অনেক ভাল বোলিং করি। আমার যেটা মনে হয়েছে একটু ‘ল্যাক অব বোলিং’ ছিল। কারণ সবাই তো বিপিএলের আগে যথেষ্ট অনুশীলন করেছে। কিন্তু আমি ইনজুরি থেকে উঠেই এই বড় টুর্নামেন্টটা খেলতে এসেছি। তো প্রথম দিকের কয়েকটি ম্যাচ খুবই খারাপ হয়েছে। যা চেয়েছি সেটা হয়নি। বল এদিক-ওদিক পড়েছে। কিন্তু শেষ চার ম্যাচে ভাল বোলিং করেছি। কিন্তু তখন তো টুর্নামেন্টই শেষ। তো যেটা হয়েছে। ওই ভুলগুলো শোধরানোর জন্য এখন অনেক অনুশীলন করছি। এখন বিশ্রাম হলেও আমি আমার বোলিং অনুশীলনটা করছি। অনুর্ধ ১৯ এর সঙ্গে এক অনুশীলন ম্যাচও খেলব আগামীকাল (আজ)।

প্রশ্ন ॥ আপনি বললেন শতভাগ দিতে পারেননি। কিন্তু এই বিপিএলে সবার একটা নজর ছিল। নিজের দিক থেকে যদি দেখেন আরও কয়েকজন বোলার ভাল করেছেন। জাতীয় দলের ওই দিক থেকে চিন্তা করলে নিজের অবস্থা কেমন মনে হয়?

তাসকিন ॥ আল্লাহর রহমতে সব পেস বোলাররা এখন ভাল করছে। প্রতিযোগিতা এখন অনেক। প্রতিযোগিতা বেশি থাকলেই ভাল। তাহলে আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতি হবে। প্রতিযোগিতা বেশি থাকলে সব খেলোয়াড়ের হার্ডওয়ার্কের পরিমাণও বাড়াতে হয়। তারা চাইবে তাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে তার থেকেও বেশি উন্নতি করার জন্য। এটা ভাল যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এতে আমাদের সবারই মাথায় থাকবে যে কেউ রিল্যাক্স হতে পারবে না, কারও জায়গাই স্থায়ী নয়। এটা খুব ভাল ক্রিকেটের জন্য।

প্রশ্ন ॥ আবু হায়দার রনি এবার খুব ভাল করেছে। এছাড়া আল আমিন, মাশরাফি, মুস্তাফিজরা আছেন। আপনার দলের শফিউল প্রায় সব ম্যাচই খেলেছে, ভাল করেছেন। এখন আপনি এবং রুবেল যদি নিজেদের দিক থেকে দেখেন, জাতীয় দলে যাওয়াটা কি কঠিন হয়ে যাচ্ছে?

তাসকিন ॥ না কঠিনের কিছু নেই এখানে। কঠিন হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, যারা পারফর্ম করবে এবং এখানে বিশেষজ্ঞরা আছেন, নির্বাচকরা আছেন, বড় বড় কোচ আছেন। তারা যেটা ভাল মনে করবেন সেটাই করবেন। এটাও মাথায় রাখতে হবে একেকটা বোলারের ধরন একেক রকম। রুবেল ভাই এবং আমি একটু আলাদা ধরনের বোলার, থ্রেট বোলার। আমরা ফাস্ট বোলার। মুস্তাফিজ এক ধরনের বোলার, মাশরাফি ভাই অভিজ্ঞ আছেন, আল আমিন স্যুইং বোলার। একেকজন একেক রকম বোলার। তো যে যার কাজ তাকে সেটা মাঠেই করতে হবে। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া বা না পাওয়া নিয়ে চিন্তা করলে চাপ ছাড়া কিছুই নয়। তো এটা নিয়ে চিন্তা না করে আমার যে অনুশীলনগুলো আছে শতভাগ দিয়ে সেরা চেষ্টা করার দিকেই আমি ফোঁকাস করছি। কারণ, জাতীয় দলে আমি সেরা চেষ্টা করি তারপর নির্বাচক আছেন, কোচ আছেন এটা তাদের বিষয়। বাংলাদেশ দলের জন্য যেটা ভাল হবে অবশ্যই সেটা হবে। আমরা সবাই চাই সেটাই হোক। এটা নিয়ে চিন্তা না করে আমি আমার অনুশীলন করে যাই। বাকি সব আল্লাহর হাতে।

প্রশ্ন ॥ গত টি২০ বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ দিয়ে আপনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসেছেন। আরেকটি বিশ্বকাপ সামনে। নিজের কতটুকু আশা যে ওই টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন?

তাসকিন ॥ অবশ্যই আশা আছে। কারণ, একটা বিপিএল টুর্নামেন্ট দ্বারা বিচার করা যায় না যে এই খেলোয়াড়টা খারাপ। আপনারা যদি দেখেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার রেকর্ড আল্লাহর রহমতে ভাল। আমি ভাল করেছি, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছি। শেষ কয়েকটি সিরিজে ভাল করেছি। দুটি সিরিজ মিস করেছি ইনজুরির কারণে। বিপিএলটা ইনজুরি থেকে এসেই খেলেছি। প্রপার রিদম ছিল না। রুবেল ভাইও দেখবেন ইনজুরি থেকে এসে খেলেছেন প্রথম দিকে রিদম ছিল না। পরের দিকে ভাল হয়েছে। আমারও ভাল হয়েছে। তো এসব নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। একটা বিপিএল খারাপ করেছি বলে আমার জীবন শেষ, এটা ভুল। আল্লাহ আমাকে অনেক সামর্থ্য দিয়েছেন। আমি সেটা বিশ্বাস করি। আমি অনেক ভাল বোলার এটা আমি বিশ্বাস করি। কঠোর পরিশ্রম করলে আরও ভাল বোলার হব। আর অবশ্যই স্বপ্ন বিশ্বকাপ খেলা। এটা সবারই থাকে। আমিও চেষ্টা করব যেন জাতীয় দলে আবারও ভালভাবে জায়গা করে নিতে পারি।