২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পে স্কেলে ভার্সিটি ও বিসিএস শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষার কাজ চলছে ॥ শিক্ষামন্ত্রী


স্টাফ রিপোর্টার ॥ টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকলেও পে স্কেলে সরকারী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা সমুন্নত রাখার বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, আমি শিক্ষা পরিবারের কর্মী। শিক্ষকরা মর্যাদার সঙ্গে যাতে যার যার আসনে যেতে পারেন, সেজন্য আমরা কাজ করছি। আমরা আশা করব, তারা পাবেন। এদিকে পে স্কেলে অন্তর্ভুক্তির পর এবার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় নজরদারির আওতায় আনতে সরকারী উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আর নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের কাগজের মান খারাপ হলে সংশ্লিষ্টদের জরিমানা গুনতে হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি শ্যামল সরকার। সঞ্চালনা করেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, টাইম স্কেলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার যে সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিসিএস শিক্ষকরা পেতেন, নতুন বেতন কাঠামো হওয়ার পর তা কিভাবে দেয়া যায় সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের কাজ চলছে, অনেকগুলো বিকল্প প্রস্তাব এসেছে। এটা চূড়ান্ত হলে আপনারা জানতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সঙ্গে প্রথম থেকেই এসব বিষয়ে তার কথা হয়েছে। শিক্ষকরা তাকে বলেছেন, টাইম স্কেল উঠে গেলে তারা বঞ্চিত হবেন। কারণ এর মাধ্যমেই তারা উচ্চতর স্তরে যেতে পারতেন। বেতন বৈষম্য দূরীকরণ কমিটিতে আলোচনা হয়েছে, আমরা কিভাবে তাদের সুযোগটাকে রক্ষা করতে পারি, এটা কিভাবে তারা পেতে পারেন। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জুলাই থেকে নতুন কাঠামোতে বেতন পাবেন। গত জুলাই থেকে এটা কার্যকর হবে। যেহেতু টাকাটা পরে দেয়া হবে, তাই তারা একসঙ্গে এরিয়া হিসাবে অনেক টাকা পেয়ে যাবেন। এটা এখন পাচ্ছেন, এতে ক্ষোভ থাকতে পারে। কিন্তু আমার ধারণা, একসঙ্গে অনেক টাকা পেলে তারা খুশিই হবেন।

পে স্কেলে অন্তর্ভুক্তির পর এখন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় নজরদারির আওতায় আনতে সরকারী উদ্যোগের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটা আমরা অনেক আগে থেকে উপলব্ধি করছি। কারণ এখন সরকার থেকে বেতন যায়। কোন স্কুলের আয় বেশি, কোন স্কুলের আয় কম। সেই আয় যথাযথভাবে কাজে লাগে কি-না, তা বের করা বেশ কঠিন কাজ। এ বিষয়টি দেখতে ৩৪ জন জনবলের একটি দফতর কাজ করলেও দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই ৩৭ হাজার। ফলে একবার ‘মনিটরিং’ শেষ করতেই ১০-২০ বছর লেগে যাওয়ার কথা। এজন্য আমরা একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে ওই তথ্যগুলো আনার চেষ্টা করছি। সেই সঙ্গে আমাদের আইনেরও একটা সমর্থন দরকার। এজন্য আমরা আইনও তৈরি করছি। এ বিষয়গুলো হিসাবে নিয়ে আমরা দেখব, ওই অর্থের যেন অপচয় না হয়, বেআইনী পথে কেউ যেন তা ব্যয় করতে না পারে। আমরা আশা করি, এক মাসের মধ্যেই আইন সংসদে নিয়ে আসব। তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে একটি নীতিমালাও ঠিক করে দেয়া হবে। যে অর্থ সেটা জমা হবে। খরচ করার ক্ষমতাও দিয়ে দেয়া হবে। অথবা সরকার এই টাকাটা নিয়ে এসে পরে দেবে। কোনটা হবে, না হবে, সংসদ চূড়ান্তভাবে আইন করবে। আমরা প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে আইন করছি। এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-ব্যয়ে কোন বিশৃঙ্খলার সুযোগ থাকবে না।

আগামী বছরের প্রথম দিন চার কোটির বেশি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেয়া হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার প্রায় ৩৫ কোটি বই ছাপা হচ্ছে। এত বই আলাদা করে দেখার জন্য হাজার হাজার লোক লাগালেও সম্ভব হয় না। আমাদের এই সব দেশে কিছু সমস্যা থেকেই থাকে। আমরা চেষ্টা করি, যত পরিদর্শন, যত বেশি চাপ দেয়া যায় রাখতে। প্রাথমিকের বই ছাপায় বিশ্বব্যাংকের ‘সামান্য’ অর্থায়ন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য কিছু শর্ত মানতে হয়। তাই ছাপাটা দেরিতে শুরু হয়েছে। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, ছাপা হয়ে যথাসময়ে বই পৌঁছে যাবে। মঙ্গলবার নাগাদ ৮০ ভাগ বই বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে গেছে বলে জানান তিনি।

এবার ছাপানো অনেক বই পড়ার অযোগ্য বলে অভিযোগের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, শতভাগ মান অর্জন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এটা প্রায় অসম্ভব। ৮০ ভাগ হলেও আমরা সন্তুষ্ট। এবার তাড়াহুড়ো থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বই ছাপানো দেখতে তিনি নিজেও ছাপাখানাগুলো পরিদর্শন করেছেন। আমি রাতে যাই, অনেকক্ষণ থাকি, দেখে আসি। সামনে থাকলে হয়ত ভাল করে, না থাকলে হয়ত খারাপ করে। মানসম্মত বই দিতে না পারা একটা ব্যর্থতার প্রশ্ন। আমরা এটা নিয়ে ভাল করে অনুসন্ধান করব। যারা এর জন্য দায়ী হবেন, তাদের সিকিউরিটি মানি আগে ১০ শতাংশ ছিল, ঝুট-ঝামেলার আমি ১৫ শতাংশ করে দিয়েছি, সেই অর্থ জরিমানা গুনতে হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: