২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

স্বেচ্ছাশ্রমে ৪৮ সেতু


জনগণ তাদের সমস্যা সমাধানে নিজেরাই এগিয়ে এসেছে। স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করছে সেতু। এমনই একটি উদ্যোগের কথা জানা গেল। দক্ষিণাঞ্চলের গ্রাম বৈঠাকাটা। ছোট-বড় বহু খাল শিরার মতো বয়ে গেছে গ্রামটির ভেতর দিয়ে। ফলে সরু মাটির রাস্তা খণ্ড খণ্ড। ছোট-বড় অর্ধশত সেতু দিয়ে সড়ক সচল রাখা হয়েছে এখানে। গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমেই এগুলো নির্মাণ করছেন। জীবিকার তাগিদে সড়ক যোগাযোগ সচল রেখেছেন ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের চালকরা। দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটার কাঁচা সড়কে নিজেদের খরচে ও শ্রমে ২১টি কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন তারা। ফলে এই অঞ্চলের চাষীরা অল্প সময়ে বৈঠাকাটার ভাসমান সবজি চারার হাটে পৌঁছতে পারছে। এছাড়া মিয়ারহাট থেকে বৈঠাকাটা এক বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কে মোটরসাইকেল চালানোর উপযোগী ছিল না। ওই সময় সড়কের ৯ কিলোমিটারই কাঁচা ছিল। সরকারী উদ্যোগে বানানো ১০টি সেতু ছিল। তবে সাত কিলোমিটার দূরত্বে চল্লিশটির মতো বাঁশের সাঁকো ছিল। ছোট ছোট খাল শিরার মতো বয়ে গেছে আরেক গ্রাম বলদিয়ার ভেতর দিয়ে। এগুলো বেলুয়া নদীতে গিয়ে পড়েছে। খালগুলো কৃষির উপকারে লাগলেও সড়ক যোগাযোগে প্রতিবন্ধক। এ সব কাজ হয়েছে নিজেদের চেষ্টায়। যা এই অঞ্চলে দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত।

সময়ের প্রয়োজনে গ্রামীণ জীবনেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে অনেক আগেই। গ্রামবাংলার মেঠোপথের চিত্র ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। উন্নয়ন ঘটছে রাস্তাঘাটের। যেসব স্থানে রাস্তা ছিল না সেখানে রাস্তা হচ্ছে। কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ হচ্ছে, প্রশস্তও হচ্ছে। এক লেন থেকে ফোর লেন পর্যন্ত রাস্তা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই অগ্রযাত্রায় গ্রামীণ মানুষের তৈরি বা উৎপাদিত জিনিস বা দ্রব্যাদি সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এমনকি বিদেশেও পাড়ি দিচ্ছে ওইসব জিনিস বা উৎপাদিত পণ্য। গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নের ফলে এলাকার বেকার যুবক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। শুধু যুবকরাই নয়, এ কাজের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে ওইসব অঞ্চলের দুস্থ ও অতিদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের। সব মিলিয়ে বলা যায়, কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য আসার মূল শর্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে এত উন্নয়ন সম্ভাবনার পরও প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের গ্রামগুলোর মতো দেশের বেশ কিছু গ্রামে এখনও সরকারী সহায়তা বা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তাই এসব অঞ্চলে নিজ উদ্যোগেই এমন মহতী কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে।

উল্লিখিত গ্রামের মানুষের এই কঠিন চেষ্টায় ‘দশে মিলে করি কাজ’- এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ পাওয়া গেল। এ প্রবাদটি সত্য প্রমাণিত হলো। জনকল্যাণে এই ধরনের মহতী কাজের দৃষ্টান্ত আরও আছে। দশের কাজ দশে মিলে করতে হবে। বৈঠাকাটা ও বলদিয়াবাসীর এই প্রচেষ্টা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।