২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আমাকে নিয়ে খালেদার মন্তব্য পুরোটাই তার কল্পনা ॥ নুরুল ইসলাম


স্টাফ রিপোর্টার ॥ আমি রাজাকার বা আলবদর ছিলাম না, একাত্তরে আমি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই কাজ করেছি। খালেদা জিয়া আমাকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা পুরোটাই তার কল্পনা। মঙ্গলবার সন্ধায় জনকণ্ঠ কার্যালয়ে এমনভাবেই কথাগুলো বলছিলেন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা মাওলানা মোঃ নুরুল ইসলাম।

সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মাওলানা নুরুল ইসলামকে নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের নিজের ঘরেই মুক্তিযোদ্ধার নাম দিয়ে যুদ্ধাপরাধী পালে, মন্ত্রী বানায়। এসব তারা চোখে দেখে না। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেই। মাওলানা নুরুল ইসলাম কী মুক্তিযোদ্ধা ছিল? সেই রাজাকারকে মন্ত্রী বানিয়ে জাতীয় পতাকা দিয়েছিল শেখ হাসিনাই। নিজের বিষয়ে খালেদা জিয়ার এসব মন্তব্যের পর সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী মঙ্গলবার জনকণ্ঠ কার্যালয়ে আসেন এবং জনকণ্ঠের কাছে খালেদা জিয়ার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে আমি ছিলাম জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি থানার প্রগলদীঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমার স্কুলের অনেক ছাত্রই যুদ্ধে গিয়েছিল। অনেক সময় আমার ছাত্ররা রাতে আমার বাড়িতে আসত। আমি ওদের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করতাম। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে আমি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাই। বিএনপির মহাসচিব আব্দুস সালাম তালুকদার আমার কাছে পরাজিত হয়।

পরে সেই থেকেই খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আমাকে রাজাকার বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে। তিনি বলেন, রাজাকার ছিল পাকিস্তানের একটা আধাসামরিক বাহিনী। তারা বেতনভুক্ত ছিল। আমি কখনও রাজাকার ছিলাম এটা কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না। আমি রাজাকার ছিলাম, পারলে খালেদা জিয়া এটা প্রমাণ করুক বলে খালেদা জিয়াকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, আমার এলাকার প্রতিটি মানুষই জানে আমি কী ছিলাম। আমি রাজাকার-আলবদর ছিলাম কি-না, আমার এলাকার মানুষই বলবে। আমি ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর সমর্থক ছিলাম। পরে নব্বইয়ের দশকে আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় হই। এরপর ’৯৬-তে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে সরিষাবাড়ি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেন।

স্বাধীনতাযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তো উনি (খালেদা জিয়া) ছিলেন ক্যান্টনমেন্টে। তিনি কিভাবে জানবেন কত লোক মরেছে। স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করাও ওনার উচিত হবে না। তিনি এখন কল্পনার রাজ্যেই আছেন, বাস্তবে নেই বলেও মন্তব্য করেন মাওলানা নুরুল ইসলাম।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: