মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

আন্দোলনে নামছেন সরকারী কলেজ শিক্ষকরা

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫
  • ৪ ও ৫ জানুয়ারি পরীক্ষা বর্জনসহ কর্মবিরতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পে স্কেলে মর্যাদাহানির প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ৪ ও ৫ জানুয়ারি দেশের সকল সরকারী কলেজ ও সংশ্লিষ্ট দফতরে পরীক্ষা বর্জনসহ পূর্ণ দিবস কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন সরকারী কলেজ শিক্ষকরা। সারাদেশে ৩০৫ সরকারী কলেজ, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে এ কর্মসূচী পালিত হবে। অষ্টম বেতন কাঠামোতে সরকারী কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে মন্তব্য করে বেতন বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সাড়ে ১৫ হাজার সদস্যের মর্যাদা ও বেতন সমুন্নত রাখার দাবি শিক্ষকদের। বেতন বৈষম্য রেখে পে স্কেল বাস্তবায়নের খবরে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে সরকারী কলেজ শিক্ষকদের বৈষম্যের নানা দিক। তারা বলেছেন, এটা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নয়। এটা শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন। সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচীর ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক নাসরীন বেগম। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মহাসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব শিক্ষক নেতা শাহেদুল খবীর চৌধুরী, সমিতির সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী, যুগ্ম মহাসচিব মাসুদ রানা, সদস্য কুদ্দুস সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবা খানমসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। শিক্ষক নেতারা বলেন, সারাদেশে পে স্কেল নিয়ে ব্যাপক আন্দোলনের মধ্যেই বৈষম্য নিরসন কমিটি করা হলো। সকলে আশা করেছিলেন অবশ্যই শিক্ষকদের বৈষম্যের অবসান হবে। কিন্তু তার কোন প্রতিফলন দেখা গেল না। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে বলেও হতাশা প্রকাশ করেন শিক্ষকরা। র্শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিকে বিবেচনায় না এনে অধ্যাপক পদের বেতন স্কেল ও গ্রেড অবনমন করা হয়েছে। সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বাতিল করায় প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপকসহ র্শিক্ষা ক্যাডারের সকল স্তরের বেতন বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শিক্ষা ক্যাডারের ১৫ হাজার সদস্য এটি উপভোগ করতে পারছে না। প্রাপ্য মর্যাদায় উন্নীত না করে স্কেল ও পদ অবনমনে শিক্ষকরা মর্মাহত। শিক্ষা ক্যাডারের বৈষম্য দূর করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নাসরীন বেগম বলেন, সরকার আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নিলে আগামী ৪ ও ৫ জানুয়ারি সরকারী কলেজের শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জনসহ পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন। নতুন বেতন কাঠামোতে অধ্যাপকদের পদমর্যাদা ও বেতনক্রমের অবনমন করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার ক্ষুণœ করার শামিল। বলেন, অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পঞ্চম থেকে সরাসরি তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের পঞ্চম গ্রেডের সহযোগী অধ্যাপকরা পদোন্নতি পেয়ে চতুর্থ গ্রেডে অধ্যাপক হতেন। চতুর্থ গ্রেডের অধ্যাপকদের অর্ধেক সিলেকশন গ্রেড পেয়ে তৃতীয় গ্রেড পেতেন। নতুন বেতন কাঠামোয় সিলেকশন গ্রেড বাতিলের ফলে অধ্যাপকদের চতুর্থ গ্রেড থেকেই অবসরে যেতে হবে। ফলে মর্যাদা ছাড়াও বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। বেতন কাঠামো চূড়ান্তের আগে অর্থ সচিবের সঙ্গে শিক্ষকদের সভা হয়েছিল জানিয়ে নাসরীন বেগম বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের বৈষম্য নিরসনে সচিব আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু বেতন কাঠামোর গেজেটে কোন দিক নির্দেশনা নেই। আমাদের সঙ্গে রীতিমত প্রতারণা করা হয়েছে।

অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতো ১ জুলাই থেকেই পঞ্চম গ্রেডের সহযোগী অধ্যাপকদের অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে তৃতীয় গ্রেডের বেতন দিতে সরকারী আদেশ জারির দাবি জানান সমিতির সভাপতি। নায়েম মহাপরিচালক, এনসিটিবি চেয়ারম্যান, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জেলা সদরের অনার্স ও মাস্টার্স কলেজের অধ্যক্ষের পদকেও গ্রেড-১ এ উন্নীত করার দাবি জানান তিনি।

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

২৩/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



শীর্ষ সংবাদ:
রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি মিয়ানমারের ॥ সমাধান ওদের হাতে || বাবার ফেরার অপেক্ষায় পিতৃহারা অবোধ রোহিঙ্গা শিশুরা || বছরে রফতানি আয় বাড়ছে ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার || চালের বাজারে স্বস্তি প্রতিদিন দাম কমছে || বিদ্যুতের পাইকারি দর ১১.৭৮ ভাগ বৃদ্ধির সুপারিশ || মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিষদের ওপর || রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্য সেবায় ২৫ কোটি ডলার চেয়েছে বাংলাদেশ || আরও মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক || অপকৌশলে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা, বিপুল অর্থ আদায় || জেলে মাদক ও মোবাইল ফোন ব্যবহার ॥ সারাদেশে দুই শতাধিক কারারক্ষী গোয়েন্দা নজরদারিতে ||