১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

আওয়ামী লীগের বৈঠক প্রচার ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিষ্ক্রিয় করতে সাত কেন্দ্রীয় টিম গঠন


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দলীয় মেয়র প্রার্থীর বিজয় এবং বিদ্রোহী প্রার্থী দমনে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে শাসক দল আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে সারাদেশের পৌর এলাকায় দলীয় প্রার্থীর সর্বশেষ অবস্থান উল্লেখ করে দলটির কেন্দ্রীয় সাত বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পৃথক পৃথক রিপোর্ট জমা দিয়েছেন নির্বাচনে কাজে গঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাচনী মনিটরিং টিমের কাছে। এসব রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় দুইশ’ পৌরসভাতে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীরাই। মাত্র ৪/৫টি পৌরসভা ছাড়া বাকি কোন পৌরসভাতেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারবে না।

রবিবার রাতে ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌর নির্বাচনে কেন্দ্রীয় মনিটরিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতিম-লীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠকে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচার ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয় করতে সাত বিভাগের জন্য সাতটি পৃথক কেন্দ্রীয় টিম গঠন করা হয়েছে। রবিবার থেকেই গঠিত টিমগুলো স্ব স্ব বিভাগে গিয়ে প্রতিটি পৌরসভাতে দল মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিষ্ক্রিয় করা না গেলে তাঁর পক্ষে কোন পর্যায়ের নেতা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে না পারেন সেই চেষ্টা করবেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ জনকণ্ঠকে জানান, নির্বাচনী প্রচারের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে সাত বিভাগের জন্য সাতটি পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে। দলীয় এমপি বা মন্ত্রী নন, এমন জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এসব টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইবেন, নির্বাচনী প্রচার চালাবেন।

বৈঠকে উপস্থিত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী জনকণ্ঠকে জানান, সারাদেশের পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রায় দুইশ’ পৌরসভাতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এই জনপ্রিয়তা ধরে রেখে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কেন্দ্রীয় নেতারা সাতটি টিমে বিভক্ত হয়ে আজ থেকেই সারাদেশে নির্বাচনী প্রচার চালাবেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচার কৌশল সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৈঠকে বলেন, দলীয় নির্বাচন বলেই দলের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচার চালাবেন। মন্ত্রী-এমপি নন এমন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দলের সকল সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারাও সাতটি টিমে অন্তর্ভুক্ত হয়ে সারাদেশে নির্বাচনী প্রচার চালাবেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় দলের স্থানীয় পর্যায়ের কোন নেতাই যেন বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে না থাকেন সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্র জানায়, গঠিত সাতটি প্রচার টিমে দলের বেশ ক’জন সিনিয়র নেতা নেতৃত্ব দেবেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে নেতৃত্ব দিয়ে টিম গঠন করা হয়নি। সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা এবং সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা স্ব স্ব এলাকার জন্য গঠিত টিমে যুক্ত হয়ে পৌরসভাগুলোতে গিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাবেন। আর এ প্রচারে প্রধান যে কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- গত সাত বছরের সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন-সাফল্যে এবং এ সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের নারকীয় সন্ত্রাস, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা আর নাশকতার চিত্র।

শুধু নির্বাচনী প্রচারই নয়, বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে এখনও হাল ছাড়েননি দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা। রবিবারের বৈঠক থেকেও কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। গত শনিবারের বৈঠকে শরীয়তপুরের দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীকে ঢাকায় তলব করে মীমাংসা বৈঠকের মাধ্যমে ওই পৌরসভার বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক তালুকদারকে বসিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এছাড়া চট্টগ্রামের রাউজনসহ আরও কয়েকটি পৌরসভা থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রত্যাহার করতে পারেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বৈঠকে থাকা নেতারা।

কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোও পৃথক পৃথক টিম করে পৌর নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালাতে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। পৌর নির্বাচনের জন্য যুবলীগ ৩১টি টিম গঠন করে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদও পৃথক পৃথক টিম গঠন করে নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নেমেছে। সব সংগঠনকেই কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, পৌর এলাকাতে গিয়ে জনগণের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কোন নেতা যাতে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে থাকতে না পারে তা নিশ্চিত করতে। সে লক্ষ্য নিয়েই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো আজ থেকে জোরালোভাবে নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামছেন বলে জানা গেছে।

ধানম-ির কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে শনিবারের বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: