২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মদনে চতুর্মুখী লড়াই ॥ আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রচারে এগিয়ে


সঞ্জয় সরকার, নেত্রকোনা ॥ জমে উঠেছে নেত্রকোনার মদন পৌরসভার নির্বাচন। জেলার পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে ভাটি জনপদের এ পৌরসভায়। মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থী থাকলেও এখানে চার প্রার্থীর চতুর্মুখী লড়াই হচ্ছে। চার প্রার্থীর মধ্যে সবার দৃষ্টি কাড়ছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী। আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত এই বিদ্রোহী প্রার্থী অপর তিন প্রার্থীর ঘুম-খাওয়া-দাওয়া হারাম করে দিয়েছেন। মদন পৌরসভার মেয়র প্রার্থীরা হলেনÑ বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান মোদাচ্ছের হোসেন শফিক (জগ), আওয়ামী লীগ মনোনীত একেএম সাইফুল ইসলাম হান্নান (নৌকা), বিএনপি মনোনীত মাশরিকুর রহমান বাচ্চু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত ফিরোজ খান (লাঙ্গল) ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল হান্নান তালুকদার শামীম (নারিকেল গাছ)। এলাকায় জাতীয় পার্টির তেমন অবস্থান না থাকায় ফিরোজ খান কোন আলোচনা-সমালোচনায় নেই। কিন্তু বাকি চারজনই প্রাণপণ লড়াইয়ে নেমেছেন।

পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তি ইমেজের কারণে বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান মোদাচ্ছের হোসেন শফিক এলাকায় বেশ গ্রহণযোগ্য। সাবেক এই বিএনপি নেতার দুটি ওয়ার্ডে নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে একেএম সাইফুল ইসলাম হান্নানকে মনোনয়ন দেয়ায় দলের একটি অংশ খুশি হলেও আরেকটি অংশ নাখোশ। নাখোশ কর্মীরা সমর্থন দিচ্ছেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল হান্নান তালুকদার শামীমকে। ওই বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। সমঝোতা বৈঠক থেকে শামীমকে পাঁজাকোলা করে করে তুলে নিয়ে গেছেন তার সমর্থকরা। অনেকের মতে, প্রচারে শামীমই সবার চেয়ে এগিয়ে। বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের একটি বড় অংশও সমর্থন দিচ্ছেন তাকে। এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী একেএম সাইফুল ইসলাম হান্নানের সবচেয়ে বড় ভরসা এখন ‘নৌকা প্রতীক’। তার সমর্থকরা মনে করছেন, যারা আওয়ামী লীগের ভোটার তারা শেষ পর্যন্ত নৌকাতেই ভোট দেবেন। এছাড়া আরেকটি আশ্চর্য (!) মেরুকরণ দেখা গেছে তার পক্ষে। নিজ দলীয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও সরকারী দল মনোনীত এই প্রার্থীর জন্য প্রচারে নেমেছেন বিএনপিদলীয় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ হারেছ। জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বিএনপি থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার প্রতি এলাকায় জনমত নেই।’

এদিকে মদন এলাকাটি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের দুর্গ বলে পরিচিত। এখানে বিএনপির অবস্থানও অনেক শক্ত। এ কারণে প্রচারে পিছিয়ে থাকলেও ‘ধানের শীষ’ মার্কার কারণে মাশরিকুর রহমান বাচ্চুও লড়াইয়ে টিকে থাকবেন বলে আশা করছেন তার সমর্থকরা। তবে বিএনপির এই প্রার্থীর পক্ষে তার দলের অনেককেই মাঠে নামতে দেখা যায়নি।