১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় চিংড়ি রফতানি ব্যাহত


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে খুলনার চিংড়ি রফতানি শিল্প। এ কারণে রফতানি পণ্যে ব্যবহৃত প্যাকেজিং সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছেন না খুলনার রফতানিকারকরা। সরকারের শুল্ক, রফতানি ও বন্ড কর্তৃপক্ষের এক মৌখিক নির্দেশনায় এমন জটিলতার সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ রফতানিকারকদের। ফলে গত এক মাসেই ওই অঞ্চলের শত কোটি টাকার চিংড়ি রফতানি ব্যাহত হয়, যা দেশের রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রফতানি সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, গত ১৯ নবেম্বর খুলনা বন্দরের শুল্ক কমিশনারের এক মৌখিক নির্দেশনায় চিংড়ি ও হিমায়িত পণ্য রফতানিতে ব্যবহৃত প্যাকেজিং সামগ্রী (কার্টন ও এক্সেসরিজ) সংগ্রহে ব্যাক টু ব্যাক এলসি বাধ্যতামূলক করেন। এতেই সৃষ্টি হয় এই অচলাবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই মৌখিক আদেশ শুধু খুলনার রফতানিকারদের জন্য। ঢাকা বা চট্টগ্রামের রফতানিকারদের জন্য এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। অথচ দেশের চিংড়ি ও হিমায়িত পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশই খুলনা অঞ্চল থেকে রফতানি হয়।

সূত্র জানায়, প্রায় এক দশক ধরে দেশের চিংড়ি ও হিমায়িত পণ্য রফতানিতে প্যাকেজিং সামগ্রী বিদেশ থেকে আমদানি না করে দেশীয় বন্ডেড প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠান থেকে স্থানীয় এলসির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়, যা বিদেশী ক্রেতাদের এলসি বা টিটি দ্বারা আবৃত থাকে। এ ধরনের পণ্য রফতানিকারকরা স্থানীয় এলসির মাধ্যমে পিআরসি ও অন্যান্য ডকুমেন্ট জমা দিয়ে বন্ডেড প্যাকেজিং সামগ্রী ব্যবহার করে থাকেন।

খুলনার রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মডার্ন সী ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল হক (সিআইপি) জনকণ্ঠকে বলেন, চিংড়ি বা হিমায়িত পণ্য হলো শতভাগ কৃষিজাত পণ্য। এখানে ব্যাক টু ব্যাক এলসির কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, মাস্টার এলসি এলে আমরা প্যাকেজিং কারখানায় অর্ডার করি। এরপর স্থানীয় মুদ্রার পরিবর্তে বৈদেশিক মুদ্রায় আইএলসির (ইনল্যান্ড লেটার অব ক্রেডিট) মাধ্যমে তাদের পেমেন্ট করা হয়। এই পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু গত ১৯ নবেম্বর থেকে বন্দরের শুল্ক কমিশনার আল আমিন প্রামাণিক কোন আইএলসি গ্রহণ করছেন না।

তিনি জানান, গত মাসে তার প্রতিষ্ঠানের ১০টি চালান শিপমেন্টের কথা ছিল। প্রতিটিতে গড়ে দুই কোটি টাকার পণ্য রফতানি হতো। শুধু প্যাকেজিং জটিলতায় চারটি চালান বাতিল হয়েছে। বাকিগুলো বায়ারের সঙ্গে আলাপ করে সময় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে খুলনা বন্দরের শুল্ক কমিশনার আল আমিন প্রামাণিককে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, এই মুহূর্তে খুলনার প্রায় ৩৫টি প্রতিষ্ঠান চিংড়ি বা হিমায়িত পণ্য রফতানির সঙ্গে জড়িত, যাদের প্রায় সকলেরই রফতানি বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থার উত্তরণে গত ১০ ডিসেম্বর হিমায়িত খাদ্য রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যকে (শুল্ক, রফতানি ও বন্ড) একটি চিঠি দেন বলে জনকণ্ঠকে জানান।

বিদ্যমান সার্কুলারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের ‘ব্যাক টু ব্যাক এলসি’র শর্তগুলো খুলনার কাস্টমস কমিশনার হিমায়িত চিংড়ি রফতানির ক্ষেত্রেও চাপিয়ে দিয়েছেন। অথচ হিমায়িত মৎস্য রফতানির ক্ষেত্রে আমদানিকৃত কাঁচামাল না থাকায় তা কোনভাবেই প্রযোজ্য নয়। এছাড়া এ ধরনের নতুন কোন সার্কুলারও জারি করা হয়নি।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি বলেন, রফতানিকারকদের হাতে পণ্য রফতানির এলসি আছে, কারখানায় মালামাল রয়েছে। শুধু প্যাকেজিং সামগ্রীর অভাব। এতে বাতিল হয়েছে শত কোটি টাকার চিংড়ি রফতানি। এ ধরনের মৌখিক নির্দেশনা রফতানি বাণিজ্যের প্রতি হুমকিস্বরূপ উল্লেখ করে গোলাম মোস্তফা বলেন, এতে করে গত এক মাসে প্রায় শত কোটি টাকার রফতানি ব্যাহত হওয়ার দায় কে নেবেন?