১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

শিবগঞ্জের আকাশে উড়ছে টাকা


ডিএম তালেবুন নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ দিগন্ত বিস্তৃত আমবাগানের ছায়ার নিচে অবস্থিত সোনামসজিদ বন্দর আর সহস্র বছরের পুরাকীর্তিসমৃদ্ধ ও অসংখ্য কোটিপতির পৌরসভা শিবগঞ্জ। এবার ভোটকে কেন্দ্র করে সর্বত্র উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। যদিও শিবগঞ্জকে বর্তমানে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে চিহ্নিত করার পরও এখানে এবার ত্রিমুখী লড়াই হবে মেয়র পদে। পৌরসভাসহ পুরো উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন দীর্ঘ সময় ধরে অনেকটাই পুরুষশূন্য হিসেবে চলে এলেও হাঠাৎ করেই এসব অঞ্চলের পুরুষ লোকজন ফিরে এসেছে। যদিও এদের সিংহভাগ শিবগঞ্জ পৌরসভার ভোটার নয়, তারপরও তারা সহযোগিতা ও প্রচারে অংশ নিতে শিবগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। এসব বহিরাগতরা ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে অবস্থান নেবে। প্রয়োজনে হয়তবা সন্ত্রাসও করতে পারে- এমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছে। মহিলা ভোটারদের পক্ষে আনার জন্য জামায়াতের বহিরাগতরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীরা তাদের মহিলা সদস্যদের নিয়ে শিবগঞ্জের প্রতিটি বাড়িতে যাচ্ছে। অনুরূপভাবে একই স্টাইলে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষেও প্রচারে নেমেছে বিভিন্ন ইউপির পলাতক বিএনপি সন্ত্রাসীরা। এসব কারণে শিবগঞ্জ পৌরসভার সর্বত্র আনন্দের পরিবর্তে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ এদের তা-ব ও সন্ত্রাস তারা অতীতে দেখেছে। আবার সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়তে পারে এই আশঙ্কা করছে শিবগঞ্জের ভোটাররা। এছাড়াও রয়েছে টাকার ছড়াছড়ি। শিবগঞ্জের আকাশে এখন টাকা উড়ছে। তা ছড়াচ্ছে ২০ দলের সন্ত্রাসীরা।

শিবগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র এসব সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কারণে মন্ত্রণালয় থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে একাধিক মামলা মাথায় নিয়ে পলাতক হয়েছেন। তাই এবার বিএনপি শফিকুল ইসলাম নামের এক বিষ ব্যবসায়ীকে প্রার্থী করেছে। এখানকার হেভিওয়েট সমর্থক বিএনপির সাবেক এমপি ও হুইপ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহানের সঙ্গে অতীতেও জামায়াতের সম্পর্ক ভাল ছিল না। এবারের পৌর নির্বাচনেও পূর্বের শত্রুতা ও ব্যবধান আরও তীব্র হওয়ার কারণে জামায়াত জাফর আলী নামে এক প্রভাবশালী রুকন ও জামায়াত নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে মাঠে নামিয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হওয়ার কারণে সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীর প্রার্থী কারিবুল হক রাজিন ও প্যানেল মেয়র ইমান আলী বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নড়েচড়ে বসে। তারপরও ইমান আলী সরে দাঁড়ালেও এমপির মদদপুষ্ঠ কারিবুল হক এখনও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মঈন খান। তাকে সমর্থন দিয়েছে পুরনো ও আদি মাঠপর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এসব নিয়ে এবার ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যেহেতু পৌরসভার উন্নয়ন দরকার তাই তারা এবার ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রতীককে মেয়র দেখতে চাচ্ছেন। তাই এবার শিবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে জোর ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে সবার ধারণা।