২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

স্বাধীন বাংলা বেতারের শব্দসৈনিক রাশিদুল হোসেনের ইন্তেকাল


স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দীপনা জাগিয়ে রাখতে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র দখল করেছিলেন একদল কর্মী। ওই কেন্দ্র থেকেই ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার প্রথম বার্তা প্রচার হয়েছিল। স্বাধীনতার লড়াইয়ে অসামান্য অবদান রাখা ওই বেতার কেন্দ্রকে ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র’ ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে প্রেরণা দানকারী বরেণ্য শব্দসৈনিক রাশিদুল হোসেন মঙ্গলবার ভোরে চিরবিদায় নিলেন। (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ বহু আত্মীয়স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন স্বাধীন বাংলা বেতারের এই সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন প্রখ্যাত এই শব্দযোদ্ধা।

১৯৭১ এর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা শুরু হওয়ার পর রাশিদুল হোসেনের সঙ্গে বেতারের একদল কর্মী চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রকে ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র’ ঘোষণা দেন। সেখান থেকেই ২৬ মার্চ আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। পরদিন ২৭ মার্চ তা পাঠ করেন জিয়াউর রহমানও। রাশিদুল হোসেনসহ যে দশ সাহসী সৈনিকের উদ্যোগে স্বাধীন বাংলা বেতারের সূচনা হয় তারা হলেন- সৈয়দ আবদুস শাকের, বেলাল মোহাম্মদ, আমিনুর রহমান, শারফুজ্জামান, মুস্তফা আনোয়ার, আবদুল্লাহ আল ফারুক, রেজাউল করীম চৌধুরী, আবুল কাশেম সন্দীপ ও কাজী হাবীব উদ্দিন। রাশিদুল হোসেন সে সময় ছিলেন টেকনিক্যাল এ্যাসিস্ট্যান্ট।

৩০ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতারে প্রথমবারের মতো শোনা যায় জয় বাংলা গানটি। ওইদিনই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হামলায় এ বেতারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে অকুতোভয় শব্দযোদ্ধারা নানান কৌশলে বেতারটি কার্যকর রাখেন। ওই দশজন শব্দযোদ্ধা দুই দলে ভাগ হয়ে আগরতলা ও ত্রিপুরায় ছড়িয়ে পড়েন। ১০ এপ্রিল মেহেরপুরে অস্থায়ী সরকার গঠন হওয়ার পর কোলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড থেকে সম্প্রচার শুরু করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।

শব্দসৈনিক রাশিদুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধার অবদান আজীবন দেশ ও জনগণ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। এছাড়া শোক জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। সাংগঠনিকভাবে তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। শোকবার্তায় উদীচীর সভাপতি কামাল লোহানী বলেন, একজন দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচার অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে রাশিদুল হোসেনের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

মঙ্গলবার সকালে মরহুমের লাশ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার কার্যালয়ে নেয়া হলে সাবেক সহকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও বেতারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। সেখানে জানাজা শেষে মরদেহ তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উত্তর মোড়লের নিজ গ্রামের বাড়ি নেয়া হয়। সেখানে আরেক দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: