মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

শেষ হতে অনেক বাকি ॥ আফগান যুদ্ধ

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫
  • তালেবান হামলায় ৬ মার্কিন সৈন্য নিহত, সেনারা ঝুঁকির মুখে ॥ এ্যাশটন কার্টার

কাবুলের কাছে সোমবার তালেবানের অতর্কিত হামলায় ৬ মার্কিন সৈন্য নিহত হওয়ার ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে আফগান যুদ্ধ শেষ হতে এখনও অনেক বাকি রয়েছে। আফগানিস্তানজুড়ে যে সহিংসতা ফের মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে মার্কিন সৈন্যদের ওপর সর্বশেষ এ হামলা বিশেষভাবে দেখিয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগান যুদ্ধ মিশন যুক্তরাষ্ট্রের নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে আনার যে পরিকল্পনা করেছিলেন তা আদৌ সম্ভব হবে কী না সেটি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। খবর এএফপি, বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইনের।

আফগানিস্তানের বাগরাম বিমান ঘাঁটির কাছে সোমবার আফগান-মার্কিন যৌথ সেনা টহল দলের ওপর চালানো আত্মঘাতী বোমা হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সোমবার এক আত্মঘাতী মোটর সাইকেলযোগে এসে হামলাটি চালায় বলে জানান কর্মকর্তারা। তালেবান এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। চলতি বছর মার্কিন সেনা লক্ষ্য করে যতগুলো হামলা হয়েছে তার মধ্যে প্রাণহানির দিক থেকে এটা সবচেয়ে বড় ঘটনা। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, গত তিন বছরে এটি তাদের বাহিনীর ওপর সবচেয়ে বড় হামলা। এ হামলায় ছয় জন নিহত হওয়া ছাড়াও দুই মার্কিন সৈন্য আহত ও তিন আফগান পুলিশ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পারওয়ান প্রদেশের পুলিশ প্রধান। বাগরাম জেলার গবর্নর আব্দুশশুকুর কুদুসি জানান, আফগান-মার্কিন যৌথ টহল দলের কাছে এসে এক ব্যক্তি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এ হামলা ও সম্প্রতি চালানো আরও কয়েকটি হামলা একটি বিষয় জানিয়ে দিচ্ছে যে তালেবান এখনও বড় ধরনের হামলা চালানোর সামর্থ্য রাখে। এসব ঘটনা স্পষ্টই বলে দিচ্ছে, প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে আফগান যুদ্ধ শেষ করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ্যাশটন কার্টার শুক্রবার বাগারাম ঘাঁটি পরিদর্শন করে যাওয়ার দুই দিন পর হামলাটি চালান হলো। সেনা নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় কার্টার বলেন, ‘ আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দায়িত্ব স্থানীয় বাহিনীগুলোর কাছে হস্তান্তরের পর অনেকদিন পার হলেও দেশটিতে মার্কিন সেনারা কতটা ঝুঁকির মুখে আছে এ ঘটনা তা বেদনার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, আফগানিস্তানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন সৈন্যরা স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাবে। গত সপ্তাহেই আফগানিস্তানের দুর্বল নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল পেন্টাগন। গত বছর আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্যদের একটি বড় অংশ দেশে ফিরিয়ে আনার পর অবশিষ্ট সেনাদের অধিকাংশ রাখা হয়েছিল রাজধানী কাবুলের ৪০ কিলোমিটার উত্তরের বাগরাম ঘাঁটিতে। ২০০১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ঘাঁটিটি ব্যবহার করে এসেছে। আফগানিস্তানে এখনও ৯ হাজার ৮শ’ মার্কিন সেনা আছে।

এদিকে খবর পাওয়া গেছে, একই দিনে তালেবান দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশে তাদের অবস্থান সংহত করার পাশাপাশি সাঙ্গিন জেলাও দখল নেয়ার মতো অবস্থায় চলে এসেছে। আফগান নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সাঙ্গিনে জঙ্গী হামলার ঘটনা স্বীকার করলেও তারা জানিয়েছেন, শহরটির পতন এখনও ঘটেনি। বিষয়টি আফগানিস্তান সরকারের জন্য উদ্বেগজনক। বিদেশী কোন শক্তির সহায়তা ছাড়া তালেবান এককভাবে এভাবে হামলা চালাতে পারে কী না সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে তারা গুরুত্বপূর্ণ কুন্দুজ শহর দখল করে নিয়েছিল, পরে অবশ্য আফগান বাহিনী সেটি পুনর্দখল করেছে। ডিসেম্বর মাসে জঙ্গীরা দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশের একটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ এবং কাবুলের সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় হামলা চালিয়েছিল।

মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, তালেবানের সর্ব সাম্প্রতিক এসব হামলার দুটো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। একটি হলো আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর তুলনায় নিজেদের শক্তি সামর্থ্য তুলে ধরা। আরেকটি হতে পারে নয়া তালেবান নেতা দলের মধ্যে নেতৃত্ব সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছেন। পেন্টাগনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আফগানিস্তানে বহুজাতিক জোটের মার্কিন কমান্ডার জন ক্যাম্পবেল বলছেন, ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ২০১৫ সালের ১১ মাসে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর স্বাধীনভাবে লড়াই করার ক্ষমতা বেড়েছে। অন্যদিকে, তালেবান কৌশলগতভাবে কোন লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

২৩/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: