১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গৌরনদী মুক্ত হয় ২২ ডিসেম্বর


গৌরনদীর পাক হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করিয়েছিলাম ২১ ডিসেম্বর ১৯৭১। আমরা কয়েক মুক্তিযোদ্ধা গোপালপুর ভূরঘাটা বাজারে বসে সকাল নয়টার দিকে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশাবলী রেডিওতে শুনছিলাম।

অন্যদিকে আমরা ছিলাম উদ্বিগ্ন ও সজাগ, কারণ গৌরনদী কলেজে অবস্থান নেয়া হানাদার পাক বাহিনী তখনও আত্মসমর্পণ করেনি। এমন সময় হঠাৎ আমাদের সম্মুখে প্রথমে আর আর সংযুক্ত ভারতীয় সামরিক বাহিনীর একটি খোলা জীপ ও তার পিছনে দুই ট্রাক ভর্তি সৈনিক বাজারের বিশাল বট গাছের নিচে এলো। জীপ থেকে ভারতীয় একজন কর্নেল শিখ অফিসার নামলেন, তার নাম মনে নেই। শুধুমাত্র সিং নামটি মনে পড়ে। সঙ্গে খাকি পোশাক পরিহিত হানাদার পাক বাহিনীর ফুল কর্নেল, নাম ছিল বুকে লেখা মনসুর। ভারতীয় কর্নেল সিংয়ের সঙ্গে ঐ পাকি কর্নেলকে দেখতে পেয়ে আমরা একটু অপ্রস্তুত ও সকলের মধ্যে একটু ক্রোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আমাদের সঙ্গে অস্ত্র থাকায় কর্নেল সিং ভেবে নিয়েছেন যে সকলেই মুক্তিযোদ্ধা। কর্নেল সিং দূর থেকে আমাদের দেখে একটু মুচকি হেসে কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা নিশ্চয়ই এখানকার স্থানীয় মুক্তি বাহিনীর সদস্য। নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, আমি ভারতীয় নবম পদাতিক ডিভিশনের পরিচালনায় যশোর সেক্টরের অধীনস্থ ফরিদপুর মুক্ত করার দায়িত্বে চতুর্থ মাউন্টেন ডিভিশনের একজন অফিসার। আমার সঙ্গে এসেছে পাকি কর্নেল মনসুর তার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, কর্নেল মনসুর, যশোর ক্যান্টনমেন্টের দায়িত্বে পাকিস্তানী নবম ডিভিশনের একজন আত্মসমর্পণকারী অফিসার। আমি বললাম, গৌরনদী কলেজে অবস্থানরত পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সদস্যরা এখনও আত্মসমর্পণ করেনি। আমাদের কাছে কোন যোগাযোগের মাধ্যম না থাকায় আমরা জানি না ওখানকার অবস্থা। উত্তরে কর্নেল সিং জানালেন, আমি এসেছি গৌরনদী কলেজের পাক বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করাতে। আমি ও কর্নেল মনসুর সৈনিকসহ প্রস্তুত হয়ে এসেছি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তোমরা কি নিশ্চিত গৌরনদীর বাহিনীতে কতজন পাকিস্তানী সৈন্য রয়েছে। তাদের কাছে কি ধরনের অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ রয়েছে। তারা আত্মসমর্পণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে কিনা ইত্যাদি। কর্নেল বললেন, আমরা খুশি হব যদি তোমরা আমাদের সঙ্গী হয়ে গৌরনদী কলেজ ক্যাম্পের পাক বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করার কাজে অংশগ্রহণ কর। আমরা সকলেই গৌরনদী যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করলাম অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে। কথার মাঝে পাকি কর্নেলের দিকে তাকিয়ে দেখলাম একটু নিরাপদ দূরত্বে ভারতীয় সৈনিকদের মাঝখানে একটি চেয়ারে বসে পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করে অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত, চিন্তিত মনে ধোঁয়া ছাড়ছে। ওর মুখটি ছিল বসন্তের গোটার দাগে পরিপূর্ণ, চেহারার মধ্যে পরিস্ফুটিত হচ্ছে যেন এক ভয়ঙ্কর দক্ষ ঘাতক, বর্বর প্রকৃতির। মুখে হাসির কোন চিহ্ন নেই।

কর্নেল সিংয়ের গৌরনদী যাওয়ার আহ্বানে সাড়া দেয়ার অন্তর্নিহিত কারণ ও অব্যক্ত ইচ্ছাটি যে কারণে ছিল তা হলো ভুরঘাটা ক্যাম্পের ঘাতক পাকিস্তানী খুনী কমান্ডার ফতেহ আলী খান ও ফজল খানকে ধরে এনে জনতার কাছে হস্তান্তর করব ওদের অন্যায় অত্যাচার ও পাপাচারের প্রাপ্য উপযুক্ত দ- শাস্তি প্রদান করতে। ভুরঘাটা বাজার হতে গৌরনদী কলেজ পর্যন্ত আমাদের যেতে হবে পদব্রজে ও মাঝে মাঝে রিক্সায়। মাঝপথে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ব্রিজ ও কালভার্টও ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল যেন অবরুদ্ধ গৌরনদীর ঘাতক বাহিনী কোনভাবেই পলায়ন করতে না পারে।

আমি ও অগ্রজ মুক্তিযোদ্ধা কাজী সবুর (ফরহাদ)সহ গোপালপুর গ্রামের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা, ভারতীয় কর্নেল সিং, একজন রাজপুত ক্যাপ্টেন দু’জন লেফটেন্যান্ট ও দুই প্লাটুনের মতো ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সৈনিক হেঁটে গন্তব্যস্থল গৌরনদীর কলেজের দিকে যাত্রা শুরু করলাম। প্রায় ১০/১২ মাইল রাস্তা হবে। গৌরনদী কলেজের পূর্বপাশে মহাসড়কে ভারতীয় বাহিনীর কর্নেল, অন্যান্য অফিসার ও সৈনিকসহ আমরা রাস্তার পাশে অবস্থান গ্রহণ করলাম।

পূর্ব সিদ্ধান্ত ও পারিকল্পনা মোতাবেক কর্নেল সিং পাকি কর্নেল মনসুরকে একটি সাদা পতাকা হাতে দিয়ে কলেজের অভ্যন্তরে ঘাতক বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে আত্মসমর্পণের জন্য প্রেরণ করা হলো। সাদা পতাকা হাতে কলেজের দিকে অগ্রসরমান কর্নেল মনসুর, ভারতীয় একজন জুনিয়র অফিসার ও ৪/৫ জন ভারতীয় সৈনিকের অগ্রসরগামী দলটির ওপর নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে হঠাৎ বিকট শব্দে কলেজের অভ্যন্তরে বাংকার হাতে অবরুদ্ধ পাক বাহিনীর সদস্যরা গুলিবর্ষণ শুরু করল। পাল্টা জবাব হিসেবে রাস্তার পূর্ব পাশে অবস্থানকারী আমরা ও ভারতীয় বাহিনী জবাব প্রদান করলাম। কিছুক্ষণ পর গোলাগুলি থামলে পাকি কর্নেল মনসুর হ্যান্ডমাইকযোগে কলেজের অভ্যন্তরে অবরুদ্ধ বাহিনীকে উর্দুতে যা বলল তা ছিলÑ আমি পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর একজন ফুল কর্নেল। পাকিস্তান তো জীবিত নেই। আমাদের ৯৩ হাজার সৈনিক অফিসার ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় আত্মসমর্পণ করেছে এবং পাকিস্তানের জানাযা ও দাফন কাফন শেষ হয়েছে। তোমরা তোমাদের অস্ত্র সমর্পণ করে আত্মসমর্পণ করার জন্য কলেজের অভ্যন্তর থেকে বাইরে চলে আস। আর যদি হাতিয়ার গোলাবারুদসহ আত্মসর্পণ না কর তাহলে তোমাদের সকলকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। কর্নেল মনসুরের নির্দেশে ও আহ্বানে সাড়া দিয়ে কলেজের অভ্যন্তর থেকে ঘাতক পাক বাহিনী কর্নেল মনসুরকে জানাল যে, আমরা জান কোরবান দিতে রাজি আছি কিন্তু আত্মসমর্পণ করব না। কর্নেল মনসুর আবারও উচ্চৈঃস্বরে বলল, তোমরা কার জন্য জান কোরবান করবে? যাদের জন্য কোরবানি হতে চাও ঐ সকল ঢাকার কমান্ডারগণ ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে তাদের সর্বস্ব হাতিয়ার, তখমা ও পাকিস্তানের ইজ্জতকে চূড়ান্তভাবে দাফন করেছে, আমিও তাদের একজন। অতএব যদি বাঁচতে চাও তবে তোমাদের হাতিয়ার গোলাবারুদসহ ভারতীয় ও মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসর্পণ কর। কর্নেল মনসুরের কাছে এই কথা শুনে গৌরনদীর পাক বাহিনী বেশ ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। এবার ভারতীয় বাহিনীসহ আমরা সকলেই কলেজের মাঠের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলাম। কর্নেল মনসুর এবার হ্যান্ড মাইক রেখে ভারতীয় বাহিনীর জুনিয়র অফিসার ও সৈনিকরা অবরুদ্ধ পাক বাহিনীকে কাছে গিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করল যে, তামাম দুনিয়া বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছে ও তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন দিয়েছে। তোমরা এখানে চারদিক থেকে মুক্তি ফৌজ দ্বারা ঘেরাও হয়ে আছ। আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এবার হয় আত্মসমর্পণ কর নয়তবা প্রাণ দিতে হবে তোমাদের সবাইকে। অনেক উত্তপ্ত বাক্য ও তর্কবিতর্কের পর অবশেষে গৌরনদীর হানাদার বাহিনী রাজি হলো আত্মসমর্পণ করতে। তবে পাকি কর্নেল মনসুরের কথামতো ভারতীয় ও মুক্তি বাহিনীর কাছে নয়। একমাত্র মাদারীপুরে ১০ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণকারী পাক বাহিনীর মেজর ঘটক যদি এখানে আসে তাহলে তার নির্দেশমতো আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত রয়েছে। অবশেষে ভারতীয় কর্নেল সিং ও পাকি কর্নেল মনসুর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই মর্মে সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, পরের দিন অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বর সকালে মাদারীপুর থেকে পাকি মেজর ঘটক, কর্নেল মনসুর ও ভারতীয় কর্নেল সিংসহ ভারতীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে, ভারতীয় বাহিনী ও স্থানীয় মুক্তিবাহিনীর কাছে যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করে চূড়ান্তভাবে আত্মসমর্পণ করবে কোন প্রকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ব্যতীত। মাদারীপুরের পাক বাহিনী ১০ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করার পর পিডিপির নেতা ও পাকিস্তানী দালাল হামিদ খন্দকারের বাড়িতে মেজর ঘটককে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জামাই আদর করে নামে মাত্র আটক করে রেখেছিল। তাদের নিয়ে মাদারীপুরের প্রধান সড়কে বিজয় মিছিল করেছিলেন বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধা ও মাদারীপুরের জনগণ। কারণ এই বেলুচ মেজর ঘটক মাদারীপুরে মোতায়েন করার পর যুদ্ধের বাস্তবতা উপলব্ধি করে হত্যা, নৃশংসতা ও ধ্বংসের কাজে পাক বাহিনীকে নিবৃত করেছিল। এমনকি যেদিন পাক বাহিনীর হাতে সমাদ্দার ব্রিজের রাস্তার ওপর দিয়ে নড়িয়া পালং যাওয়ার পথে ফরিদপুর থেকে আগত পাক বাহিনীর গাড়ির বহর থেকে গোলাগুলি করার সময় দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের তিন সহমুক্তিযোদ্ধাকে পাক বাহিনী ধরে নিয়ে মাদারীপুর হাওলাদার জুট মিলসের ক্যাম্পে কোন প্রকার অত্যাচার নির্যাতন না করে যথাযথ খাওয়া-দাওয়া, চিকিৎসা ও আরাম আয়েশের মধ্যেই রেখেছিল। মেজর ঘটকের এই উদারতার জন্য তাকে যথাযথ সম্মান প্রদান করেছিল মুক্তিযোদ্ধা ও জনগণ, গলায় ফুলের মালা পরিয়ে তাকে নিয়ে মাদারীপুরে বিজয় মিছিল করেছিল তারা।

গৌরনদী কলেজ ময়দানে দাঁড়িয়ে কর্নেল সিং বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে আমাদের অনুরোধ করলেন পরদিন ২২ ডিসেম্বর পদব্রজে পুনরায় ভুরঘাটা হতে তার সফরসঙ্গী হয়ে গৌরনদী কলেজ মাঠে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে কর্নেল সিংয়ের অনুরোধ কবুল করলাম। কারণটি ছিল ভুরঘাটা ক্যাম্পের ঘাতক কমান্ডার ফতেহ্্ আলী খান ও তার সহযোগী ফজল খানকে গৌরনদী হয়ে ভুরঘাটা গোপালপুর অতিক্রম করে মাদারীপুর যেতে দেয়া হবে না। এটাই ছিল আমাদের গোপালপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিজ্ঞা ও চূড়ান্ত লক্ষ্য। ঢাকায় ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে তিরানব্বই হাজার সৈন্যের আত্মসমর্পণের পর গোটা বাংলাদেশের বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সম্মিলিত সামনাসামনি যুদ্ধ ও অবরোধ প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। যতটুকু মনে পড়ে একমাত্র গৌরনদী কলেজের অবস্থান নেয়া ঘাতক পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণই অবশিষ্ট ছিল। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত যশোর এবং তার অধীনস্থ গোটা দক্ষিণবঙ্গ হানাদারমুক্ত করার দায়িত্ব অর্পিত ছিল ভারতীয় নবম ডিভিশনের ওপর। ভারতীয় এই নবম ডিভিশনের নির্দেশ মোতাবেক ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, আমাদের মাদারীপুরসহ ভারতীয় বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে গোটা দক্ষিণ অঞ্চলকে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করার। ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর দক্ষ ও সুদূরপ্রসারী যুদ্ধ পরিকল্পনা ও রণনীতি গোটা দক্ষিণ অঞ্চলের হানাদার পাক বাহিনীর সকল প্রতিরোধকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দক্ষিণ অঞ্চলকে মুক্ত করে দিল। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে নবেম্বরের শেষের দিকে যশোরের চৌগাছায় পাক-বাহিনী তাদের বীরত্ব প্রদর্শনের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এই যুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ ও ব্যাপক সংঘর্ষে দিশেহারা পর্যুদস্ত পাক বাহিনী চরম মাসুল প্রদান করে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে চৌগাছায় পাক বাহিনীর এই চরম পরাজয় ও প্রাণহানির সংবাদ বেশ ভালভাবে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছিল। পাঞ্জাবী ঘাতক সেনা কমান্ডারদের কোন পরিকল্পনাকেই ব্যবহার করতে পারেনি ভারতীয় বাহিনীর নিপুণ রণকৌশলের বিরুদ্ধে।

আগের দিন ২১ ডিসেম্বরের বিদায়ী সূর্য আমাদের গোপালপুর, ভুরঘাটা ও গৌরনদীর পেছনে দূরের গ্রামগুলোর ওপর দিয়ে গৌরবোজ্জ্বল এক ভাসমান দিগন্তে আবার উদিত হলো। স্মরণ করে দিল গৌরনদীর হানাদার পাক বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করাতে গৌরনদীর দিকে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সঙ্গে পদব্রজে অগ্রযাত্রার কথা, হৃদয়ের অভ্যন্তরে প্রতিশোধ ও বিজয়ের এক উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে রাত শেষ হতে থাকল চোখে ঘুম নেই কতক্ষণে সকাল হবে সেই প্রতীক্ষায় খুব ভোরে উঠে তাই বাড়িতে দীর্ঘদিন পরে শীতে পিঠা ও খেজুরের পাটালি গুড় মুড়ি দিয়ে মজা করে চা নাস্তা শেষ করে অস্ত্র গোলাবারুদসহ অগ্রজ কাজী সবুর (ফরহাদ) মুক্তিযোদ্ধা ভাতিজা কাজী সাইদুর রহমান (শহীদ)সহ গোপালপুর গ্রামের আরও কতিপয় মুক্তিযোদ্ধা আমরা ভুরঘাটা বাজারের উপকণ্ঠে বটগাছের নিচে ভারতীয় বাহিনীর জন্য অপেক্ষা করি। কর্নেল সিং ও পাক বাহিনীর কর্নেল মনসুরসহ ভারতীয় চারজন অফিসার, একজন রাজপুত ক্যাপ্টেন ও প্রায় দুই প্লাটুন ভারতীয় সৈনিক সকাল নয়টার মধ্যেই ভুরঘাটা বাজারে উপস্থিত হলেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, মেজর ঘটক ছোটখাটো বেটে একজন বেলুচ অফিসার পরিধানে কোন পাদ্রি সামরিক পোশাক নয়, বেলুচি কাবুলি পোশাক পরিধেয় ছিল।

চলবে...

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক ও লেখক