২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বড়দিন ও থার্টিফার্স্টে শিবিরের নাশকতার পরিকল্পনা!


বড়দিন ও থার্টিফার্স্টে শিবিরের নাশকতার পরিকল্পনা!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার পুলিশ সেজে মারাত্মক নাশকতা চালিয়ে দেশে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে জামায়াত-শিবির। মঙ্গলবার রাজধানীর রামপুরা থেকে গানপাউডার, বোমা ও পুলিশের পোশাকসহ ৬ শিবির নেতাকর্মী গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাদের ২টি পৃথক মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে আসন্ন ২৫ ডিসেম্বর খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন ও থার্টিফাস্ট নাইটে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনার কথা। এছাড়া নতুন বছর ২০১৬-র শুরু থেকেই পুলিশের পোশাকে গুম, অপহরণ, গুপ্তহত্যাসহ মারাত্মক সন্ত্রাসী কর্মকা- চালানোর পরিকল্পনার তথ্যও বেরিয়ে এসেছে জিজ্ঞাসাবাদে। দলীয়ভাবে জামায়াত-শিবির নতুন করে জিহাদে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে বিভিন্ন বাহিনীতে থাকা জামায়াত-শিবির সদস্য এবং তাদের মতাদর্শে বিশ্বাসীরা সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর রামপুরা থানাধীন পূর্ব রামপুরা উলনের ৬৭/৩ নম্বর নির্মাণাধীন ৮তলা বাড়িতে অভিযান চালায় রামপুরা থানা পুলিশ। যদিও বাড়িটি নির্মাণ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাড়িটির মালিক জমির উদ্দিন বলে জানা গেছে। মালিক সেখানে থাকেন না। একজন কেয়ারটেকার বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন। একটি ডেভেলপার কোম্পানি বাড়িটি নির্মাণ করছে।

বাড়িটির চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ২ সেট পুলিশের পোশাক, ৬টি বোমা ও প্রায় দেড় কেজি গানপাউডার। উদ্ধারকৃত বোমাগুলো খুবই শক্তিশালী। বোমা তৈরির কৌশলও যথেষ্ট উন্নত। সাধারণত প্রশিক্ষিত বোমা তৈরিকারকরা কেবল এ ধরনের বোমা তৈরি করতে সক্ষম। আর উদ্ধারকৃত গানপাউডার দিয়ে কয়েক শ’ বোমা তৈরি সম্ভব ছিল। তৈরিকৃত বোমা দিয়ে দেশে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। ফ্ল্যাটটি থেকে গ্রেফতার করা হয় ৬ জনকে। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিকভাবে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের প্রকৃত পরিচয় জানা যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে গ্রেফতারকৃতরা ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মী। পরে তাদের পরিচয় মেলে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, জাকির হোসেন (২৩), শফিক (২৫), রনি (২৫), রুম্মন হোসেন (২০), আতাউর রহমান (২০) ও আব্দুল কাদের (২৪)। গ্রেফতারকৃতরাই উদ্ধারকৃত বোমাগুলো তৈরি করেছিল। তারা বোমা তৈরিতে পারদর্শী। আরও বোমা তৈরি করতেই গানপাউডার যোগাড় করে সেখানে রাখা হয়েছিল। ফ্ল্যাটটি মূলত ছাত্র শিবিরের বোমা তৈরির কারখানা।

রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা সবাই ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী। ঘটনাস্থল থেকে গানপাউডার, ৬টি বোমা ও ২ সেট পুলিশের পোশাক উদ্ধার হয়েছে। নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যেই বোমা ও গানপাউডার সেখানে মজুদ করা হয়েছিল। পুলিশের পোশাক পরিধান করে তাদের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। যাতে কেউ সন্দেহ করতে না পারে। আর গ্রেফতারের তো প্রশ্নই আসে না। কারণ পুলিশ সেজে নাশকতা চালালে গ্রেফতারের সম্ভবনা নেই বললেই চলে। পোশাকগুলো তারা পুলিশের পোশাক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে। তবে কিভাবে সংগ্রহ করেছে এর সঙ্গে কারা, কিভাবে জড়িত তা জানার চেষ্টা চলছে। যে দোকান থেকে পোশাকগুলো সংগ্রহ করেছে সেই দোকানি বিষয়টি জেনেই সরবরাহ করেছেন কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূলত পুলিশ সেজেই তারা নাশকতা চালাতে পুলিশের পোশাক যোগাড় করেছিল। পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে কারা জড়িত তা জানার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, মাত্র আড়াই মাস আগে মাসিক ১৭ হাজার টাকা ভাড়ায় ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় গ্রেফতারকৃতরা। মূলত বোমা তৈরির কারখানা স্থাপনের উদ্দেশ্যেই ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় গ্রেফতারকৃতরা।

রামপুরা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আসন্ন ২৫ ডিসেম্বর খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে গ্রেফতারকৃতরা নাশকতার পরিকল্পনা করছিল।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা লাভের পর জামায়াত-শিবির ২০০৯ সাল থেকেই ঢাকায় মারাত্মক নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ২০১০ সালের ২৪ মে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন ঘনবসতিপূর্ণ দনিয়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, হ্যান্ডগ্রেনেড, আত্মঘাতী হামলা চালানোর সরঞ্জামাদিসহ জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবির আমির মুফতি মাওলানা সাইদুর রহমান জাফর দুই সহযোগীসহ গ্রেফতারের পর বিষয়টি পুরোপুরি প্রকাশ পেয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে জামায়াত-শিবিরের সূদূরপ্রসারী নাশকতা চালানোর পরিকল্পনার তথ্য।