২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দুই ধাপে পাঁচ মাসের বকেয়া পাচ্ছেন সরকারী চাকুরেরা


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নতুন বছরের প্রথম দিন নতুন বেতন কাঠামোতে ডিসেম্বরের বেতনের সঙ্গে জুলাই-আগস্ট মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অংশ (এরিয়ার) হাতে পাবেন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর ফেব্রুয়ারির শুরুতে জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে তারা হাতে পাবেন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নবেম্বর- এই তিন মাসের এরিয়ার। অন্যদিকে বিদ্যমান সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বিলোপ করে গেজেটে বলা হয়েছে, এখন থেকে প্রতিবছরের ১ জুলাই একসঙ্গে সব সরকারী-কর্মচারীর বেতন বাড়বে। সরকারী চাকুরেরা মহার্ঘভাতা হিসাবে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত যে অর্থ পেয়ে আসছিলেন, বকেয়া দেয়ার সময় তা সমন্বয় করে নেয়া হবে। মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়।

অন্যদিকে অপর এক প্রজ্ঞাপনে সরকারী চাকুরেদের পেনশনের সময় পাঁচ বছর কমানো হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে ৫ বছর চাকরি করলেই যে কেউ পেনশন নিতে পারবেন। তছাড়া বেড়েছে পেনশনকালীন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের তিন মাস পর মঙ্গলবার রাতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অষ্টম বেতন কাঠামোর এই গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর ফলে দেশের ২১ লাখ সরকারী কর্মী নতুন কাঠামোয় তাদের ডিসেম্বর মাসের বেতন তুলবেন জানুয়ারির শুরুতে।

অষ্টম বেতন কাঠামোতে ২০টি গ্রেডের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন মূল বেতন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ২৫০ টাকা। যাতে বেতন বেড়েছে গ্রেড ভেদে ৯১ থেকে ১০১ শতাংশ।

এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও এদের সমমর্যাদার পদের বেতন ৮৬ হাজার টাকা এবং জ্যেষ্ঠ সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ৮২ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকছে।

সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী পাঁচ বছর চাকরি করলেই পেনশন পাবেন সরকারী চাকরিজীবীরা। এছাড়া অর্জিত ছুটি দিয়ে পিআরএলের সময়ও ছয় মাস বাড়াতে পারবেন তারা। সপ্তম বেতন কাঠামোতে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১০ থেকে ২৫ বছর নির্ধারিত ছিল। অর্থাৎ চাকরিকাল কমপক্ষে ১০ বছর না হলে কেউ পেনশন পেতেন না। নতুন অষ্টম বেতন কাঠামোতে পেনশনযোগ্য চাকরিকালের সীমা পাঁচ বছর কমিয়ে পাঁচ থেকে ২৫ বছর পুনর্নির্ধারণ করে আদেশ জারি করেছে অর্থ বিভাগ। গত ১৫ ডিসেম্বর অষ্টম বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের পর পেনশনসংক্রান্ত এই আদেশ হয়।

নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারী চাকুরেদের পেনশনের হার ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। পিআরএল ভোগরত কর্মচারীরাও পুনর্নির্ধারিত এই সুবিধা পাবেন। আদেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে পাঁচ বছর চাকরির পর মূল বেতনের ২১ শতাংশ, ছয় বছর পর ২৪ শতাংশ, সাত বছর শেষে ২৭ শতাংশ, আট বছর শেষে ৩০ শতাংশ এবং চাকরির নয় বছর শেষে মূল বেতনের ৩৩ শতাংশ হারে পেনশন পাবেন সরকারী কর্মচারীরা। ১০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত চাকরি শেষে পেনশনে যাওয়া সব স্তরেই পেনশনের পরিমাণ বেড়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, চাকরির ১০ বছর শেষে মূল বেতনের ৩৬ শতাংশ পেনশন পাবেন সরকারী কর্মচারীরা, আগে এই হার ছিল ৩২ শতাংশ। চাকরির ১১ বছর শেষে ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৯ শতাংশ, ১২ বছরে ৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৩ শতাংশ, ১৩ বছর শেষে ৪২ শতাংশ থেকে ৪৭ শতাংশ, ১৪ বছরে ৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫১ শতাংশ, ১৫ বছরে ৪৮ শতাংশ থেকে ৫৪ শতাংশ, ১৬ বছরে ৫১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৭ শতাংশ পেনশন পাবেন সরকারী চাকুরেরা। আর চাকরির বয়স ১৭ বছর পার হলে পেনশনের পরিমাণ মূল বেতনের ৫৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৩ শতাংশ, ১৮ বছর হলে ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ শতাংশ, ১৯ বছরে ৬১ থেকে ৬৯ শতাংশ, ২০ বছরে ৬৪ শতাংশ থেকে ৭২ শতাংশ, ২১ বছরে ৬৭ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ, ২২ বছরে ৭০ শতাংশ থেকে ৭৯ শতাংশ, ২৩ বছরে ৭৪ শতাংশ থেকে ৮৩ শতাংশ, ২৪ বছরে ৭৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৭ শতাংশ পেনশন পাবেন।

এখন থেকে ২৫ বছর ও তার বেশি চাকরি করলে মূল বেতনের ৯০ শতাংশ হারে পেনশন পাওয়া যাবে, আগে এই হার ছিল ৮০ শতাংশ।

বলা হয়েছে, চাকরিতে যোগ দেয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে কোন কর্মচারী মারা গেলে বা সরকার গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড স্থায়ীভাবে শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম ঘোষণা করলে তিনি পেনশন পাবেন। এছাড়া চাকরি পাওয়ার পাঁচ বছরের মাথায় স্থায়ী পদ বিলুপ্তির কারণে কেউ চাকরি থেকে ছাঁটাই হলেও পেনশন পাবেন। ১০ থেকে ২০ বছর বা তার বেশি চাকরিকালে পেনশনারদের আনুতোষিকের হার আগের মতোই এক টাকার বিপরীতে ২৩০ টাকা রাখা হয়েছে।

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১০ থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর নির্ধারণ করায় পূর্ণ পেনশনের ক্ষেত্রে আনুতোষিকের হার বাধ্যতামূলক সমর্পিত প্রতি এক টাকার বিপরীতে ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।

আর চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর হওয়ার আগেই কোন কর্মচারী মারা গেলে বা স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হলে ওই কর্মচারী যত বছর চাকরি করেছেন প্রত্যেক বছরের জন্য সবশেষ মূল বেতনের তিনগুণ অর্থ সহায়তা পাবেন। আগে কোন কর্মচারী পেনশনযোগ্য চাকরির মেয়াদপূর্তির আগে (১০ বছর) মারা গেলে শুধু এককালীন ১৫ হাজার টাকা পেতেন।

সপ্তম বেতন কাঠামো অনুযায়ী কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী আবার বিয়ে না করার অঙ্গীকারনামা দিয়ে আজীবন পেনশন পেতেন। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবাদের সেই অঙ্গীকারনামা দিতে হবে না। মারা যাওয়া কোন কর্মচারীর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে না করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত পারিবারিক পেনশন পাবেন। এখন থেকে কোন কর্মচারী চাইলে এক বছরের পরিবর্তে অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) দেড় বছর নিতে পারবেন।

পিআরএলের সময় ছয় মাস বাড়াতে হলে এক বছরের অর্জিত ছুটিকে ছয় মাসের পিআরএলে রূপান্তর করা যাবে। অর্জিত ছুটিকে পিআরএলে নগদায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনে অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে এক দিনের গড় বেতনে ছুটিতে রূপান্তর করা হবে। তবে অর্জিত ছুটি দিয়ে কেউ পিআরএলের সময় না বাড়ালে তিনি ওই অর্জিত ছুটির আর্থিক সুবিধা পাবেন বলেও আদেশে উল্লেখ রয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: