মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জননেতা আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রাজনীতির অঙ্গনের কীর্তিমান পুরুষ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য, আমৃত্যু সংগ্রামী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য প্রবীণ জননেতা আবদুর রাজ্জাকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ষাটের দশকের দুরন্ত ছাত্রনেতা, মুক্তিযুদ্ধের অসাধারণ সংগঠক ও পঁচাত্তর-উত্তর আওয়ামী রাজনীতির মধ্যমণি বঙ্গবন্ধুর হাতে তৈরি আদর্শের মানসপুত্র বর্ষীয়ান রাজনীতিক আবদুর রাজ্জাক প্রায় তিন মাস জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে ২০১১ সালের এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহছায়ায় যে ক’জন কীর্তিমান পুরুষ স্বাধিকার, স্বাধীনতা আর সুমহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামনের কাতারে থেকে আমৃত্যু নেতৃত্ব দিয়েছেন, আবদুর রাজ্জাক ছিলেন তাঁদের অন্যতম। নির্লোভ, নিরহঙ্কারী ও সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা আব্দুর রাজ্জাক ৭০ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান অনন্তলোকে। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী ফরিদা রাজ্জাক, দুই পুত্র নাহিন রাজ্জাক, ফাহিম রাজ্জাকসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, নেতাকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে যান।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আবদুর রাজ্জাক তাঁর নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে যে রাজনীতির পাঠ নিয়েছিলেন, তা আমৃত্যু পালন করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর মতোই অজীবন নির্লোভ ও সাদামাটা জীবনযাপনই করে গেছেন তিনি। রাজনীতির মাঠ কাঁপানো, সারাদেশ চষে বেড়ানো সুঠামদেহী আবদুর রাজ্জাকের দেহে মরণব্যাধি লিভার সিরোসিস ধরা পড়েছিল অনেক আগেই। ভরাট কণ্ঠের তেজও তেমন ছিল না। মরণব্যাধিও তাঁকে দমাতে পারেনি শেষদিন পর্যন্ত। ষাটের দশকের মাঠ মাতানো ছাত্রনেতা, ছাত্রলীগের দু’বারের সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও এ দেশের প্রথম সারির প্রবীণ রাজনীতিবিদ ছিলেন আবদুর রাজ্জাক।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন আবদুর রাজ্জাক। তাঁর জন্ম ১৯৪২ সালের ১ আগস্ট শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। তাঁর পিতার নাম ইমাম উদ্দিন এবং মাতার নাম বেগম আকফাতুন্নেছা। তিনি ১৯৫৮ সালে ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৬০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং পরে মাস্টার্স পাস করেন। ১৯৬৭ সালে এলএলবি পাস করার পর ১৯৭৩ সালে আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিলে নিবন্ধিত হন।

সাবেক এই পানিসম্পদমন্ত্রীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের শুরু পঞ্চাশের দশকের শেষদিকে। ছাত্রাবস্থায়ই তিনি আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি ১৯৬০-৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৬৩-৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৫-৬৭ সাল পর্যন্ত আবদুর রাজ্জাক পর পর দু’বার পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬২-৬৩ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের নির্বাচনে বিনাপ্রতি™^›ি™^তায় সহ-সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হন।

১৯৬৯-৭২ সাল পর্যন্ত আবদুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাসেবক বিভাগের প্রধান ছিলেন। ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৫-৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাকশালের সম্পাদক ছিলেন।

১৯৭৮-৮১ সাল পর্যন্ত পর পর দু’বার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৩ সালে বাকশাল গঠন করে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাকশালের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে ১৯৯১ সালে বাকশাল বিলুপ্ত করে আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। ১৯৯১-২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে তাকে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়।

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

২৩/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: