১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

পৌর নির্বাচন ঘিরে তিন জেলায় সংঘর্ষ, গুলি আহত অর্ধশত


জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ কুমিল্লা, জামালপুর ও শরীয়তপুরে সোমবার বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় অর্ধশত আহত হয়েছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ২ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত এবং শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। খবর নিজস্ব সংবাদদাতার

কুমিল্লা ॥ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে দুই মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহনে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই মোঃ হোসাইন, কনস্টেবল মনির হোসেনসহ উভয় প্রার্থীর অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। সোমবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে চৌদ্দগ্রাম বাজারে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনামের কর্মী-সমর্থকের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনামের সমর্থকরা বিকেলে চৌদ্দগ্রাম বাজারে মিছিল বের করে। এ সময় আ’লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমানের সমর্থনে আলকরা ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাচ্চু কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে চৌদ্দগ্রাম বাজারে উভয়পক্ষ মুখোমুখি হয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকতি-া হয়। এক পর্যায়ে ফাঁকা গুলির শব্দে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় উপজেলা সদরের পুরাতন ইউপি ভবনের সামনে থাকা দুটি মাইক্রোবাস ও রাস্তায় থাকা একটিসহ ৩ মাইক্রোবাস বারোটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এছাড়াও বাজারে ব্যবসায়ী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন পাটোয়ারীর পাইকারি মুদি মালের দোকানসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও ফুটপাথের দোকানসহ অর্ধশতাধিক দোকানে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয় এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহাসড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের লোকজন দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই মোঃ হোসাইন, কনস্টেবল মনির, দোকানের কর্মচারী জাফর, শিপন, আবদুল্লাহসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের চৌদ্দগ্রাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরাতন ও নতুন দুটি সড়কে প্রায় ২ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে মহাসড়কের উভয়পাশে কয়েক শ’ যানবাহন আটকা পড়ে।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার মোঃ শাহ আবিদ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা সদর থেকে অর্ধশতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল জানান, পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যদের ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয়েছে।

জামালপুর ॥ সরিষাবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে বিএনপির দু’গ্রুপে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধাওয়া, পাল্টাধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার সকালে পৌরসভা নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ফয়েজুল কবীর তালুকদার শাহীনের সমর্থকের সঙ্গে তৃণমূল বিএনপির (বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী রুহুল আমীন সেলিমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ধাওয়া, পাল্টাধাওয়াসহ গুলির ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম (২৬) ও যুবদলের সদস্য পাজেন আলী (৪০) গুলিবিদ্ধ হয়। এ ছাড়াও সাবেক ছাত্র দলের সভাপতি শহিদ ভিপি (৪৫), মিঠুন (২৫), জুয়েল (৩০), উজ্জল (৪২), মাসুদ (৪০), মনি (৩৫), আপেল (৩২), পলাশ (৩৮), মনি হাসান (৩৬), আপন (৩৮), রনি (২৮),আলমাছ (৩৮), আমিনুল (৪০), রুমন (৩৫), হবিবর (৪০), রুকন (৩৮)সহ ২০ ব্যক্তি আহত হয়। এদিকে গুলি ছোড়ার বিষয়ে কোন পক্ষই দায় স্বীকার না করে বরং এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দায়ী করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সরিষাবাড়ী পৌর এলাকায় র‌্যাবের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

এ বিষয়ে বিএনপির সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী ফয়েজুল কবীর তালুকদার শাহীনের ভাই ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম জানান, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রুহুল আমীন সেলিমের সমর্থকদের অতর্কিত গুলি ছোড়ার কারণে তাদের ২ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

তৃণমূল বিএনপির (বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী রুহুল আমীন সেলিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী প্রচার কাজে বিএনপির নামধারী কতিপয় ব্যক্তি অতর্কিতে হামলা চালায়।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার ইদ্রিস আলী গুলি ছোড়ার ঘটনা অস্বীকার করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।

শরীয়তপুর ॥ আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক শরীয়তপুর পৌরসভা মেয়র নুর মোহাম্মদ কোতোয়ালের বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে হামলাকারীরা। এ নিয়ে শরীয়তপুর শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পালং থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোঃ রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালের পক্ষে শরীয়তপুর ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে সোমবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা চলছিল। এ সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য একে এম এনামূল হক শামীম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রব মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ইকবাল হোসেন অপুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভাশেষে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুটি গ্রুপ এক সঙ্গে নৌকা প্রতীকের পক্ষে মিছিল বের করে। মিছিলে এক অংশের নেতৃত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হোসেন অপু এবং অপর অংশের নেতা নুরুল আমিন কোতোয়াল। মিছিলটির শেষ মুহূর্তে পেছন দিক থেকে উভয় গ্রুপের কর্মী-সমর্থকের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানার সামনে প্রায় আধাঘণ্টা ব্যাপী এ সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের সমর্থকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা ব্যবহার করে। দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে। এ সময় সংঘর্ষকারীরা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ কোতোয়ালের বাড়িতে হামলা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটপাটকেল নিক্ষেপে তার বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙ্গে যায়। ইটপাটকেল নিক্ষেপে ইলিয়াছ, প্রকাশ, দ্বীন ইসলাম, সুজন পাহাড়, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ কোতোয়ালের স্ত্রী ওসিতুন্নেছা ও পূত্রবধূ আয়েশা খাতুনসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে । এ ব্যাপারে পৌরসভা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এম মজলিস খান বলেন, এ ঘটনায় আসন্ন পৌর নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আমিন কোতোয়াল বলেন, ইকবাল হোসেন অপু এবং আমি এক সঙ্গে মিছিল করে ফেরারপথে নৌকা মার্কার দলীয় প্রার্থীর ক্ষতি করার জন্য বহিরাগতরা পেছন দিক থেকে আমার কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করে। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নুর মোহাম্মদ কোতোয়াল বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে ইকবাল হোসেন অপুর সমর্থক বাচ্চু বেপারির লোকজন আমার বাড়িতে হামলা চালালে আমার স্ত্রী ও পুত্রবধূ আহত হয়।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল নিয়ে দু’টি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সাভারে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার থেকে জানান, সাভারে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। রবিবার বিকেলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বদিউজ্জামান বদির বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নাশকতার তিনটি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন নিয়ে সাভার পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাংক কলোনি এলাকায় এদিন প্রচারণায় নামেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী বদিউজ্জামান বদি। এতদিন তিনি গ্রেফতার আতঙ্কে নির্বাচনী প্রচারণায় নামেননি। এ সময় তিনি নিজ বাসায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। দুর্বৃত্তরা এ সময় বাড়িতে ঢুকে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং মোটরসাইকেলসহ বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুর করে। এ সময় বদিউজ্জামান বদির জীবন বাঁচাতে ভিতরে কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেন। ভিতরে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা দুর্বৃত্তদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে শুরু হয় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। পরে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এতে বিএনপির অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় এলাকায় থম্থমে অবস্থা বিরাজ করছে। সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী বদিউজ্জামান বদি জানান, আওয়ামী লীগের একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সহায়তায় তারা ঘরের ভিতর গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: