১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ব্রেস সিস্টেম কি এবং কেন?


মুখের সৌন্দর্য অনেকাংশে নির্ভর করে দাঁতের উপর। দাঁত সুন্দর না থাকলে একজন মানুষকে কখনই সুন্দর দেখাবে না। উঁচুনিচু বা আঁকাবাঁকা দাঁত থাকলে চিকিৎসার সময় দাঁতের ব্রেস লাগিয়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ব্রেসের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয় বলে একে ব্রেস সিস্টেম বলা হয়।

ব্রেস সিস্টেম বিভিন্ন ভাগ রয়েছে। সেগুলো হলো :

(ক) বেগস্ টেকনিক বা কৌশল : অস্ট্রেলিয়ায় এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়।

(খ) আলেকজান্ডার টেকনিক বা কৌশল : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়।

(গ) রথ টেকনিক বা কৌশল : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়।

(ঘ) স্টেইট ওয়ার টেকনিক বা কৌশল : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়।

বাংলাদেশের চিকিৎসা পদ্ধতি : আমাদের দেশে ফিক্সড অর্থোডন্টিক চিকিৎসায় স্ট্যান্ডার্ড এজ ওয়াইজ সিস্টেম আঁকাবাঁকা বা উঁচুনিচু দাঁতের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ১৯৯০ সাল থেকে আমাদের দেশে এই চিকিৎসা চলে আসছে। বাংলাদেশ ছাড়া জাপান ও আমেরিকায় এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হয়।

চিকিৎসা শুরুর সময় : মনে রাখতে হবে মুখের আঁকাবাঁকা দাঁতের চিকিৎসা শুরু করার একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। তবে এটি শুধু ফিক্সড্ অর্থোডন্ডিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ক্যানাইন বা বিউটি দাঁতের রুট বা গোড়া পুরোপুরি গঠনের পরেই কেবল ফিক্সড অর্থোডন্টিক চিকিৎসা শুরু করা যাবে। তার মানে দাঁড়াল বিউটি দাঁতের অর্থাৎ তিন নাম্বার দাঁতের গঠন শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুখের সার্বিক বিউটি নিমিত্তে ব্রেস সিস্টেম প্রয়োগ করা যাবে না। পাশাপাশি রোগীর মুখে উপরে এবং নিচের চোয়ালে প্রথম স্থায়ী মোলার দাঁত অর্থাৎ ৬ নম্বর দাঁত থাকতে হবে। প্রথম স্থায়ী মোলার দাঁত না থাকলে চিকিৎসার করাটা কঠিন হয়ে পড়ে।

চিকিসার করার বয়সসীমা : আমাদের দেশে অনেকের মাঝে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে বয়স বেশি হয়ে গেলে আর বুঝি আঁকাবাঁকা বা উঁচুনিচু দাঁতের চিকিৎসা করা যাবে না। কথাটি মোটেও সত্য নয়। মূল ব্যাপারটি হলো একটি দাঁতের পেরিওডন্টাল রিগামেন্ট অবশ্যই ভাল হতে হবে। পাশাপাশি দাঁতের পাশে সংযুক্ত হাড়ের অবস্থা সুস্থ হতে হবে। তাহলে বয়স বেশি হয়ে গেলেও দাঁতের চিকিৎসা করাটা কঠিন কোন ব্যাপার নয়। আবার কারও বয়স বেশি নয় কিন্তু সিস্টেমিক রোগে আক্রান্ত বিশেষ করে যদি কেউ ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত হন তাহলে ব্রেস সিস্টেম অর্থাৎ ফিক্সড অর্থোডন্টিক চিকিৎসা করাটা আসলেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

চিকিৎসার সময় করণীয় : ব্রেস সিস্টেম চিকিৎসার সময় যে সব ব্যাপারে রোগীর সচেতন হতে হবে সেগুলো হলো :

(ক) মুখ গহব্বর পরিষ্কার রাখা।

(খ) বিশেষ পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাস করা।

(গ) অসুস্থতার কারণে একান্তই দাঁত ব্রাস করতে না পারলে মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করতে হবে।

ট্রেনার : মুখে যখন দুধ দাঁত এবং স্থায়ী দাঁত দুটোই থাকে তখন চোয়ালে অসামঞ্জস্য দূর করার জন্য ট্রেনার ব্যবহার করা হয়।

অর্থোগন্যাথিক সার্জারি : অনেকের উপরের চোয়াল বা ম্যাক্সিলারি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় থাকে যাকে ম্যাক্সিলারি প্রগনাথিজম বলা হয়। আবার অনেকের নিচের চোয়াল বা ম্যান্ডিবল বড় থাকে যাকে ম্যান্ডিবুলার প্রগনাথিজম বলা হয়। উপরের চোয়াল এবং নিচের চোয়াল বড় থাকলে ব্রেস সিস্টেমে চিকিৎসা শুরু করার পূর্বে অপারেশন করে চোয়াল স্বাভাবিক করে নেয়া হয়। এ সার্জারিকে অর্থোগন্যাথিক সার্জারি বলা হয়।

পরিশেষে একটা কথা বলা প্রয়োজন ব্রেস সিস্টেম মুখের সৌন্দর্য পুনরুদ্ধারে এবং রক্ষায় আশীর্বাদস্বরূপ। তাই সর্বসাধারণকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

ডা. মোঃ ফারুক হোসেন

ওরাল এ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন