১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ভোজ্য লবণের আড়ালে প্যাকেটজাত হচ্ছে ক্ষতিকর সোডিয়াম সালফেট!


নিজস্ব সংবাদদাতা, পটিয়া ॥ ভোজ্য লবণের আড়ালে প্যাকেটজাত হচ্ছে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সোডিয়াম সালফেট। এটি ভোজ্য লবণ হিসেবে নিষিদ্ধ হলেও অতি মুনাফার লোভে একশ্রেণীর অসাধু লবণ মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা সোডিয়াম সালফেট আমদানি করে বাজারজাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলত সোডিয়াম সালফেট দেশের টেক্সটাইল ও ডায়িং ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন কারখানায় ব্যবহার হয়ে থাকে। চট্টগ্রামের পটিয়া লবণ শিল্প নগরীর ইন্দ্রপোলের চাঁনখালী সল্ট ক্র্যাশিং এ্যান্ড রিফাইনারি ইন্ডাস্ট্রিজে সোডিয়াম ক্লোরাইডের (ভোজ্য লবণ) আড়ালে সোডিয়াম সালফেট (কারখানার লবণ) প্যাকেটজাত করার বিষয়টি ফাঁস হলে তোলপাড় শুরু হয়।

সোমবার পটিয়া ইন্দ্রপোল লবণ মিল মালিক সমিতির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ আবদুল মোনাফ, চট্টগ্রাম লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ নুরুল কবির, ইন্দ্রপোল লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফজলুল হক, সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পটিয়া ইন্দ্রপোল চাঁনখালী সল্ট ক্র্যাশিং এ্যান্ড রিফাইনারি ইন্ডাস্ট্রিজ নামের কারখানার মালিক মৃত আবু তালেবের ওয়ারিশদের থেকে দু’বছর আগে ভাড়া নিয়ে কারখানাটি পরিচালনা ও লবণ প্যাকেটজাত করে আসছেন জনৈক নিয়াজ আহম্মেদ। তিনি এ কারখানায় উৎপাদিত লবণের ব্যান্ড নাম দিয়েছেন কুকমি সল্ট ও সিয়াম সুপার সল্ট। এ নামের প্যাকেটে সোডিয়াম ক্লোরাইড (ভোজ্য লবণ)-এর পরিবর্তে প্যাকেটজাত করছেন সোডিয়াম সালফেট (কারখানায় ব্যবহৃত লবণ)। গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পটিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) গৌতম বাড়ৈ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভোজ্য লবণের পরিবর্তে সোডিয়াম সালফেট প্যাকেটজাত করার বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে। ওই সময় তিনি (এসিল্যান্ড) ৪০০ বস্তা সোডিয়াম সালফেট জব্দ করেন এবং তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে সোডিয়াম সালফেটসহ কারখানাটি সীলগালা করে দেন।

পটিয়া ইন্দ্রপোল লবণ মিল মালিক সমিতির সেক্রেটারি ফজলুল হক আল্লাই জানিয়েছেন, সোডিয়াম ক্লোরাইডের (ভোজ্য লবণ) পরিবর্তে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সোডিয়াম সালফেট প্যাকেট করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের চাঁনখালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ বির্তকিত করেছেন। চক্রটি সোডিয়াম আমদানির পাশাপাশি বন্দরে পণ্য খালাসের সময় মিথ্যা ডিক্লারেশন এবং রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। সোডিয়াম ক্লোরাইডের পরিবর্তে সাডিয়াম সালফেট লবণ প্যাকেটজাতকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিতে লবণ মিল মালিকরা দাবি জানান।