১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ইয়াহু : প্রযুক্তির কল্যাণময় নব অধ্যায়


‘ঔবৎৎু’ং এঁরফব ঃড় ঃযব ডড়ৎষফ ডরফব ডবন’ এই নামের কোন ওয়েবসাইট কেউ চিনেন? অনেকের কাছেই অচেনা মনে হবে। আর যদি বলি ‘ণধযড়ড়’ নামের কোন ওয়েবসাইট চিনেন? হ্যাঁ, আজ আমরা ‘ণধযড়ড়’ নামের যে ওয়েবসাইটটিকে চিনি তার প্রথম নাম ছিল ঔবৎৎু’ং এঁরফব ঃড় ঃযব ডড়ৎষফ ডরফব ডবন’. ইয়াহুর পেছনের কথা : কোন কিছুর অভাববোধ থেকেই মানুষ তার প্রয়োজনের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে। এমনটিই ঘটেছে পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ও দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন ‘ইয়াহু (ণধযড়ড়)’ প্রতিষ্ঠার পেছনে। চলুন পেছন থেকে একটু ঘুরে আসি। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। সময়টা ছিল ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাস। জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো নামের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির দু’জন শিক্ষার্থী অনেকটা নিজেদের অজান্তেই তৈরি করেন এই সার্চ ইঞ্জিনটি। অজান্তে বলছি এই কারণে যে, তারা যখন কাজ শুরু করেন তখন তাদের মাথায় ‘ইয়াহু (ণধযড়ড়)’-র কোন পরিকল্পনা ছিল না। যে কারণে তারা ‘ইয়াহু (ণধযড়ড়)’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা উঠে এসেছে অন্য একটি কাজের শেষের দিকে গিয়ে। জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলোর এক প্রফেসর ১ বছরের ছুটিতে যান। এর ফলে জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো তাদের সেই প্রফেসরের কম্পিউটার ব্যবহার করার সুযোগ পান এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে করতে নিজের অজান্তেই জেরি আর ডেভিড এমন একটি আইডিয়া পেয়ে যান যা ছিল সার্চ ব্যবস্থার প্রথম পদক্ষেপ।

প্রথমদিকে জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো নিজেরাই বিভিন্ন ক্যাটাগরি ও সাবক্যাটাগরিতে ওয়েবসাইটগুলোকে ভাগ করে তালিকাবদ্ধ করেছেন। এই অবস্থা চলেছে দিনের পর দিন। সময়টা তাদের জন্য যথেষ্ট কঠিন ও ক্লান্তিদায়ক ছিল। এভাবেই চলতে থাকে তাদের পথচলা এবং সময় যত গড়াতে থাকে ‘ইয়াহু’ ততটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। শুরুতেই বলেছি শুরুতে ‘ইয়াহুর’ নাম ছিলো “ঔবৎৎু’ং এঁরফব ঃড় ঃযব ডড়ৎষফ ডরফব ডবন”. পরে সংক্ষিপ্ত ও চটকদার নাম রাখার জন্য নাম পাল্টে ‘ইয়াহু (ণধযড়ড়)’ রাখা হয়। যার পূর্ণরূপ ছিল ‘ণবঃ অহড়ঃযবৎ ঐরবৎধৎপযরপধষ ঙভভরপরড়ঁং ঙৎধপষব.’

গালিভার ট্রাভেলস গল্পে ঔড়হধঃযধহ ঝরিভঃ সর্ব প্রথম ইয়াহু শব্দটি ব্যবহার করেন। রংনধৎবষু এলাকায় প্রবেশের পর গালিভার এক ভিন্ন ধরনের মানুষের সাক্ষাত পান। সেখানকার একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ করতেই ইয়াহু শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইয়াহুর প্রতিষ্ঠাতা ঔবৎৎু ণধহম এবং উধারফ ঋরষড় তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়ার ক্ষেত্রে এটি পছন্দ করেন কারণ তারা তাদেরকে সেই সব মানুষের মতোই তুলনা করে মজা পেয়েছিলেন।

তাছাড়া নামটিতে একটি আকর্ষণীয় ও উচ্ছলভাব আছে। তবে ইয়াং এবং ফিলো বলেন, তারা ইয়াহু নামটা পছন্দ করে যার কারণ এটার অপভ্রংশ (ংষধহম) হচ্ছে : “ৎঁফব, ঁহংড়ঢ়যরংঃরপধঃবফ, ঁহপড়ঁঃয.” ( ধৃষ্ট, অকৃত্রিম, অদ্ভুত)। শুরুতে ইয়াহু শব্দটির শেষের বিস্ময়সূচক চিহ্নটি ছিল না। পরবর্তী সময়ে বিস্ময়সূচক (!) চিহ্নটি দিতে হয়। কেননা আরও তিনটি কোম্পানির ট্রেডমার্ক ছিল ইয়াহু। একটি বারবিকিউ সস, একটি ছুরি তৈরির কারখানা এবং একটি মনুষ্যবহনযোগ্য প্রোপেলার কোম্পানির। তাদের থেকে আলাদা হওয়ার জন্য বিস্ময়সূচক (!) চিহ্নটি যোগ করা হয়।

ইয়াহুর রয়েছে ওয়েবসাইট, সার্চইঞ্জিন, ইয়াহু ডিকশেনারী, ইয়াহু মেইল, ইয়াহু নিউজ, ইয়াহু গ্রুপ, ইয়াহু এন্সার, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, অনলাইন ম্যাপ, ইয়াহু ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া সেবা ইত্যাদি।

গুগল ২০১১ সালে সময়ের শীর্ষ কোম্পানি ইয়াহুকে কিনতে চেয়েছিল। অন্তত দুটি কোম্পানির সঙ্গে কথা হয়েছে এ বিষয়ে মধ্যস্থতা করার জন্য। ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছিল। সে সময় ইয়াহুর অবস্থা খুব বেশি ভালো ছিল না। সূত্রমতে গুগল ইয়াহুর সাইটের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বিক্রি করতে আগ্রহী। কিন্তু বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়েই শেষ হয়ে যায়।